অনুমতি ছাড়াই অবস্থান-বিক্ষোভ

সুপ্রিম কোর্টের সামনে পুলিশের সঙ্গে বিএনপির সংঘর্ষ

আপডেট : ২৭ নভেম্বর ২০১৯, ০৩:২০ এএম

কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে সুপ্রিম কোর্টের সামনে অবস্থান ও বিক্ষোভ সমাবেশ করতে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে দলটির নেতাকর্মীদের। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে দলটির নেতাকর্মী ও পুলিশের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। বিক্ষোভকারীরা কয়েকটি যানবাহনও ভাঙচুর করে। পরে টিয়ার শেল ছুড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ। এ ঘটনায় ওই এলাকায় বেশকিছু সময় যান চলাচল বন্ধ ছিল। ‘অনুমতি না নিয়ে সভা-সমাবেশ করার সাহস, শক্তি বা সক্ষমতা নেই বিএনপির’– আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যের পরদিনই অনুমতি ছাড়াই অবস্থান ও বিক্ষোভ করতে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন দলটির নেতাকর্মীরা।

এদিকে সংঘর্ষ ও গাড়ি ভাংচুরের ঘটনায় ৫০০ জনের বিরুদ্ধে গতকাল রাত সাড়ে ১০টায় শাহবাগ থানায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা করেছে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম দলের উদ্যোগে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে সভা ছিল। তাতে প্রধান অতিথি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ না এলে সভা সংক্ষিপ্ত করা হয়। পরে দলটির নেতাকর্মীরা প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে মিছিল নিয়ে হাইকোর্টের প্রধান ফটকের সামনে বসে পড়েন। সেখানে তারা খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে সেস্নাগানও দেন। এতে মৎস্য ভবন থেকে প্রেস ক্লাব পর্যন্ত সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পুলিশ সড়ক ছেড়ে দিতে বললে তারা উল্টো ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। পরে পুলিশ লাঠিচার্জ করলে সংঘর্ষ শুরু হয়। বিক্ষোভকারীরা এ সময় বেশকিছু যানবাহনও ভাঙচুর করেন। পরে পুলিশ টিয়ার শেল ছুড়লে ছত্রভঙ্গ হয়ে বিক্ষোভকারীরা পল্টনের দিকে চলে যান।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের উপকমিশনার সাজ্জাদুর রহমান বলেন, ‘পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি ছাড়াই হঠাৎ করে সুপ্রিম কোর্টের গেটের সামনে বসে পড়েন বিএনপির নেতাকর্মীরা। এতে মৎস্য ভবন থেকে প্রেস ক্লাব পর্যন্ত সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। তাদের সরে যেতে বললে আমাদের উদ্দেশে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। পরে টিয়ার শেল ছুড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হয়। দুপুর ২টার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।’

এর আগে অবস্থান নিয়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, ‘আমরা কোনো অসাংবিধানিক কাজ করছি না। দেশনেত্রীর মুক্তির দাবিতে হাজার হাজার নেতাকর্মী ঘর ছেড়ে আজ রাজপথে নেমেছে। রাজপথই আমাদের ঠিকানা। যতক্ষণ পারি ততক্ষণ অবস্থান করব। পুলিশ যেন আমাদের উসকানি না দেয়।’ তিনি বলেন, ‘আজকে রাস্তায় নামাটা অসাংবিধানিক নয় এবং আইনবিরোধীও নয়। জনগণ রাষ্ট্রক্ষমতার মালিক হওয়া সত্ত্বেও সবকিছু থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। পেঁয়াজ, চাল, তেল জনগণের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে। এসব বিষয় নিয়ে আমাদের বিরোধী দলের আন্দোলন করার অধিকার আছে।’

তিনি সে সময় অবিলম্বে দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। পাশাপাশি পদত্যাগ করে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে পুনর্নির্বাচন দেওয়ার দাবি জানান।

সুপ্রিম কোর্টের সামনে ওই অবস্থান কর্মসূচিতে দলটির শতাধিক নেতাকর্মীর মধ্যে মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহমেদ, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীও উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত মুক্তিযোদ্ধা ও জনতা সংহতি সভায় ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী দলের নেতাকর্মীদের খালেদা জিয়ার মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে হাজির হয়ে আন্দোলন করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আজ দেশের যে অবস্থা তাতে মুক্তিযুদ্ধের গৌরব ভূলুণ্ঠিত হয়ে গেছে। মুক্তিযুদ্ধের সেই গৌরব ফিরিয়ে আনতে এবং খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে চাইলে রাজপথে নামতে হবে।’

প্রেস ক্লাবের সামনে ওই সভায় সভাপতিত্ব করে মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত। বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, বিএনপির স্বনির্ভরবিষয়ক সম্পাদক শিরিন সুলতানা, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (একাংশের) সভাপতি রুহুল আমিন গাজী, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (একাংশের) সভাপতি কাদের গণি চৌধুরী প্রমুখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত