পটিয়ার চার গ্রামে সুপেয় পানি সরবরাহের নির্দেশ

আপডেট : ২৭ নভেম্বর ২০১৯, ০৩:৪৩ এএম

চট্টগ্রামের পটিয়ার চারটি গ্রামে অব্যাহতভাবে সুপেয় পানি সরবরাহ নিশ্চিতের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। পাশাপাশি চারটি গ্রামকে পানি সংকটপূর্ণ এলাকা হিসেবে ঘোষণার বিষয়ে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়কে তিন মাসের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে বলেছে আদালত। পটিয়ার গ্রাম চারটি হলো– চরকানাই, হুলাইন, পাচুরিয়া ও হাবিলাসদ্বীপ। আদালত রায়ে বলেছে ভবিষ্যতে এই চার গ্রামে পানির বিকল্প ব্যবস্থা না রেখে ভূ-গর্ভস্থ পানির  ওপর নির্ভর করে লাল বা কমলা শ্রেণির শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপন করা যাবে না।

পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও পটিয়া উপজেলা চেয়ারম্যানকে হাইকোর্টের এ নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে। 

এ সংক্রান্ত ২০১৫ সালে করা একটি রিট আবেদনের পরিপ্রেড়্গিতে জারি করা রুলের চ‚ড়ান্ত শুনানি শেষে গতকাল মঙ্গলবার এক রায়ে এসব নির্দেশনা দেয় বিচারপতি তারিক উল হাকিম ও বিচারপতি মো. সোহরাওয়ারদীর হাইকোর্ট বেঞ্চ। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী ফিদা এম কামাল, সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ও মিনহাজুল হক চৌধুরী।

রায়ে আটটি শিল্প প্রতিষ্ঠানকে এ চার গ্রাম থেকে পানি উত্তোলন বন্ধ রাখার পাশাপাশি দূষণের মাত্রা যাচাই করে শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের কথা বলা হয়েছে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু বিষয়ক মন্ত্রণালয়, পরিবেশ অধিদপ্তর এবং চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসককে দূষণের মাত্রা ও ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করতে বলা হয়েছে। আট শিল্প প্রতিষ্ঠান হলো- বনফুল অ্যান্ড কোম্পানি এবং বনফুল মিনারেল ওয়াটার কোম্পানি, আম্বিয়া নিটিং ডাইং লিমিটেড এবং আম্বিয়া পাল্প অ্যান্ড পেপার মিলস লিমিটেড, মোস্তফা পেপার কমপ্লেক্স লিমিটেড, হাক্কানী পাল্প অ্যান্ড পেপার মিলস লিমিটেড, আনোয়ারা পেপার মিলস লিমিটেড এবং শাহ আমানত নিটিং অ্যান্ড ডাইং লিমিটেড।

আইনজীবী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান গণমাধ্যমকে জানান, আটটি শিল্প প্রতিষ্ঠানের অপরিকল্পিত গভীর নলকূপ দিয়ে ভূ-গর্ভস্থ পানি উত্তোলনের কারণে ওই চার গ্রামের পানির স্তর নিচে নেমে যায়। এতে গ্রামের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ সুপেয় পানির সংকটে পড়েন। এরপর প্রতিকার পেতে ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) পক্ষে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়। ২৯ জানুয়ারি রুল জারি করে হাইকোর্ট। ওই রুলের শুনানি শেষে গতকাল এ রায় হলো। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত