রাজধানী ঢাকার গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে ভয়াবহ হামলা ও হত্যা মামলার রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। খালাসপ্রাপ্ত এক আসামির বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ রায় দেখে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও জানান তারা।
বুধবার দুপুরে রায় ঘোষণার পর মহানগর দায়রা আদালতের প্রধান কৌঁসুলি আবদুল্লাহ আবু একথা জানান।
তিনি বলেন, ‘আমরা এ রায়ে সন্তুষ্ট। তবে একজন আসামি কেন খালাস পেলেন, পূর্ণাঙ্গ রায় দেখে সে বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
এর আগে ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মজিবুর রহমান এ মামলায় সাত জঙ্গিকে মৃত্যুদণ্ড এবং একজনকে খালাস দেন।
রায় ঘোষণার সময় বিচারক বলেন, ‘ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়েছে।’
গত ২০১৬ সালের ১ জুলাই রাতে গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারি রেস্তোরাঁয় ভয়াবহ ও নৃশংস জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দেশি-বিদেশি ২০ জন নাগরিককে নির্মমভাবে হত্যা করে সশস্ত্র জঙ্গিরা। জঙ্গিদের ছোড়া গ্রেনেডে দুই ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা মারা যান। একপর্যায়ে যৌথ বাহিনীর কমান্ডো অভিযানে পাঁচ জঙ্গি নিহত হয়। এ ছাড়া ওই ঘটনার সময় রেস্তোরাঁর একজন শেফ মারা যান।
এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পর তদন্ত শেষে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট গত বছরের ২৩ জুলাই হামলায় জড়িত ২১ জনের নাম উল্লেখ করে আদালতে অভিযোগপত্র দেয়।
আলোচিত এই মামলায় ২০১৮ সালের ২৬ নভেম্বর আট আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। এরপর ওই বছরের ৩ ডিসেম্বর মামলার বাদী এসআই (উপপরিদর্শক) রিপন কুমার দাসের জবানবন্দির মধ্য দিয়ে মামলার বিচার শুরু হয়। মামলায় ২১১ সাক্ষীর মধ্যে ১১৩ জন সাক্ষ্য দেন।
এর মধ্যে ১৩ জঙ্গি বিভিন্ন সময়ে অভিযানে নিহত হওয়ায় মামলার বিচার থেকে তাদের নাম বাদ দেওয়া হয়। বাকি আটজনের বিরুদ্ধে বিচারকাজ শুরু হয়।
গত ১৭ নভেম্বর রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের যুক্তিতর্কের শুনানি শেষে ২৭ নভেম্বর (আজ) রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন বিচারক।
