শস্যদানার ঘোষণা দিয়ে আনা হলো পানীয় ও চকলেট

আপডেট : ২৭ নভেম্বর ২০১৯, ০৮:৪৩ পিএম

চট্টগ্রাম বন্দরে দীর্ঘ দশ মাস ধরে পড়ে থাকা একটি আমদানি পণ্যবাহী কন্টেইনারে শস্যদানার পরিবর্তে মিলেছে পানীয় ও চকলেট। মিথ্যা ঘোষণার মাধ্যমে এসব পণ্য এনে আমদানিকারক প্রায় ৮০ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছে বলে জানিয়েছেন কাস্টমস কর্মকর্তারা।

বুধবার কাস্টমসের কায়িক পরীক্ষায় মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য আমদানির বিষয়টি ধরা পড়ে।

কাস্টমস সূত্র জানায়, ঢাকার গুলশানের উত্তর বাড্ডা এলাকার স্টার অ্যালায়েন্স নামে একটি প্রতিষ্ঠান ১৩ মেট্রিকটন ‘সুইট কর্ণ’এবং ৩ মেট্রিক টন ‘কিডনি বিন’ ঘোষণা দিয়ে চীন থেকে এক কন্টেইনার পণ্য আমদানি করে। সিঙ্গাপুর থেকে আসা এমভি নাভা শিবা নামে একটি জাহাজে গত বছর ২৩ ডিসেম্বর কন্টেইনারটি চট্টগ্রাম বন্দরে আসে। গত ১৭ জানুয়ারি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠান এলিট এন্টারপ্রাইজ পণ্য খালাসের জন্য কাগজপত্র দাখিল করে। কিন্তু দীর্ঘ দশ মাসেও কন্টেইনারটি বন্দর থেকে খালাস করেনি তারা।

চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের উপ-কমিশনার নুর উদ্দিন মিলন দেশ রূপান্তরকে জানান, দীর্ঘদিন ধরে বন্দর থেকে খালাস না হওয়ায় কাস্টমসের অডিট ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড রিসার্চ (এআইআর) শাখা নিজস্ব ব্যবস্থায় কন্টেইনারটির পণ্যের কায়িক পরীক্ষা করে। এতে দেখা যায়, আমদানিকারকের ঘোষণা অনুযায়ী তাতে ‘সুইট কর্ণ’ ও ‘কিডনি বিন’ মিলে মোট ১৬ মেট্রিক টন পণ্য থাকার কথা থাকলেও তাতে মাত্র ৫ কেজি ‘সুইট কর্ণ’ পাওয়া যায়। এ ছাড়া, ঘোষিত পণ্যের পরিবর্তে কন্টেইনারটিতে পাওয়া যায়, বিভিন্ন ধরনের সফট ও হার্ড ড্রিংকস, এনার্জি ড্রিংকস, চকলেট ও ওয়েফার মিলিয়ে মোট ২২ মেট্রিক টন পণ্য পাওয়া গেছে।

তিনি বলেন, আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের ঘোষণা অনুযায়ী আমদানি পণ্যের মূল্য ৭লাখ টাকা। কিন্তু কায়িক পরীক্ষায় পাওয়া পণ্যের মূল্য প্রায় এক কোটি টাকা। এ মিথ্যা ঘোষণার মাধ্যমে আমদানিকারক ৮০ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমদানিকারকের বিরুদ্ধে কাস্টমস আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত