হলি আর্টিজান মামলা: যা বলা হলো রায়ের পর্যবেক্ষণে

আপডেট : ২৭ নভেম্বর ২০১৯, ০৯:২৫ পিএম

২০১৬ সালে রাজধানীর গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে নারকীয় জঙ্গি হামলার মামলার রায়ে সাত জঙ্গিকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের রায় দিয়েছে আদালত।

একই সঙ্গে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় এক আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মজিবুর রহমান (জেলা ও দায়রা জজ) বুধবার আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।

নৃশংস ও বর্বর ওই ঘটনার তিন বছর চার মাস পর এবং অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার শুরুর ঠিক এক বছর পর এ মামলার রায় ঘোষণা করা হলো।

রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলে, তথাকথিত জিহাদ কায়েমের উদ্দেশ্যে এবং আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটের (আইএস) দৃষ্টি আকর্ষণ করতে এই নৃশংস হামলা ও বীভৎস হত্যাকাণ্ড ঘটায় সন্ত্রাসীরা।

একই সঙ্গে আদালত বলেছে, কলঙ্কজনক এ হত্যার মাধ্যমে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের চরিত্র হননের চেষ্টা করা হয়েছে।

রায়ে বলা হয়েছে, ‘হলি আর্টিজান হামলার মূল পরিকল্পনাকারী ও সমন্বয়কারী তামিম চৌধুরী (জঙ্গি বিরোধী অভিযানে নিহত)।’

তামিম চৌধুরীকে নিয়ে আসামি আসলাম হোসেন র‌্যাশ’র স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি উল্লেখ করে আদালত বলে, ‘এটি প্রতিষ্ঠিত যে তামিম চৌধুরীর নেতৃত্বে হলি আর্টিজান হামলা সংঘটিত হয়। বাংলাদেশে তথাকথিত জিহাদ কায়েমের লক্ষ্যে জননিরাপত্তা বিপন্ন করে জনমনে আতঙ্ক তৈরি করা ও আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আইএস’র দৃষ্টি আকর্ষণ করতে তামিম চৌধুরীর পরিকল্পনায় নব্য জেএমবি সদস্যরা এ হামলা করে। তারা নির্মম ও নিষ্ঠুরভাবে গ্রেনেড, আগ্নেয়াস্ত্র ও ধারালো চাপাতি দিয়ে নারকীয় ও দানবীয় এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। ১৭ জন বিদেশি, দুই পুলিশ কর্মকর্তাসহ চারজন বাংলাদেশিকে হত্যা করে অনেককে গুরুতর আহত ও জিম্মি করে।’

আদালত আরো বলে, ‘হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলার মধ্য দিয়ে জঙ্গিবাদের উন্মত্ততা, নিষ্ঠুরতার জঘন্য বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। নিরপরাধ দেশি-বিদেশি মানুষ যখন রাতের খাবার খেতে সেখানে যায়, তখনই আকস্মিকভাবে তাদের ওপর নেমে আসে জঙ্গিবাদের ভয়াল রূপ। জঙ্গি সন্ত্রাসীরা শিশুদের সামনে এ হত্যাকাণ্ড চালায়। মৃত্যু নিশ্চিত করার জন্য জঙ্গিরা নিথর দেহগুলোতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপায়। মুহূর্তের মধ্যে মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয় হলি আর্টিজান বেকারি।’

রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলে, ‘কলঙ্কজনক এ হামলার মাধ্যমে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের চরিত্র হননের চেষ্টা বরা হয়েছে। এ ঘটনার ফলে বাংলাদেশে বিদেশি নাগরিকরা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে। ফলে শান্তি ও সম্প্রীতির জন্য পরিচিত বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি কিছুটা ক্ষুণ্ন হয়। এ জন্য সাজা প্রদানের ক্ষেত্রে আসামিরা কোনো ধরনের অনুকম্পা বা সহানুভূতি পেতে পারে না। এ ক্ষেত্রে আসামিদের সন্ত্রাসবিরোধী আইন- ২০০৯ এর ৬ (২) ধারার প্রদত্ত সর্বোচ্চ সাজা প্রদানই ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে এবং ভাগ্যাহত মানুষের স্বজনরা কিছুটা হলেও শান্তি পাবে।’

রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, রাকিবুল হাসান রিগ্যান, জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব ওরফে রাজীব গান্ধী, আব্দুস সবুর খান হাসান ওরফে সোহেল মাহফুজ, মামুনুর রশিদ ওরফে রিপন, শফিকুল ইসলাম ওরফে খালেদ, আসলাম হোসেন ওরফে রাশেদ ওরফে আবু জাররা ওরফে র‌্যাশ ও হাসিবুর রহমান সাগর।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।

সন্ত্রাসবিরোধী আইন- ২০০৯ এর ৬ (২) ধারায় তাদের সর্বোচ্চ সাজা দেওয়া হয়।

আর অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজান নামে এক আসামিকে খালাস দিয়েছে আদালত।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত