যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গন এখন নির্বাচনী প্রচারণায় মুখর। এর মধ্যেই দেশটির স্বাস্থ্যসেবা খাত (এনএইচএস) যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিক্রি করে দেওয়া সংক্রান্ত এক বিস্ফোরক দলিল ফাঁস করেছেন লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিন। ব্রেক্সিট-পরবর্তী যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তিতে স্বাস্থ্যসেবা বিক্রির বিষয়টি প্রাধান্য পাবে, কনজারভেটিভদের এমন গোপন দলিল প্রকাশকে প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের জন্য বিশাল ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
লন্ডনে এক সংবাদ সম্মেলনে জেরেমি করবিন বলেন, জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা কোনো বাণিজ্য আলোচনার অংশ হবে না, এই মর্মে জনসনের দাবি আসলে স্রেফ কথার কথা তা প্রমাণ করে এ সেন্সরহীন দলিলগুলো। আমাদের হাতে প্রমাণ আছে যে, বরিস জনসনের অধীনেই এনএইচএস বিক্রির জন্য আলোচনার টেবিলে উঠবে। তিনি তার এ গোপন এজেন্ডা আড়াল করতে চেয়েছিলেন, যা প্রকাশ হয়ে গেছে।
২০১৭ সালের জুলাই থেকে গত কয়েক মাস আগপর্যন্ত ছয় দফায় এনএইচএস নিয়ে জনসন-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা হয়েছে, যা ৪৫১ পাতার দলিলে উল্লেখ করা আছে বলেও দাবি করেন করবিন। ওয়াশিংটন ও লন্ডনে ওই বৈঠকগুলো হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। করবিন আরও বলেন, ‘দুপক্ষের মধ্যে ইতিমধ্যেই এনএইচএস নিয়ে আলোচনা শেষ হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে বিশেষ অধিকারের একটাই মানে; ওষুধের দাম হবে অনেক বেশি। যুক্তরাজ্যের সাধারণ মানুষের জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়বে এই কারণে। আমাদের এনএইচএসের আওতায় যে এক প্যাকেটের দাম ১ হাজার ৪০৯ পাউন্ড হয়, তা যুক্তরাষ্ট্রে ৮ হাজার ১১৫ পাউন্ড। বড় ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিগুলোর সঙ্গে অঁাতাত করেই এমন পরিকল্পনা করেছে কনজারভেটিভ পার্টি।’ এর আগেও লেবার পার্টি ট্রাম্প-জনসন সম্পর্ক নিয়ে অভিযোগ তুলেছিল। কিন্তু প্রমাণের অভাবে সেই অভিযোগ পাত্তা পায়নি। ওয়াশিংটনের সঙ্গে জনসনের দ্বিতীয় বৈঠক প্রসঙ্গে করবিন বলেন, ‘দলিলের ৫১ পৃষ্ঠায় দ্বিতীয় বৈঠক নিয়ে যুক্তরাজ্যের কর্মকর্তারা বলেছেন যে “পেটেন্ট ইস্যু” ও “জেনেরিক ওষুধ ব্যবহারে এনএইচএসের অনুমোদন” বিষয়টি হবে আলোচনার মূল ইস্যু। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা এ বিষয়ে ব্যাপক চাপ দিয়েছেন।’
করবিনের এমন দাবি নিয়ে এখনো প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ও করজারভেটিভ পার্টির পক্ষ থেকে কোনো বিবৃতি দেওয়া হয়নি। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনার রূপরেখা নিয়ে জনসন শুরু থেকেই রাখঢাক বজায় রাখছেন। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, জনসন আর কোন কোন ইস্যুতে গোপন পরিকল্পনা করে রেখেছেন তা-ই এখন যাচাই করে দেখার সময়।
