বিআইডিএসের সেমিনারে বক্তারা

আঞ্চলিক বৈষম্য কমাতে গবেষণা প্রয়োজন

আপডেট : ০১ ডিসেম্বর ২০১৯, ১০:৫৩ পিএম

আঞ্চলিক বৈষম্য কমিয়ে আনতে গবেষণা প্রয়োজন। দেশের দারিদ্রের হার কমলেও কিছু পকেট অঞ্চলে দারিদ্র্য হার বেড়েছে। রংপুর, কুড়িগ্রামে দারিদ্র্য হার না কমে বরং বেড়েছে। আঞ্চলিক এ বৈষম্য বৃদ্ধির বিষয়ে গবেষণা হওয়া প্রয়োজন। কিন্তু কিছু ভঁzইফোড় গবেষণা প্রতিষ্ঠান দেখা যায় তারা রাবিশ। দেশের অনেক তথ্য-উপাত্তে অনেক ভ্রািন্ত রয়েছে। চাল উৎপাদন, আমদানি ও দেশে খাদ্যগ্রহণের তথ্যে অনেক ভ্রািন্ত রয়েছে। এগুলো বিষয় নিয়ে ভাবতে হবে।

গতকাল রবিবার রাজধানীর গুলশানে দুদিনব্যাপী বিআইডিএস সেমিনারের উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

বিশেষ অতিথি ছিলেন সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইদুজ্জামান, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (জ্যেষ্ঠ সচিব) ড. শামসুল আলম, পরিকল্পনা বিভাগের সচিব নুরুল আমিন। সঞ্চালনা করেন বিআইডিএসের মহাপরিচালক ড. কেএএস মুর্শিদ। বিভিন্ন সেশনে গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ড. শামসুল আলম বলেন, তথ্য-উপাত্তে অনেক ভ্রািন্ত রয়েছে। চাল উৎপাদন, আমদানি ও দেশে খাদ্যগ্রহণের তথ্যে অনেক ভ্রািন্ত রয়েছে। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, দেশে বছরে ৩ কোটি ৬০ লাখ মেট্রিক টন চাল উৎপাদন হয়েছে। প্রতিদিন গড়ে ৩৬৭ গ্রাম চাল গ্রহণ করলে দেশে ১৬ কোটি মানুষের প্রয়োজন হচ্ছে ৩ কোটি মেট্রিক টন। সব মিলিয়ে দেশে ৬ লাখ মেট্রিক টন চাল উদ্বৃত্ত থাকার কথা। অথচ গড়ে প্রতি বছর ৯ থেকে ১০ লাখ মেট্রিক টন চাল আমদানি করতে হচ্ছে।

অন্যদিকে বছরে ২৪ লাখ টন পেঁয়াজ চাহিদার বিপরীতে উৎপাদন হচ্ছে ২২ লাখ মেট্রিক টন। তাহলে বাড়তি সামান্য পেঁয়াজ আমদানি করলেই দেশের চাহিদা পূরণ হওয়ার কথা। কিন্তু তথ্য-উপাত্তে সেটি মিলছে না। তিনি বলেন, দেশে দারিদ্র্য কমে আসছে কিন্তু আঞ্চলিক বৈষম্য কমছে না। এসব বিষয়ে গবেষণা হওয়া প্রয়োজন। এরকম অনেক বৈপরীত্য তথ্য রয়েছে যেগুলো নিয়ে গবেষণা হওয়া প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন। বেকারত্বের তথ্য কিছুটা হলেও অতিরঞ্জিত মনে হয়। কেননা যারা খণ্ডকালীন কর্মসংস্থানে রয়েছেন তারাও নিজেদের বেকার ভাবেন। দেশে এত বেকার থাকলে তার একটা প্রতিফলন থাকত।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, গবেষণায় বিআইডিএস ছাড়া অন্য প্রতিষ্ঠান সেভাবে গড়ে ওঠেনি। কিছু ভঁzইফোড় গবেষণা প্রতিষ্ঠান দেখা যায় তারা রাবিশ। তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন যে পর্যায়ে রয়েছে তাতে আগামী দুই-তিন বছর শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি বজায় থাকবে। তবে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন অভিঘাত নিয়ে সতর্ক থাকতে হবে। প্রতিবেশী দেশ ভারতে প্রবৃদ্ধি অনেক কমে যাচ্ছে। তাদের অর্থনীতির উত্থান-পতনে প্রভাবিত হবে বাংলাদেশও। এর জন্য বর্তমান অর্থনীতি নিয়ে ভারতের সঙ্গে একটি সংলাপের আয়োজন করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন তিনি। এম সাইদুজ্জামান বলেন, আমাদের বলা হচ্ছে ব্যাংকিং খাততে হুইল চেয়ারে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। দেশে বৈষম্য কমিয়ে আনা ও আর্থিক খাতের উন্নতি করাকে তিনি চ্যালেঞ্জ বলে মনে করেন।

বিআইডিএসের জ্যেষ্ঠ গবেষক ড. নাজনীন আহমেদ চালের দাম নিয়ে গবেষণাপত্র উপস্থাপন করে বলেন, চালের মজুদের তথ্য মনিটরিং করে খাদ্য অধিদপ্তর। কিন্তু নিয়মিত মজুদের তথ্য দেওয়া হয় না, এর খবরও কেউ রাখে না। চাল সরবরাহ প্রক্রিয়া মূলত মিলনির্ভর।

এখানে মনিটরিং জোরদার করতে হবে যাতে করে কোনো মিলার বেশি সময় ধান বা চাল আটকে না রাখতে পারে। তবে গবেষণায় চালের বাজারে সিন্ডিকেটের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত