রঙ্গশালার বর্ণচ্ছটায় এসএ গেমসের উদ্বোধন

আপডেট : ০২ ডিসেম্বর ২০১৯, ০২:২২ এএম

ঘড়ির কাঁটা পাঁচটা ছুঁতেই সঞ্চালকের ঘোষণা। প্রায় দেড় ঘণ্টার অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে দশরথ রঙ্গশালায় উপস্থিত হলেন নেপালের প্রথম নারী রাষ্ট্রপতি বিদ্যা দেবী ভাণ্ডারী। তার আগমনেই শুরু হয়ে গেল ১৩তম দড়্গিণ এশিয়ান (এসএ) গেমসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। দর্শকে ঠাসা রঙ্গশালা বুদ হয়ে রইল ৩ ঘণ্টা ১৪ মিনিটব্যাপী বর্ণাঢ্য আয়োজনে। অথচ এই ৬৩ বছরের পুরনো স্টেডিয়ামটিই বছর চারেক আগে পরিণত হয়েছিল ধ্বংসস্ত‚পে। নেপালের ইতিহাসের ভয়ঙ্করতম গোর্খা ভূমিকম্প মাটিতে মিশিয়ে দিয়েছিল স্টেডিয়ামের গ্যালারি। কাল সেখানেই ৩৫ হাজার দর্শকের সামনে তুলে ধরা হলো নেপালের কৃষ্টি, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য। কেবল নেপাল নয়, এই আসরে অংশ নেওয়া অন্য ছ’টি দেশকেও তুলে ধরা হলো নানান প্রদর্শনীর মধ্য দিয়ে। আবির ছড়ানো মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আগে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর ক্রীড়াবিদদের মাঠ প্রদড়্গিণ, মশাল প্রজ¦লন হলো দশদিনব্যাপী ২৬ ডিসিপিস্ননের ২৭১৫ জন ক্রীড়াবিদসহ প্রায় পাঁচ হাজার প্রতিনিধির এই আসর। যে মশাল নিভবে ১০ ডিসেম্বর। তার আগে কাঠমান্ডz, পোখারা এবং জানকপুরে চলবে ক্রীড়াযজ্ঞ।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের শুরুটা হয়েছিল দড়্গিণ এশিয়ান অলিম্পিক কমিটির প্রেসিডেন্ট জীবন রাম শ্রেষ্ঠার স্বাগত ভাষণের মধ্য দিয়ে। এরপর এসএ গেমস নির্বাহী কমিটির সমন্বয়ক এবং জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সদস্য সচিব রামেশ কুমার সিলওয়াল বলেন, কতটা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা হয়েছে এই আসর আয়োজনে। সেই সঙ্গে একটি প্রাণবন্ত গেমস উপহারের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন মাত্র চার মাস আগে গেমসের দায়িত্ব নিয়ে অনেক অসম্ভবকে সম্ভব করা এই কর্মকর্তা। পরবর্তী সময়ে একে একে বক্তব্য দেন নেপালের যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী জগৎ বিশ^কর্মা সুনার, দেশটির উপ-প্রধানমন্ত্রী ঈশ^র পোখরেল। সবশেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যের পর আসরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন রাজত্ব শাসন বিলুপ্ত হওয়ার পর নেপালের ইতিহাসের রাষ্ট্রপতি বিদ্যা দেবী ভাণ্ডারী। বক্তব্য-পর্ব শেষে শুরু হয় ক্রীড়াবিদদের মাঠ প্রদড়্গিণ। আর অনুমিতভাবেই সবার আগে মাঠে প্রবেশ করে বাংলাদেশ। যে দলটির নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশের শেফ দ্য মিশন আসাদুজ্জামান কোহিনুর। এরপর একে একে মাঠে প্রবেশ করে ভুটান, ভারত, মালদ্বীপ, পাকিস্তান এবং সবশেষে স্বাগতিক নেপাল।

মার্চপাস্টের পরপরই নেপালের ছয় কৃতী ক্রীড়াবিদ দীপক বিষ্টা, জিৎ বাহাদুর কেসি, নয়না সাক্য, বৈকুণ্ঠ মানানধার, দীপক শ্রেষ্ঠা এবং উমেশ মাস্কায় জ¦লন্ত মশাল নিয়ে প্রদড়্গিণ করে পৌঁছে যান রঙ্গশালার পশ্চিমের মশালে। এসএ গেমসের চারবারের স্বর্ণপদকজয়ী তায়কোয়ান্দো খেলোয়াড় দীপক বিষ্টা মশাল প্রজ্বলন করেন। এরপর শুরু হয়ে যায় মনোজ্ঞ ডিসপ্লে, আতশবাজির খেলা, নানার রঙের আলোর ঝলকানি আর নেপালের প্রতিষ্ঠিত শিল্পীদের পরিবেশনা। দেড় ঘণ্টার এই পর্বে তুলে ধরা হয় নেপালের কৃষ্টি, আর্মি, পুলিশ ও আর্মড পুলিশ ফোর্সসহ প্রায় ১৫ হাজার মানুষ নেচে-গেয়ে নেপালের আদিবাসীদের ঐতিহ্য তুলে ধরেন। যেখানে স্থান পেয়েছে নেপালি হিন্দুদের কাছে পরম প্রার্থিত ভগবান পশুপতি নাথ, সয়ম্বু নাথ এবং শিব। আর পুরোটা মাঠ ছুড়ে ছুটে বেড়িয়েছে গেমসের মাসকট ব্লাকবাক হরিণ, স্থানীয়ভাবে যাকে ডাকা হয় কালোবাকা বলে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানর সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব ছিল এখানে ব্যবহৃত বাদ্যযন্ত্র। পঞ্চ বাজার মতো বাদ্যযন্ত্রগুলো একেবারেই নেপালের নিজস্ব। যা পুরো আয়োজনকেই দিয়েছিল স্বকীয়তা। সবশেষে আতশবাজির ঝলকানিতে আলোকিত হয়েছে পাহাড়ঘেরা কাঠমান্ডz।

এখন দেখার সেই আলোয় কোন দেশের ক্রীড়াবিদরা কতটা আলোকিত হন। বিচ্ছzরিত হন নিজের ক্রীড়াশৈলীতে। এসএ গেমসের ইতিহাসের কোনোবারই সেরা দুয়ে জায়গা না পাওয়া বাংলাদেশই বা কেমন করে, সেটা দেখতেও অপেক্ষায় লাখো মানুষ। হাজার মাইল দূরে থাকা বাংলাদেশিদের মনে নিশ্চয় এই প্রশ্ন জাগে মার্চপাস্টে সবার আগে থাকা বাংলাদেশ সত্যিকারে সবার আগে কবে থাকবে?

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত