ছাত্ররাজনীতিকে জাতীয় রাজনীতি থেকে দূরে সরাতে হবে

আপডেট : ০৩ ডিসেম্বর ২০১৯, ১২:৩২ এএম

জাতীয় রাজনীতি থেকে ছাত্ররাজনীতিকে দূরে সরিয়ে রাখার পাশাপাশি প্রতিটি দলের সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্ত হতে পারলে এ দেশের ছাত্ররাজনীতি এগিয়ে যাবে বলে মনে করেন দেশের সাবেক ও বর্তমান ছাত্রনেতারা। গতকাল সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ছাত্ররাজনীতি নিয়ে আয়োজিত ‘বাংলাদেশের ছাত্ররাজনীতি ও প্রাসঙ্গিক ভাবনা’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এসব কথা বলেন।

সাবেক জাসদ ছাত্রলীগ নেতা ও জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেন, ‘সব সময় ছাত্রদের এগিয়ে আসতে হবে। কারণ তারা সংঘবদ্ধ থাকে। তাদের কোনো ভয়ভীতি থাকে না জীবনে। অতএব ছাত্ররাজনীতি থাকবে। ছাত্ররাজনীতিকে রাখার জন্য এই স্বৈরাচারী সরকারকে বাংলাদেশের মাটি থেকে বিদায় করতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ছাত্র আন্দোলন থেকে বাংলাদেশ সৃষ্টি হয়েছে। তাহলে ছাত্ররাজনীতি কী করে বন্ধ হবে এই দেশে? যারা ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করতে চেয়েছে তাদের অত্যন্ত নিষ্ঠুর এবং নির্মমভাবে ক্ষমতা থেকে বিদায় নিতে হয়েছে।’

সাবেক ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘একটি ছাত্র সংগঠনের সাংগঠনিক প্রধান কীভাবে রাজনৈতিক দলের প্রধান হতে পারে? এটা আমার মাথায় আসে না। দলের সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্ত হতে পারলে এ দেশের ছাত্ররাজনীতি এগিয়ে যাবে।’

আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ডাকসুর সাবেক ভিপি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘ছাত্ররাজনীতি মানে জাতীয় রাজনীতির বড় জায়গা। সত্যের পক্ষে তারুণ্যকে সব সময় থাকতে হবে। সঠিক কথা বলতে হবে।’ ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি ও সিপিবির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, ‘ছাত্ররাজনীতিতে এখন কৃষ্ণপক্ষ চলছে। কিন্তু সব কিছু অন্ধকারে হারিয়ে যায়নি। তাহলে গণজাগরণ মঞ্চ, কোটা সংস্কার আন্দোলন, নিরাপদ সড়কের আন্দোলন থেকে শুরু করে হালের আবরার হত্যার বিচারের আন্দোলন হতো না। বুয়েটে ছাত্ররাজনীতি সব সময়ই নিষিদ্ধ ছিল। কিন্তু সেখানে কীভাবে আবরার হত্যাকাণ্ড হলো? এটা ছাত্ররাজনীতি না থাকার কারণে হয়েছে।’ ডাকসুর সাবেক ভিপি ও ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান বলেন, ‘দেশে বর্তমানে ঐতিহাসিক পরিবর্তন প্রয়োজন। ডাকসুর বর্তমান ভিপি নুরুল হক নুরকে বলব, তুমি নেতৃত্ব দাও। এ দেশের বুদ্ধিজীবী সমাজ, সাবেক ছাত্রনেতারা তোমাদের পাশে আছে। দেশ, মানুষ, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, মানবাধিকার ফিরিয়ে এনে ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে হবে।’

সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘আমরা লাঠিয়াল রাজনীতি চাই না। বিদ্যমান আইন অনুযায়ীই লেজুড়বৃত্তির ছাত্র, শিক্ষক ও শ্রমিক রাজনীতি বেআইনি। এই লাঠিয়াল বাহিনী ছাত্ররাজনীতির নামে আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও অন্যান্য অপকর্মের তাণ্ডব চালিয়ে যাচ্ছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত