মূল্যবৃদ্ধির পর থেকে সারা দেশের মতো দিনাজপুর জেলায়ও শুরু হয়েছে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) এর পেঁয়াজ বিক্রি। টিসিবির ৪৫ টাকা দরের পেঁয়াজের অপেক্ষায় থাকা জেলার মানুষের জন্য এ যেন মরূদ্যানে এক পশলা শান্তির বৃষ্টি। তবে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় অনেক ক্রেতাই পেঁয়াজ কিনতে না পেরে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
মঙ্গলবার সকাল ১১টায় দিনাজপুর শহরের ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণে টিসিবির ৪৫ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ বিক্রির উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. মাহমুদুল আলম। এর আগে সকাল থেকে পেঁয়াজ বিক্রির খবর পেয়ে দিনাজপুরের সাধারণ মানুষ জড়ো হতে থাকে ইনস্টিটিউট মাঠে। পেঁয়াজ বিক্রির উদ্বোধনের অল্প সময়ের মধ্যেই পেঁয়াজের ট্রাকের সামনে দেখা যায় পেঁয়াজ কিনতে আসা নারী-পুরুষের লম্বা লাইন।
পেঁয়াজ কিনতে আসা রফিকুল ইসলাম ফুলাল জানান, ‘আমি দেড় মাস ধরে পেঁয়াজ কিনিনি। আজকে যখন সরকারিভাবে ৪৫ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ বিক্রির কথা শুনেছি তখনই সবার আগে এসে এক কেজি পেঁয়াজ কিনেছি।’
তবে পেঁয়াজের স্বল্পতা থাকার কারণে অনেক ক্রেতাই পেঁয়াজ কিনতে পারেননি। অনেকে ১ কেজি পেঁয়াজ কিনেও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। শহরের মুন্সিপাড়া এলাকার ইমরান আলী বলেন, ‘টিসিবির মাধ্যমে ১ কেজি করে পেঁয়াজ ক্রেতাদের দিচ্ছে। লম্বা লাইনে ১ কেজি পেঁয়াজ কেনার আশায় দাঁড়িয়েছিলাম কিন্তু শেষ পর্যন্ত পেঁয়াজ পেলাম না। বরাদ্দের পরিমাণ আরও বেশি করার আহ্বান জানান এই ক্রেতা।
টিসিবির ডিলার কানাই লাল গুপ্ত বলেন, ‘আজকে ১ টন পেঁয়াজ আমরা বিক্রি করেছি। প্রতিজনকে মাত্র ৪৫ টাকা দরে ১ কেজি করে পেঁয়াজ দিয়েছি। প্রথম দিনে অনেক লোক লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও পেঁয়াজ পাননি। তবে টিসিবির কার্যক্রম চলতে থাকবে।’
দিনাজপুর চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি সুজা-উর রব চৌধুরী জানান, ‘দিনাজপুর অনেক বড় জেলা। আমরা জেলা প্রশাসকের কাছে দাবি জানিয়েছি যাতে টিসিবির মাধ্যমে আরো বরাদ্দ বাড়ানোর জন্য। যাতে বাজারে নতুন পেঁয়াজ না আসা পর্যন্ত যেন এই কার্যক্রম অব্যাহত রাখা যায়।
এদিকে জেলা প্রশাসক মো. মাহমুদুল আলম সাংবাদিকদের জানান, ‘সরকার দেরিতে হলেও দিনাজপুরে টিসিবির মাধ্যমে ৪৫ টাকা দরে পেঁয়াজ বিক্রি শুরু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে আমরা ৪ টন বরাদ্দ পেয়েছি। প্রতিদিন ১ কেজি করে ১ হাজার মানুষের মাঝে এই পেঁয়াজ বিক্রি করা হবে।’
