এবার রাজধানীর মিরপুর এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে এক গৃহকর্ত্রী ও তার খণ্ডকালীন গৃহকর্মীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার রাতে মিরপুর ২ নম্বর সেকশনের এ ব্লকের ২ নম্বর সড়কের ১১ নম্বর ভবনের চারতলার ওই ফ্ল্যাট থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত গৃহকর্ত্রীর নাম রহিমা বেগম (৬৫) এবং তার খণ্ডকালীন গৃহকর্মীর নাম সুমি (১৫)। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে সোহেল নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। সে নিহত রহিমার পালিত ছেলে এবং ওই বাসায় যাওয়া আসা করত।
এর আগে গত ১ নভেম্বর রাজধানীর ধানমণ্ডির ২১ নম্বর রোডের ২৮ নম্বর বাসা থেকে শিল্পপতি মনির উদ্দিন তারিমের শাশুড়ি আফরোজা বেগম (৬৫) ও গৃহকর্মী দিতির (১৯) গলাকাটা লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় গৃহকর্মীর বেশে আসা সুরভী আক্তারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে তাদের গলা কেটে হত্যার কথা স্বীকার করেছে।
পুলিশের মিরপুর জোনের সহকারী কমিশনার খায়রুল আমিন জানান, ‘ভাড়া করা ওই ফ্ল্যাটে দুজনের লাশ পাওয়া গেছে। রহিমা বেগম ছিলেন গৃহকর্ত্রী, আর সুমি গৃহকর্মী হিসেবে সেখানে কাজ করত। তবে সুমি সেখানে নিয়মিত কাজ করত না। তার খালা কাজ করত। খালার বদলে সুমি গত দুদিন কাজে আসে। সিআইডির ক্রাইম সিন ঘটনাস্থলে আলামত সংগ্রহ করছে। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।’
ঘটনাস্থল থেকে মিরপুর মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সৈয়দ মোহাম্মদ আক্তার জানান, ‘কারা, কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।’ মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার মোস্তাক আহমেদ জানান, ‘প্রাথমিকভাবে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। দুয়েক দিন আগে ওই গৃহকর্মী বাসায় কাজে এসেছে। নিহত বৃদ্ধার সঙ্গে আর কেউ থাকত না। পলিত ছেলে সোহেল সব সময় যাওয়া-আসা করত। এ ছাড়া তার স্বামীও মাঝেমধ্যে সেখানে যেতেন।’
রাতে ঘটনাস্থলে গিয়ে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার কৃষ্ণপদ রায় বলেন, দুই কক্ষের ওই বাসার একটি কক্ষের ফ্লোরে দুটি মৃতদেহ পড়ে ছিল। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে শ্বাসরোধে দুজনকে হত্যা করা হয়েছে। তবে সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট ঘটনাস্থলে আলামত সংগ্রহ করেছে। ময়নাতদন্ত করলে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত করে বলা যাবে। ওই ফ্ল্যাটের একটি রুমের বিছানাপত্র এলোমেলো ছিল। আরও কিছু আলামত আমরা সংগ্রহ করেছি। তবে তদন্ত করলে বিস্তারিত জানা যাবে।
তিনি বলেন, স্থানীয়দের কাছে শুনেছি এখানে কিছু বহিরাগত লোকজনের আনাগোনা ছিল। তবে বহিরাগতরা কী কারণে এখানে আসত সেটি জানার চেষ্টা চলছে। এর কারণ জানতে পারলে হত্যার রহস্য উদঘাটন করা যাবে।
তিনি বলেন, এই বাসায় সোহেল নামে যে পালিত ছেলে থাকত সে আসলে কী পরিচয়ে কেন থাকত সেটি এখনো আমরা বুঝতে পারছি না। তাকে আটক করা হয়েছে। তাকে এখনো জিজ্ঞাসাবাদ করা সম্ভব হয়নি। সোহেল পিক-আপ চালক বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
নিহত গৃহকর্মী সুমি সম্পর্কে তেমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি উল্লেখ করে কৃষ্ণপদ রায় বলেন, কাজে যোগ দেওয়ার এক দিনের মাথায় কেন তাকে হত্যা করা হলো, সেটি জানার চেষ্টা চলছে বলেও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।
এদিকে নিহত রহিমার মেয়ে সংবাদ পেয়ে নারায়ণগঞ্জ থেকে মিরপুরের ওই বাসায় আসেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার মা এই বাসায় একা থাকতেন। আর তাকে দেখাশোনার জন্য সোহেল নামে একটি ছেলে মায়ের সঙ্গে থাকত। আমার মায়ের হার্টের সমস্যা ছিল। তার ডায়াবেটিসও ছিল। বিকেল ৪টার দিকে সোহেল আমাকে ফোন দিয়ে জানায় যে, আপা খালাম্মাকে আর কাজের মেয়েকে কারা যেন কুপিয়ে মারছে লোকে বলল। তখনই আমি আমার স্বামীকে নিয়ে দ্রুত চলে আসি।’
তিনি আরও বলেন, ‘কয়েক দিন আগে আমার মা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তখন বলেছেন, সোহেল নাকি টাকা চুরি করছিল। এই নিয়ে মন কষাকষি ছিল। আমরা ধারণা করছি, টাকা-পয়সার জন্য সোহেল আমার মাকে আর বাসার কাজের মেয়েকে হত্যা করেছে। তিনি জানান, সোহেলকে পুলিশ আটক করেছে। আমি তাকে দেখিয়ে দিয়েছি।’
