দেশের সড়ক অবকাঠামো উন্নয়নে আরও চারটি প্রকল্প হাতে নিচ্ছে সরকার। ওই চার প্রকল্পে বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে ১ হাজার ৩৫১ কোটি ৭১ লাখ টাকা। আজ মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পগুলো অনুমোদন হতে পারে। একনেকের ওই সভায় উপস্থাপন করা হচ্ছে আরও ইসলামাবাদে বাংলাদেশ চ্যান্সারি কমপ্লেক্স নির্মাণ ও দেশের তিনটি সরকারি কলেজের অবকাঠামো উন্নয়নের পৃথক দুটি প্রকল্প। উল্লিখিত প্রকল্প ছয়টির মোট ব্যয় ধরা হচ্ছে ১ হাজার ৫৭১ কোটি টাকা।
পরিকল্পনা কমিশনের পরিকল্পনা বিভাগের সচিব নূরুল আমিন বলেন, সব প্রত্রিয়া সম্পন্ন করে এসব প্রকল্প চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হচ্ছে। এসব প্রকল্প অনুমোদন পেলে পুরোটাই সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন থেকে বরাদ্দ দেওয়া হবে।
সড়কের ৪ প্রকল্প : সূত্র জানিয়েছে, সড়ক অবকাঠামো প্রকল্পের মধ্যে কক্সবাজার জেলার রামু-ফতেখাঁরকুল-মরিচ্যা জাতীয় মহাসড়ক (এন-১০৯ এবং ১১৩) প্রশস্তকরণ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ২৬৬ কোটি ১৬ লাখ টাকা। প্রকল্পটি অনুমোদন পেলে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর চলতি বছর থেকে জুন ২০২২ নাগাদ এর বাস্তবায়ন করবে। এ প্রকল্পের ফলে কক্সবাজার জেলার জাতীয় মহাসড়কের (এন-১০৯) রামু পুরাতন অংশ (রামু হাসপাতাল-খালেকুজ্জামান চত্বর) এবং জাতীয় মহাসড়কের (এন-১১৩) রামু-ফতেখাঁরকুল-মরিচ্যা জাতীয় মহাসড়কের ১৬ দশমিক ৭২৬ কিলোমিটার সড়ক প্রশস্ত করা হবে। এতে ওই অঞ্চলের উন্নত ও নিরাপদ সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা স্থাপন হবে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রকল্পের আওতায় ভূমি অধিগ্রহণ, সড়ক বাঁধে মাটির কাজ, বিদ্যমান পেভমেন্ট প্রশস্তকরণ ও মজবুতিকরণ (হার্ডসোল্ডারসহ), সার্ফেসিং, বাস বে ও ট্রাক বে নির্মাণ, পিসি গার্ডার সেতু নির্মাণ, আরসিসি বক্স কালভার্ট নির্মাণ, আরসিসি সসার ড্রেন নির্মাণ, ওয়াল নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পের এসব কার্যক্রম সম্পন্ন করতে মোটরসাইকেল, মোটর গ্রেডার, এক্সেভেটর, পে লোডার ও ডাম্প ট্রাকও ক্রয় করা হবে।
এদিকে ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে মুন্সীগঞ্জের হাসাড়া পর্যন্ত জেলা মহাসড়ক (জেড-৮২০৩) যথাযথমানে উন্নীত ও প্রশস্ত করা হবে। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর চলতি বছর থেকে ডিসেম্বর ২০২২ নাগাদ এটির বাস্তবায়ন করতে চায়। আলোচ্য প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে দক্ষিণাঞ্চলের সড়ক নেটওয়ার্কের সঙ্গে রাজধানী ঢাকাসহ উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থা নিরাপদ ও উন্নত হবে। এতে ব্যয় হবে ৪০৯ কোটি টাকা। প্রকল্পের আওতায় ভূমি অধিগ্রহণ, ক্ষতিপূরণ, এসডিই আবাসিক ভবন নির্মাণ, বাউন্ডারি দেয়াল নির্মাণ, সড়কবাঁধ প্রশস্তকরণ, নতুন পেভমেন্ট নির্মাণ ও প্রশস্তকরণ, অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণ, সার্ফেসিং, পিসি গার্ডার ও আরসিসি সেতু নির্মাণ, আরসিসি বক্স কালভার্ট, আরসিসি সসার ড্রেন নির্মাণ করা হবে।
ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া-পাকশী-দাশুরিয়া জাতীয় মহাসড়কের (এন-৭০৪) কুষ্টিয়া শহরাংশ চার লেনে উন্নীতকরণসহ অবশিষ্টাংশ যথাযথ মানে উন্নীতকরণ করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। কুষ্টিয়া জেলার সদর, মিরপুর ও ভেড়ামারা উপজেলার এ সড়ক চলতি বছর থেকে জুন ২০২২ সাল নাগাদ বাস্তবায়ন করতে চায় সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তর। এতে মোট ব্যয় হবে ৫৭৪ কোটি টাকা। প্রকল্পের আওতায় সড়ক বাঁধ উঁচুকরণ/প্রশস্তকরণ, বিদ্যমান পেভমেন্ট প্রশস্তকরণ ও মজবুতিকরণ ও পুনর্নির্মাণ সার্ফেসিং, হার্ডসোল্ডার নির্মাণ, আরসিসি বক্স কালভার্ট, ইউ ড্রেন নির্মাণ, ফুটপাত ১০টি, বাস-বে নির্মাণ করা হবে।
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী-কাশিপুর-ফুলবাড়ী-কুলাঘাট-লালমনিরহাট জেলা মহাসড়ক উন্নয়ন করবে। এ প্রকল্পের আওতায় নাগেশ্বরী-কাশিপুর-কুলাঘাট (ফুলবাড়ী)-লালমনিরহাট জেলা মহাসড়ক (জেড-৫৬১৬) এবং লালমনিরহাট-ফুলবাড়ী জেলা মহাসড়ক (জেড-৫৯০১) দুটির ২৭.৫০ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়নের মাধ্যমে উন্নত ও নিরাপদ সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা স্থাপন করা সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে। একনেকে অনুমোদন পেলে চলতি বছর থেকে জুন ২০২১ সাল নাগাদ এর কাজ শেষ হবে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৯৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। এই প্রকল্পের আওতায় সড়ক বাঁধে মাটির কাজ, পেভমেন্ট প্রশস্তকরণ ও মজবুতিকরণ, সার্ফেসিং, রিজিড পেভমেন্ট নির্মাণ, আরসিসি বক্স কালভার্ট নির্মাণসহ আরসিসি টে-ওয়াল নির্মাণ করা হবে।
ইসলামাবাদে বাংলাদেশ চ্যান্সারি কমপ্লেক্স নির্মাণ : পাকিস্তানের ইসলামাবাদে বাংলাদেশ চ্যান্সারি কমপ্লেক্স নির্মাণ (তৃতীয় সংশোধিত) প্রস্তাব পাঠিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ২০০৭ সালের জুলাইয়ে অনুমোদন পাওয়া ২৯ কোটি ৮০ লাখ টাকার প্রকল্পের কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় ব্যয় বাড়িয়ে ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে মোট প্রকল্প ব্যয় দাঁড়াবে ৭৯ কোটি ৮৬ লাখ টাকা।
তিন কলেজের অবকাঠামো উন্নয়ন : শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ঢাকা, মাদারীপুর ও রংপুর জেলার তিনটি কলেজের অবকাঠামো উন্নয়ন করতে চায়। এজন্য ৮৮ কোটি ৫৭ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। প্রকল্প অনুমোদন পেলে চলতি বছর থেকে জুন ২০২২ সাল নাগাদ এর কাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় মাদারীপুরে সরকারি শেখ হাসিনা একাডেমি অ্যান্ড উইমেন্স কলেজের ১০ তলা ভিত বিশিষ্ট ১০ তলা অ্যাকাডেমিক কাম প্রশাসনিক ভবন নির্মাণ, যা পাঁচতলা মহিলা হোস্টেল (১৩২ বেড) ভবন নির্মাণ, পাঁচতলা শিক্ষক ডরমেটরি নির্মাণ, পাঁচতলা বিজ্ঞান ভবন নির্মাণ, অধ্যক্ষের বাসভবন নির্মাণ এবং আসবাবপত্র সরবরাহ করা হবে।
ঢাকার সরকারি বঙ্গবন্ধু কলেজে ১০ তলা অ্যাকাডেমিক ভবন নির্মাণ ও আসবাবপত্র সরবরাহ করা হবে। আর রংপুরের কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজে ১০ তলা অ্যাকাডেমিক ভবন নির্মাণ এবং আসবাবপত্র সরবরাহ করা হবে।
