পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সান্ধ্য কোর্স বন্ধের নির্দেশ ইউজিসির

আপডেট : ১২ ডিসেম্বর ২০১৯, ০২:০৩ এএম

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের বক্তব্যের দুদিনের মাথায় দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সান্ধ্যকালীন কোর্স বন্ধের নির্দেশনা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। গতকাল বুধবার সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে পাঠানো চিঠিতে সান্ধ্য কোর্স বন্ধসহ ১৩ দফা নির্দেশনা পাঠানো হয় বলে জানিয়েছেন ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক কাজী শহীদুল্লাহ। এর আগে গত সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫২তম সমাবর্তনের বক্তৃতায় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আচার্য রাষ্ট্রপ্রধান আবদুল হামিদ সান্ধ্য কোর্স বন্ধের পক্ষে অবস্থান জানিয়ে বলেছিলেন, এর মধ্য দিয়ে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।

গতকাল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ইউজিসি জানিয়েছে, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সান্ধ্য কোর্স বন্ধ, উপাচার্যদের অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন এবং নতুন বিভাগ ও পদ সৃষ্টিতে ইউজিসির পূর্বানুমোদন গ্রহণ, নিয়োগ এবং পদোন্নতির ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুসরণসহ ১৩টি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক দিল আফরোজা বেগম স্বাক্ষরিত উপাচার্যদের উদ্দেশে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, ‘সান্ধ্য কোর্স পরিচালনা করা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈশিষ্ট্য ও ভাবমূর্তি ক্ষুণœ করে বিধায় সান্ধ্যকালীন কোর্স বন্ধ হওয়া দরকার।’

এতে আরও বলা হয়, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে উপাচার্যরা নিজেদের মেধা, জ্ঞান ও প্রজ্ঞা দিয়ে তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব ও কর্তব্য প্রতিপালন করে যাচ্ছেন। তবুও নানা কারণে কোনো কোনো ক্ষেত্রে নিয়মনীতি অনুসরণে শিথিলতা দেখা যাচ্ছে। এসব কারণে উচ্চশিক্ষা প্রশাসনে সৃষ্টি হচ্ছে বিশৃঙ্খলা, যা কাম্য নয়।’

বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন অনুষদ, বিভাগ, প্রোগ্রাম ও ইনস্টিটিউট খোলা এবং নতুন পদ সৃষ্টি বা বিলুপ্তির ক্ষেত্রে কমিশনের পূর্বানুমোদন নেওয়ার কথা উল্লেখ করে চিঠিতে বলা হয়, ‘ইউজিসি গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছে, দেশের কোনো কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় কমিশনের অনুমোদন ছাড়াই নতুন বিভাগ, প্রোগ্রাম ও ইনস্টিটিউট খুলে শিক্ষার্থী ভর্তি করে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে, যা বাঞ্ছনীয় নয়।’

বিধিবহির্ভূতভাবে ‘সেশন বেনিফিট’ সুবিধা প্রদান এবং শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিম্নতর গ্রেড থেকে উচ্চতর গ্রেডে উন্নীত করা বাঞ্ছনীয় নয় বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

নিয়োগের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিল করা হচ্ছে উল্লেখ করে চিঠিতে বলা হয়, ‘এমনকি পদোন্নতি ও পদোন্নয়নের ক্ষেত্রেও নিয়মের ব্যত্যয় ঘটানো হচ্ছে। সরকারের আর্থিক বিধি লঙ্ঘন করে দেওয়া হচ্ছে ভূতাপেক্ষ জ্যেষ্ঠতা। এসব ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন, বিধিবিধান এবং সরকারের নিয়মনীতি প্রতিপালন করা অবশ্য কর্তব্য।’

সরকারি ‘আর্থিক বিধিমালা’ অনুযায়ী আর্থিক কার্যক্রম পরিচালনা করার আহ্বান জানিয়ে চিঠিতে ইউজিসি বলেছে, ‘অ্যাকাডেমিক, প্রশাসনিক ও আর্থিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে এবং এসব ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো প্রয়োজনে কমিশনের পরামর্শ নিতে পারে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত