আওয়ামী লীগের সম্মেলন

গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতারা

আপডেট : ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯, ০২:৩৪ এএম

আওয়ামী লীগে জন্মলগ্ন থেকেই দলটির ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি। দলের প্রত্যেকটি জাতীয় ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে ছাত্রলীগ করা নেতারাই আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে এসেছেন, হাল ধরেছেন। এবারের সম্মেলনেও এর ব্যতিক্রম ঘটবে না বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা। সম্ভাব্য নতুন নেতা হতে পারেন এদের প্রায় সবাই তাদের এমন আলোচনায় রয়েছেন ছাত্রলীগের সাবেক দেড় ডজন নেতা। দলের কেন্দ্রীয় নেতারা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ২১তম সম্মেলনেও গুরুত্ব বজায় থাকবে ছাত্রলীগের। তারা বলেন, ছাত্রলীগের রাজনীতি থেকে উঠে আসা ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে পদায়নের মাধ্যমে মূল্যায়ন করা হয়। বরাবরের মতো এবারও ছাত্রলীগের সাবেক নেতাদের মাঝ থেকে নতুন মুখ আসতে পারে আওয়ামী লীগে।

নতুন মুখদের মধ্যে আলোচনায় যারা– ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মাঈনুদ্দিন হাসান চৌধুরী, বাহাদুর বেপারী, মাহমুদ হাসান রিপন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক অজয় কর খোকন, ফরহাদ হোসেন সংগ্রাম এমপি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাজ্জাদ হোসেন, শেখ সোহেল রানা টিপু, ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি মহিউদ্দিন হেলাল, শাহাবউদ্দিন ফরাজী, সাইফুদ্দিন আহমেদ নাসির, আবদুল মতিন, প্রশান্ত বড়ুয়া, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পনিরুজ্জামান তরুণ, সাবেক আন্তর্জাতিক সম্পাদক সালাহউদ্দিন মাহমুদ চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক খলিলুর রহমান খলিল, দপ্তর সম্পাদক কাজী নাছিম আল মাহমুদ রূপক, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জয়দেব নন্দী, সাবেক সদস্য মাজহারুল ইসলাম মানিক ও সাবেক সহ-সম্পাদক নুরুল আলম মিলন পাঠান। এছাড়াও আলোচনায় আছেন চট্টগ্রামের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সীমান্ত তালুকদারও।

এছাড়াও আলোচনায় রয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, বিদ্যুৎ ও জ¦ালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল, সংসদ সদস্য ইসরাফিল আলম ও নাহিম রাজ্জাক।

আওয়ামী লীগের বিগত সময়ের কেন্দ্রীয় কমিটিগুলো পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, দলটিতে কেন্দ্রীয় নেতা হিসেবে প্রবেশ করেন ছাত্রলীগ করা সাবেক নেতারাই। ২০০৯ সালে অনুষ্ঠিত ১৮তম সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটিতে সবচেয়ে বেশি রদবদল করা হয়। ওই সময়েই বেশিসংখ্যক ছাত্রলীগ নেতাকে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে স্থান দেওয়া হয়। ১৮ জন কেন্দ্রীয় নেতা হন যারা সরাসরি ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। অবশ্য তৃণমূল এবং আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন তাদের কয়েকজনও কেন্দ্রীয় পদে এসেছেন।

নেতারা বলেন, আওয়ামী লীগের নেতা হয় সম্মেলনের মাধ্যমে। আর বিগত কয়েকটি সম্মেলনে পদ দেওয়ার ড়্গেত্রে ছাত্রলীগের সাবেক নেতাদের মূল্যায়ন করা হচ্ছে। এবারের সম্মেলনের মাধ্যমেও সাবেক অনেক ছাত্রলীগ নেতা দায়িত্বে আসবেন। যারা আগামীতে দল ও দেশকে নেতৃত্ব দেবেন। ছাত্রনেতাদের মধ্যে সৎ, দুর্নীতিমুক্ত, দক্ষ সংগঠক, ত্যাগী, যোগ্য এবং দুঃসময়ে যারা দলের জন্য নিবেদিত হয়ে কাজ করেছেন তাদেরই আগামীতে দায়িত্বে আনা হবে।

আওয়ামী লীগ নেতারা বলেন, দলের প্রয়োজনে কৃষক লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের বিভিন্ন পদে দায়িত্বে থাকা যোগ্য, দক্ষ নেতাদেরও কেন্দ্রীয় কমিটিতে স্থান দেওয়া হবে। সহযোগী সংগঠনের নেতাদের মধ্যে যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদ, কৃষক লীগের সভাপতি মোতাহার হোসেন মোল্লা এবং মহিলা শ্রমিক লীগের সাবেক সভাপতি রওশন জাহান সাথীর নাম আলোচনা রয়েছে।

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য তোফায়েল আহমেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ছাত্রলীগ মানে রাজনীতির অঁাতুরঘর। এখান থেকে রাজনীতির হাতেখড়ি। ছাত্রলীগ নেতারা দলের আদর্শের প্রতি অনুগত থাকে। লড়াই সংগ্রামে ত্যাগে অগ্রভাগে থাকে। তাদের মধ্য থেকে সম্ভাবনাময় নেতারাই আওয়ামী লীগে ঢোকে।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান বলেন, মূলত ছাত্রলীগ থেকেই রাজনীতিটা করা শেখে। এখান থেকেই দক্ষতার, ত্যাগের, সংগ্রাম-লড়াইয়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয়। তিনি বলেন, তাই আওয়ামী লীগে ছাত্রলীগের সাবেক নেতাদের ঢোকার সম্ভাবনা বেশি হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত