চাঁদপুর শহরের প্রাণকেন্দ্রে জেলার শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ হাসান আলী সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আবারও বসেছে মাসব্যাপী বিজয়মেলা। চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক মাজেদুর রহমান খান ৬ ডিসেম্বর থেকে ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত এই মাঠে বিজয়মেলা করার অনুমোদন দেন।
মূল শহরে বিদ্যালয় মাঠে মেলা বসায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ব্যাঘাতের পাশাপাশি বৃদ্ধি পেয়েছে জনদুর্ভোগ। তবে জনভোগান্তি করে এই স্কুল মাঠে মেলা হোক চান না জেলার শীর্ষ মুক্তিযোদ্ধারাও। এ নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে বিজয়মেলা কমিটির একাধিক বৈঠকের পর মুজিববর্ষকে ঘিরে বিদ্যালয় মাঠে মেলার অনুমোদন দেওয়া হয়। যদিও আয়োজক কমিটি বলছেন, এবারই শেষবারের মতো এই বিদ্যালয় মাঠে মেলা করা হবে। কিন্তু চার বছর ধরেই ‘শেষবারের মতো’ বলে এই বিদ্যালয় মাঠে মেলা চলছে।
জনভোগন্তি কমাতে স্থানীয় সচেতন মহলের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় প্রশাসন ২০১৪ সালে এই বিজয়মেলা হাসান আলী স্কুল মাঠ থেকে সরিয়ে আরও বড় পরিসরে শহরের আউটার স্টেডিয়ামে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নিলেও তা আজও কার্যকর হয়নি।
৬ ডিসেম্বর মেলার উদ্বোধন হলেও এর অনেক আগে থেকেই স্কুলমাঠটি টিনের বাউন্ডারি দিয়ে প্রায় দেড় শ দোকান বসিয়ে দখল করা হয়। ফলে এই মাঠসংলগ্ন প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থীর জেলার শ্রেষ্ঠ হাসান আলী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টিও অন্ধকারে পড়ে গেছে। ৪ ডিসেম্বর থেকে এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ফাইনাল পরীক্ষা শুরু হয়েছে।
এই দুই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীসহ শহরের ছেলেদের খেলার একমাত্র মাঠটি এভাবে দখল থাকায় তাদের খেলাধুলাও বন্ধ থাকছে পুরো মাস। তা ছাড়া মেলার মাঠের পাশেই রয়েছে চাঁদপুর সরকারি মহিলা কলেজ ও মাতৃপীঠ সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়। এসব প্রতিষ্ঠানের হাজার হাজার শিক্ষার্থীর পড়াশোনা মেলার মাইকের শব্দে বিঘ্নিত হয়। মেলার কারণে দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত শহরের রাস্তায় সৃষ্টি হয় তীব্র যানজটের। মুক্তিযুদ্ধ বিজয়মেলার স্টিয়ারিং কমিটির সভাপতি ও জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার এম এ ওয়াদুদ বলেন, এখান থেকে মেলাটি সরিয়ে নেওয়া প্রয়োজন। আমরা এ বিদ্যালয় মাঠে শেষবারের মতো মেলাটি করব। জেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, স্কুল মাঠে মেলা করার ব্যাপারে সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকলেও মুক্তিযুদ্ধের সেন্টিমেন্টের কারণে কেউই এ বিষয়ে কথা বলতে চান না।
জেলা প্রশাসক মাজেদুর রহমান বলেন, পুলিশের সঙ্গে কথা বলে মেলার অনুমোদন দিয়েছি। এটি চাঁদপুরের ঐতিহ্যবাহী মেলা। অনেক আগে থেকেই হাসান আলী স্কুল মাঠে মেলাটি হয়ে আসছে। যেহেতু এটি কোনো সাধারণ মেলা নয়, তাই বিদ্যালয়ের মাঠেই মেলার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
