রাজশাহী পলিটেকনিকের অধ্যক্ষকে পুকুরে নিক্ষেপ

শাস্তি পেতে যাচ্ছেন ছাত্রলীগ নেতারা

আপডেট : ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯, ০২:৫৩ এএম

অধ্যক্ষকে লাঞ্ছিত এবং পুকুরে ফেলে দেওয়ার ঘটনায় রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ১৬ ছাত্রলীগ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ইনস্টিটিউটের একাডেমিক কাম প্রশাসনিক পরিষদের সভায় গত ৯ নভেম্বর এ সিদ্ধান্ত হয় বলে জানান ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ প্রকৌশলী ফরিদ উদ্দিন আহমেদ।

ফরিদ উদ্দিন বলেন, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে চারজনকে স্থায়ী বহিষ্কার, পাঁচজনের মূল সদন আগামী তিন বছর আটকে রাখা এবং অন্যদের টিসি দিয়ে অন্য কোনো ইনস্টিটিউটে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়। এসব সিদ্ধান্ত কার্যকরের জন্য কারিগরি শিক্ষা বোর্ডসহ সরকারের উচ্চ পর্যায়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে রাজশাহী পলিটেকনিকে রাজনৈতিক কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।

তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশে বলা হয়েছে, এ প্রতিষ্ঠানে ছাত্ররাজনীতি চলমান রেখে সুষ্ঠুভাবে একাডেমিক কার্যক্রম চালানো অসম্ভব। এ কারণে আগামী পাঁচ বছর এখানে ছাত্ররাজনীতি বন্ধের সুপারিশ করা হয়। এছাড়া ছাত্রলীগের টর্চারশেল হিসেবে পরিচিত ‘১১১৯’ নম্বর কক্ষটি ভেঙে ছাত্রদের কমনরুম বৃদ্ধিরও সুপারিশ করা হয়েছে।

মিডটার্মে ফেল এবং ক্লাসে অনুপস্থিত থাকা দুই শিক্ষার্থীকে চ‚ড়ান্ত পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দিতে অধ্যক্ষকে চাপ দেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এ নিয়ে গত ২ নভেম্বর কার্যালয়ে অধ্যক্ষের সঙ্গে তাদের কথা কাটাকাটি হয়। এর জের ধরে ওইদিন দুপুরে তাকে লাঞ্ছিত করে টেনেহিঁচড়ে ক্যাম্পাসের ভেতরের একটি পুকুরে ফেলে দেয় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। এ নিয়ে সারা দেশে শুরু হয় সমালোচনার ঝড়। এ ঘটনায় সাতজনের নাম উল্লেখসহ ৫৭ জনকে আসামি করে মামলা করেন অধ্যক্ষ।

ওই সময়ই ইনস্টিটিউটের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। গত ৯ নভেম্বর অনুষ্ঠিত একাডেমিক কাম প্রশাসনিক পরিষদের সভায় তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব মুস্তাফিজুর রহমান প্রতিবেদন দাখিল করেন। কমিটির দেওয়া প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে দোষী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণসহ বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ছাত্রত্ব বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে– হোতা ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, ২০১৫-১৬ সেশনের কম্পিউটার বিভাগের ৮ম পর্বের শিক্ষার্থী কামাল হোসেন ওরফে সৌরভ, একই সেশনের ইলেকট্রো মেডিকেল বিভাগের রায়হানুল ইসলাম, ২০১৭-১৮ সেশনের ইলেকট্রনিক্স বিভাগের ৫ম পর্বের ছাত্র মুরাদ হোসেন ও ২০১৮-১৯ সেশনের মেকানিক্যাল বিভাগের ৩য় পর্বের শিক্ষার্থী সাজিব হোসেনের। আর মূল সনদসহ অন্যান্য কাগজপত্র তিন বছরের জন্য আটকে রাখার সুপারিশ করা হয়েছে ২০১৫-১৬ সেশনের ইলেকট্রিক্যাল বিভাগের কৌশিক জামান ওরফে বনি, ইলেকট্রো-মেডিকেল বিভাগের সালমান রহমান ওরফে টনি, পাওয়ার বিভাগের সাব্বির আহম্মেদ, মেকাট্রনিক্স বিভাগের হাসিবুল হাসান ও কম্পিউটার বিভাগের মারুফ হোসেনের। এ ছাড়া ২০১৫-১৬ সেশনের পাওয়ার বিভাগের ৬ষ্ঠ পর্বের নাঈম ইসলাম, ২০১৬-১৭ সেশনের ইলেকট্রনিক্স ৭ম পর্বের প্লাবন কুমার কুণ্ডz, মেকাট্রনিক্স ৭ম পর্বের মেহেদী মাহমুদ, মেকানিক্যাল বিভাগের ৭ম পর্বের মহেদি হাসান, ২০১৭-১৮ সেশনের ইলেকট্রনিক্স বিভাগের ৫ম পর্বের ওমর আজিজ, ২০১৮-১৯ সেশনের ৩য় পর্বের কম্পিউটার বিভাগের মাহবুবুর রহমান ও পাওয়ার ৩য় পর্বের মাসুদ রানা মীমকে টিসি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

অধ্যক্ষ বলেন, ‘বর্তমানে এখানকার শিক্ষার পরিবেশ শান্তিপূর্ণ। সার্বিক নিরাপত্তার জন্য সার্বক্ষণিক পুলিশি পাহারার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেই সঙ্গে বিনা পোশাকে কাউকে ক্যাম্পাসে প্রবেশের বিষয়েও কঠোরতা অবলম্বন করা হচ্ছে।’

রাজশাহী মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার গোলাম রুহুল কুদ্দুস জানান, মামলাটি প্রথমে চন্দ্রিমা থানা পুলিশ তদন্ত করছিল। পরে ডিবিতে স্থানান্তর করা হয়। এ ঘটনার হোতা সৌরভসহ এজাহারভুক্ত পাঁচজন কারাগারে আছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত