প্রকৃত রাজাকারদের তালিকা প্রকাশের দাবি জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, রাজাকারদের তালিকা করা হয়েছে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে। বিএনপিকে হেয় করতে এই তালিকা। অথচ আওয়ামী লীগে অনেক রাজাকার আছে। তাদের নাম তালিকায় নেই।
মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে গতকাল সোমবার শেরেবাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পর সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানান মির্জা ফখরুল। গত রবিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নথি
পর্যালোচনা করে প্রথম ধাপে ১০ হাজার ৭৮৯ জন রাজাকারের তালিকা প্রকাশ করেছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়। সেই তালিকায় জিয়াউর রহমানের সময়কার মন্ত্রীসহ বিএনপির অনেকের নাম আছেÑ এমন প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, এই সরকার নিজের রাজনৈতিক প্রয়োজনে হীন উদ্দেশ্য নিয়ে তালিকা তৈরি করেছে। বিএনপিকে হেয় প্রতিপন্ন করতে এই তালিকা প্রকাশ করেছে। তালিকা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিচার না করে ৪৯ বছর পর প্রকাশ করেছে, তা কতটুকু সঠিক হয়েছে, তা এখনই বলা সম্ভব নয়।
অন্য এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এই তালিকা করা হয়েছে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে। জনগণের পক্ষ থেকে আমরা দাবি করছি, যাচাই-বাছাই করে প্রকৃত তালিকা তৈরি করা হোক। সেটা একমাত্র মুক্তিযোদ্ধারাই করতে পারেন। জিয়াউর রহমানের দলই সেটা করতে পারে।
তিনি বলেন, স্বাধীনতাযুদ্ধ আমরা করেছিলাম একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার জন্য। গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থার জন্য। আজ ৪৯ বছর পরে অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে বলতে হয়, আমাদের সেই চেতনাগুলো হরণ করা হয়েছে, ধ্বংস করা হয়েছে মানুষের স্বপ্নগুলো।
মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা শ্রদ্ধা নিবেদন করেছি স্বাধীনতার ঘোষক, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের প্রতি এবং স্বাধীনতাযুদ্ধে যে সব শহীদ আত্মত্যাগ করেছেন তাদের প্রতি। আমরা আরও শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে, যাকে অন্যায়ভাবে কারাবন্দী করে রাখা হয়েছে। তিনি ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে বন্দি হয়েছেন। আমরা শপথ নিয়েছি, জনগণকে সংগঠিত করে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করব এবং গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনব।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আবদুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টাম-লীর সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক, আবদুস সালাম, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপি, যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নীরব, সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, কৃষক দলের সদস্য সচিব কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিনসহ ছাত্রদল, যুবদল স্বেচ্ছাসেবক দল, কৃষকদলের বিভিন্ন স্তরের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী।
