রাষ্ট্রদ্রোহ ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় রিমান্ড শেষে দৈনিক সংগ্রামের সম্পাদক আবুল আসাদকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। রিমান্ডে নিয়ে তিন দিন জিজ্ঞাসাবাদ শেষে গতকাল বুধবার আবুল আসাদকে পুলিশ আদালতে হাজির করলে ঢাকার মহানগর হাকিম বাকী বিল্লাহ এ আদেশ দেন। এদিন সংগ্রাম সম্পাদকের পক্ষে জামিন আবেদন করা হলেও বিচারক তা নাকচ করে দেন। যুদ্ধাপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরহওয়া ‘মিরপুরের কসাই’খ্যাত কাদের মোল্লাকে ‘শহীদ’ লেখার ঘটনায় সংগ্রাম সম্পাদক আবুল আসাদসহ পত্রিকাটির বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করা হয়।
একাত্তরে যুদ্ধাপরাধের দায়ে ২০১৩ সালের ১২ ডিসেম্বর ফাঁসি কার্যকর করা হয় কাদের মোল্লার। সেই দিনের স্মরণে গত বৃহস্পতিবার জামায়াতে ইসলামীর মুখপত্র হিসেবে পরিচিত দৈনিক সংগ্রামের প্রথম পাতায় একটি প্রতিবেদন ছাপা হয়, যার শিরোনাম ছিল ‘শহীদ আবদুল কাদের মোল্লার ৬ষ্ঠ শাহাদাত বার্ষিকী আজ’। আবুল আসাদকে ওইদিন রাতেই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হাতিরঝিল থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। পরে ৩৬ নম্বর ওয়ার্ড মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোহাম্মদ আফজাল ওই থানায় দণ্ডবিধির রাষ্ট্রদ্রোহের ধারা ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেন। এতে আবুল আসাদ ছাড়াও পত্রিকাটির প্রধান প্রতিবেদক বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের একাংশের সভাপতি রুহুল আমিন গাজী এবং বার্তা সম্পাদক সাদাত হোসেনসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৬-৭ জনকে আসামি করা হয়।
আবুল আসাদকে গ্রেপ্তারের পরদিন তাকে আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। সেই রিমান্ড শেষে গতকাল তাকে ঢাকার হাকিম আদালতে হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হাতিরঝিল থানার পরিদর্শক গোলাম আযম।
রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার অনুমোদন : দৈনিক সংগ্রামের সম্পাদক, বার্তা সম্পাদক ও প্রধান প্রতিবেদকের বিরুদ্ধে দায়ের করা রাষ্ট্রদ্রোহের মামলাটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পেয়েছে বলে জানিয়েছেন হাতিরঝিল থানার ওসি আবদুর রশিদ।
রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা বিচারের জন্য সরকারের অনুমোদন নিতে হয়। সে অনুযায়ী মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোহাম্মদ আফজালের করা মামলাটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছিল। সেই অনুমোদন পাওয়ার পর গতকাল বিকেলে হাতিরঝিল থানায় মামলাটি রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয় বলেও জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
