রড দিয়ে পিটিয়ে সাংবাদিকের দুই পা ভাঙল সন্ত্রাসীরা

আপডেট : ২০ ডিসেম্বর ২০১৯, ০২:৫৯ এএম

জামালপুরে রড দিয়ে পিটিয়ে শেলু আকন্দ (৫০) নামে স্থানীয় এক সাংবাদিকের দুই পা ভেঙে দিয়েছে সন্ত্রাসীরা। গত বুধবার রাতে জামালপুর শহরের দেওয়ানপাড়ায় ব্রহ্মপুত্র নদের শহর রক্ষাবাঁধ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত শেলু আকন্দকে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) ভর্তি করা হয়েছে। সম্প্রতি জামালপুরের এক সাংবাদিকের ওপর হামলা মামলার সাক্ষী শেলু ওই মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে সাক্ষী দেওয়ায় হামলার শিকার হয়েছেন বলে ধারণা 

করা হচ্ছে।

জামালপুর শহরের দেওয়ানপাড়া এলাকার বাসিন্দা শেলু জামালপুর থেকে প্রকাশিত দৈনিক ‘পল্লীকণ্ঠ প্রতিদিন’-এর নিজস্ব প্রতিবেদক। তার ওপর হামলায় জড়িত অভিযোগে গত বুধবার গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে রাকিব খান (২৮) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রাকিব জামালপুর জেলা ছাত্রলীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক। তিনি জামালপুর পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হাসানুজ্জামান খানের ছেলে।

আহত শেলু আকন্দ ও তার পরিবারের সদস্যরা দেশ রূপান্তরকে জানান, গত ২৮ মে জামালপুর সদর সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে কাউন্সিলর হাসানুজ্জামান খানের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী কালের কণ্ঠের জামালপুর প্রতিনিধি মোস্তফা মঞ্জুকে মারধর করে। ওই হামলার ঘটনায় করা মামলার প্রধান সাক্ষী ছিলেন শেলু আকন্দ। সাক্ষী হওয়ার কারণে হাসানুজ্জামান খান ও তার ছেলে রাকিব খান শেলু আকন্দকে হুমকি দিয়ে আসছিলেন। এরই জেরে বুধবার রাত ১০টার দিকে দেওয়ানপাড়া সদর ভূমি অফিসের পেছনের রাস্তায় রাকিব খানের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী শেলুকে রড দিয়ে পেটাতে থাকে। মারধরে তার দুই পা হাঁটুর নিচ থেকে ভেঙে গেছে। হামলাকারীরা তাকে মৃত ভেবে ফেলে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। উন্নত চিকিৎসার জন্য সেখান থেকে গতকাল দুপুরে তাকে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে পাঠানো হয়।

আহত শেলুর ভাষ্য, কাউন্সিলর হাসানুজ্জামান খান রুনুর ছেলে রাকিব খান, শহরের দেওয়ানপাড়ার প্রয়াত রসুল মাহমুদ খানের ছেলে তুষার খান ও তুহিন খান এবং প্রয়াত সুনু খানের ছেলে স্বজন খান তার ওপর হামলায় অংশ নেয়। হামলাকারীরা সবাই সাংবাদিক মোস্তফা মঞ্জুর ওপর হামলা মামলার আসামি। এর মধ্যে তুষার খান, তুহিন খান ও স্বজন খান মোস্তফা মঞ্জুর মামলায় গত ১২ জুন আদালতে হাজিরা দিতে গিয়ে জামিন নামঞ্জুর হলে কয়েক দিন হাজত খাটেন। এছাড়া একই মামলায় বেশ কয়েক দিন জেল খেটেছেন কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা হাসানুজ্জামান খান রুনু।

শেলু বলেন, ‘হামলার সময় তারা (হামলাকারীরা) আমাকে বারবার বলেছে, এখন সাক্ষী দিতে যাবি না।’

শেলুর ওপর হামলার ঘটনায় গতকাল বিকেলে তার ভাই মো. দেলোয়ার হোসেন আকন্দ বাদী হয়ে কাউন্সিলর হাসানুজ্জামান রুনু খান এবং তার ছেলে রাকিব খান ও তুষার খানসহ ছয়জনকে আসামি করে জামালপুর সদর থানায় হত্যাচেষ্টার মামলা করেছেন।

জামালপুর সদর থানার ওসি মো. সালেমুজ্জামান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘পুলিশ বুধবার রাতেই অভিযান চালিয়ে কাউন্সিলর হাসানুজ্জামান খান রুনুর ছেলে রাকিব খানকে গ্রেপ্তার করেছে। এছাড়া অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত