জাতীয় সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান হিসেবে গোলাম মোহাম্মদ (জিএম) কাদেরের নিয়োগ নিয়ে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট।
জাপার গঠনতন্ত্র অবজ্ঞা করে তাকে ওই পদে নিয়োগ দেওয়া কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না রুলে তা জানতে চাওয়া হয়েছে।
জাপার এক কর্মীর করা রিট আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে মঙ্গলবার বিচারপতি জেবিএম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের অবকাশকালীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করে।
নির্বাচন কমিশন (ইসি) ও জিএম কাদেরকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আবদুল মতিন খসরু। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. নুর-উস-সাদিক।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জানান, জাপার গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দলের সাংগঠনিক কোনো পদে আসতে চাইলে কাউন্সিলের মাধ্যমে আসতে হবে। কিন্তু জিএম কাদেরের ক্ষেত্রে এই নিয়ম অনুসরণ করা হয়নি। এ বিষয়ে রিটকারী ইসিতে আবেদন করেছিলেন। সেখানে সাড়া না পেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন।
গত ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে জাপার তৎকালীন চেয়ারম্যান প্রয়াত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ তার ছোট ভাই ও দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য জিএম কাদেরকে দলের কো-চেয়ারম্যান ঘোষণা করেছিলেন। গত ২১ মার্চ রাতে আকস্মিকভাবে কাদেরকে ওই পদ থেকে সরিয়ে দেন এরশাদ।
এরপর ৪ এপ্রিল আবার কো-চেয়ারম্যান পদে ফিরিয়ে আনেন এরশাদ। তবে ৫ মে তাকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা দেন তিনি। গত ১৪ জুলাই ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে এরশাদ মৃত্যুবরণ করেন।
পরে ১৮ জুলাই বনানীতে দলের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে জিএম কাদেরকে দলের চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা করেন মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গা। ওই ঘোষণার প্রেক্ষিতে প্রথমে বিরোধিতা করলেও পরে তা মেনে নেন এরশাদপত্নী রওশন এরশাদ।
গত ৮ সেপ্টেম্বর দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দলের চেয়ারম্যান হিসেবে জিএম কাদের আর জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে রওশন এরশাদ দায়িত্ব পালন করবেন।
