সংবাদ সম্মেলনে ফখরুল

বাংলাদেশকে ডাম্পিং গ্রাউন্ড করতে ভারতকে সহযোগিতা

আপডেট : ২৭ ডিসেম্বর ২০১৯, ০২:৩১ এএম

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করে বলেছেন, বাংলাদেশকে ডাম্পিং গ্রাউন্ড করতে ভারতকে সহযোগিতা করছে সরকার। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।

এ সময় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যকে ‘ভারত তোষণনীতি’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, তার বক্তব্য কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। তিনি মূলত ভারতের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র রবিশ কুমারের বর্ধিত দায়িত্ব পালন করেছেন। ভারত থেকে বাংলাদেশ কেউ এলে তারা যদি বাংলাদেশের নাগরিক না হয় তবে তাদের ফেরত পাঠানো হবে– পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে প্রমাণ হয়, ভারত থেকে বাংলাদেশে পুশ ইন হচ্ছে। সরকার এটা স্বীকার করে নিচ্ছে। ভারত বিতর্কিত নাগরিকত্ব বিল পাস করে বাংলাদেশকে একটা ডাম্পিং স্টেশন বানাতে চায়। যেভাবে মিয়ানমার থেকে ১১ লাখ রোহিঙ্গা এসে বাংলাদেশকে অনিশ্চয়তার মাঝে ফেলেছে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ওবায়দুল কাদের ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও ভারতের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র রবিশ কুমার বাংলাদেশ, বিএনপি ও বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী খালেদা জিয়ার সরকার সম্পর্কে যে বক্তব্য রেখেছেন তা সর্বৈব মিথ্যা, ভিত্তিহীন, বৈষম্যমূলক ও ধর্মীয় বিভক্তি সৃষ্টিকারী। শুধু তাই নয়, বিষয়টি দুই দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে সংকীর্ণ সুবিধা লাভের ঘৃণ্য কৌশলমাত্র। তিনি বলেন, বিএনপি ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানায়। একই সঙ্গে আশা করে, সামনের দিনে আওয়ামী লীগ দেশের স্বার্থবিরোধী কোনো কথা বলা থেকে বিরত থাকবে। বিএনপি মহাসচিব বলেন, ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর বক্তব্য মেনে নিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক স্বীকার করে নিয়েছেন, ’৭১-পরবর্তী শেখ মুজিবুর রহমানের সরকার ও বর্তমান অবৈধ ভোটারবিহীন সরকারের সময়ে সংখ্যালঘু নির্যাতন হয়েছে। ওবায়দুল কাদের অমিত শাহর বক্তব্য সমর্থন করে ভারতের তোষামোদি করেছেন, তাদের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করছেন। আওয়ামী লীগ কখনো বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থে কাজ করে না অভিযোগ করে তিনি বলেন, তারা ভারতকে খুশি করতে সবসময় প্রস্তুত। ওবায়দুল কাদেরের কথায় দেশের মানুষ এটা বুঝতে পারছে আওয়ামী লীগের কাছের দেশের জনগণের স্বার্থ নয়, ক্ষমতাই বড়। তারা যেকোনো উপায়ে ক্ষমতায় থাকতে বিদেশি প্রভুদের খুশি করতে সদা প্রস্তুত।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বরচন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, ড. আবদুল মঈন খান, বেগম সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন প্রমুখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত