বাবার দয়ায় পদত্যাগের পরও ১৬ মাস বেতন নিয়েছেন মাদ্রাসা শিক্ষক!

আপডেট : ২৮ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৬:২৬ পিএম

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার ভবানীপুর ছেফাতিয়া কামিল মাদ্রাসার বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মঞ্জুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পেয়েছে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর।

মঞ্জুরুল ইসলাম ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা নূরল ইসলামের ছেলে। বাবার বদৌলতে তিনি পদত্যাগ করার পরও ১৬ মাস মাদ্রাসা থেকে বেতর তুলেছেন।

বৃহস্পতিবার ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্ত শেষে বাবা-ছেলের যোগসাজশে অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে নিশ্চিত করেন মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিদর্শক ও তদন্ত কর্মকর্তা মুহম্মদ হোসাইন।

মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিদর্শক ও তদন্ত কর্মকর্তা মুহম্মদ হোসাইন বলেন, ওই মাদ্রাসার বাংলা বিভাগে মঞ্জুরুল ইসলাম ২০০৯ সালের ৯ জুন সহকারী অধ্যাপক হিসেবে যোগদান করেন। ২০১০ সালে হাতীবান্ধা সরকারি আলিমুদ্দিন ডিগ্রি কলেজেও প্রভাষক পদে যোগদান করেন। তিনি দুই প্রতিষ্ঠান থেকে নিয়মিত বেতন-সম্মানী উত্তোলন করে আসছিলেন। পরে ২০১৮ সালের ১ আগস্ট ভবানীপুর ছেফাতিয়া কামিল মাদ্রাসার সহকারী অধ্যাপক পদ থকে পদত্যাগ করেন তিনি। পদত্যাগ করলেও ওই মাদ্রাসা থেকে ১৬ মাস ধরে মাসিক প্রায় ৩৭ হাজার টাকা করে নিয়মিত বেতন উত্তোলন করে আসছেন মঞ্জুরুল ইসলাম।

তিনি আরো বলেন, তার বাবা মাওলানা নূরল ইসলাম ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ। বাবা-ছেলে মিলে চাকরি বিধি লঙ্ঘন করে এভাবে টাকা আত্মসাৎ করে আসছেন। অধ্যক্ষ নুর ইসলাম অসুস্থ হয়ে পড়লে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ফেরদৌস আহম্মেদও ওই অধ্যাপককে অবৈধভাবে টাকা উত্তোলনে সহযোগিতা করেন। এমন একটি অভিযোগ দুর্নীতি দমন কমিশনে আসে।

তিনি জানান, দুর্নীতি দমন কমিশন তদন্ত করে প্রতিবেদন চেয়ে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরকে পত্র দেয়। ওই পত্রের আলোকে তদন্ত করে সহকারী অধ্যাপক মঞ্জুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে কয়েক লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে।

অভিযুক্ত সহকারী অধ্যাপক মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, আমি ভবানীপুর ছেফাতিয়া কামিল মাদ্রাসার সহকারী অধ্যাপক পদ থকে পদত্যাগ করেছি। ওই দিনেই আবার পদত্যাগপত্র প্রত্যাহারের জন্য আবেদনও করেছি। আমার বাবা অসুস্থ থাকায় বিষয়টি মানবিক বিবেচনায় দেখা উচিত।

অসুস্থ থাকায় ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা নূরল ইসলামের বক্তব্য জানা যায়নি।

 

ভবানীপুর ছেফাতিয়া কামিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ফেরদৌস আহেম্মদ বলেন, সহকারী অধ্যাপক মঞ্জুরুল ইসলামের বাবা নুর ইসলাম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ। তিনি আগে থেকেই মঞ্জুরুল ইসলামকে বেতন দিয়ে আসছেন। পরিস্থিতির শিকার হয়ে আমিও বেতন দিয়ে আসছি।

মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি ওয়াছেক খানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কিছুই জানেন না বলে দাবি করেন।

হাতীবান্ধা সরকারী আলিমুদ্দিন কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সামসুল আলম বলেন, মঞ্জুরুল ইসলাম দুই প্রতিষ্ঠান থেকে বেতন-সম্মানি তুলছেন। বিষয়টি জানার পর গত ৬ মাস আগেই আমি তার বেতন বন্ধ করে দিয়েছি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত