বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা

মিয়ানমারের বিরুদ্ধে জাতিসংঘে নিন্দা প্রস্তাব পাস

আপডেট : ২৯ ডিসেম্বর ২০১৯, ০১:৫৬ এএম

রোহিঙ্গা মুসলমান ও অন্য সংখ্যালঘুদের গ্রেপ্তার, নির্যাতন, ধর্ষণ, হেফাজতে মৃত্যুসহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে একটি নিন্দা প্রস্তাব গ্রহণ করেছে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ। গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সংস্থাটির ৭৪তম অধিবেশনে এ প্রস্তাব পাস হয়। গতকাল শনিবার জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়।

এতে বলা হয়েছে, ইসলামি সহযোগী সংস্থা (ওআইসি) এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন যৌথভাবে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে এই প্রস্তাব তোলে। প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয় ১৩৪ দেশ, বিপক্ষে ভোট দেয় ৯ দেশ। ভোটদানে বিরত ছিল ২৮ দেশ। এর আগে ১৪ নভেম্বর থার্ড কমিটিতেও বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় প্রস্তাবটি পাস হয়।

নিরাপত্তা চৌকিতে বিদ্রোহী হামলার অভিযোগ তুলে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান শুরু করে দেশটির সেনাবাহিনী। এ সময় সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে হত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগসহ নানা অভিযোগ ওঠে। প্রাণে বাঁচতে প্রতিবেশী বাংলাদেশে পালিয়ে আশ্রয় নেয় ৭ লাখের বেশি রোহিঙ্গা মুসলিম। এ ঘটনার পর এ পর্যন্ত মিয়ানমারের বিরুদ্ধে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে তিনবার নিন্দা প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

রোহিঙ্গা গণহত্যার অভিযোগে সম্প্রতি মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) মামলা করেছে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়া। ইতিমধ্যে এই মামলার পক্ষে বিপক্ষে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরেছেন গাম্বিয়ার আইনমন্ত্রী আবু বকর মারি তামবাদু ও মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর শান্তিতে নোবেলজয়ী অং সান সু চি। স্থায়ী মিশনের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সাধারণ পরিষদের এই প্রস্তাব আইসিজে ও আইসিসিসহ চলমান বিচার ও জবাবদিহির উদ্যোগকে আরও জোরদার করবে।

এদিকে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপির বরাত দিয়ে বিবিসি বাংলার খবরে বলা হয়েছে, নিন্দা প্রস্তাব গ্রহণের পাশাপাশি রোহিঙ্গা ও অন্য সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে উত্তেজনা প্রশমনে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মিয়ানমার সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে প্রথমবারের মতো রোহিঙ্গা সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে মিয়ানমারের যুদ্ধাপরাধ তদন্ত করে দেখার জন্য তহবিল বরাদ্দ করেছে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ। ৩০৭ কোটি ডলারের এই তদন্ত তহবিলে প্রথমবারের মতো সিরিয়া ও মিয়ানমারকে অন্তর্ভুক্ত করেছে জাতিসংঘ।

এই প্রস্তাব অনুমোদনের পর জাতিসংঘে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত হাও দো সুয়ান একে ‘মানবাধিকার লঙ্ঘনের নামে আরেকটি বৈষম্যমূলক ও বিশেষভাবে বাছাই করার দ্বৈত আচরণ’ বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, এই প্রস্তাবটি রাখাইন রাজ্যে জটিল পরিস্থিতি সমাধানে কোনো ভূমিকা রাখবে না। তবে এএফপির খবরে বলা হয়েছে, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে পাস হওয়া কোনো প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট দেশটি মানতে বাধ্য না হলেও বিশ্ব মতামতের ক্ষেত্রে এ ধরনের প্রস্তাব প্রভাব ফেলে থাকে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত