পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত ও অফিস ট্রেইনারকে শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল শনিবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলা প্রশাসনিক ভবনে ভুক্তভোগী ওই কর্মকর্তার কার্যালয়ে ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় তিন জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত পরিচয় আরও ৫/৬ জনকে আসামি করে মামলা করেন ওই অফিস ট্রেইনার।
অভিযুক্তরা হলেন উপজেলার কোড়ালীয়া গ্রামের নজরুল হাজির ছেলে মাহমুদ হাসান, ভূইয়াকন্দা গ্রামের খোকন ভূইয়ার
ছেলে বনি আমিন, বাহেরচর গ্রামের আলী আকবর ডাক্তারের ছেলে মনিরুল ইসলাম।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, কিশোর-কিশোরী ক্লাব স্থাপন প্রকল্পের অধীনে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার আওতায় জেন্ডার প্রোমোটার পদে স্থানীয় প্রভাবশালীদের তদবিরে এক তরুণীকে ওই অফিসে নিয়োগ দেওয়া হয়। শনিবার তার যোগদানের দিন ওই মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়ান তরুণীর স্বজনরা। একপর্যায়ে ওই কর্মকর্তার কার্যালয়ের লোকদের বিভিন্নভাবে হুমকি দেন তারা। পাশাপাশি আরও কয়েকজন যুবককে ডেকে এনে ওই কর্মকর্তাকে তার রুমে আটকে রেখে লাঞ্ছিত করেন অভিযুক্তরা। এসময় ওই অফিসের ট্রেইনারকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও শ্লীলতাহানির চেষ্টাও করেন তারা।
কার্যালয়ে উপস্থিত প্রশিক্ষণার্থীদের অনেকেই দেশ রূপান্তরকে জানান, হঠাৎ করে পাঁচ/ছয় জন লোক এসে অফিসের তিনটি দরজা আটকে দেন। এরপর মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ও অফিস ট্রেইনারকে আলাদা দুটি কক্ষে নিয়ে যান। পরে কক্ষ আটকে দিয়ে ট্রেইনারকে অশ্লীল ভাষায় গালি দিতে থাকেন তারা। এসময় ওই ট্রেইনার তার মোবাইল হাতে নিলে সেই মোবাইলটিও কেড়ে নেওয়া হয়। এর কিছুক্ষণ পর ওই ট্রেইনারকে কাঁদতে কাঁদতে কক্ষ থেকে বের হতে দেখা গেছে।
লাঞ্ছনার শিকার ওই উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘পরীক্ষায় ও ভাইভায় অংশ না নিয়েও ওই প্রার্থী কীভাবে চাকরিতে নিয়োগ পেলেন, সেটি আমি জানি না। এ বিষয়টি জেরা করতে গিয়েই আমার সঙ্গে দ্বন্দ্বটি হয়েছে।’
রাঙ্গাবালী থানার ওসি আলী আহম্মেদ বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
রাঙ্গাবালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাশফাকুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমি ঘটনাটি শুনেছি। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। এ ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
