বরিশালে সিইসি

ঢাকার দুই সিটিতে ত্রুটিমুক্ত নির্বাচন করতেই ইভিএম

আপডেট : ২৯ ডিসেম্বর ২০১৯, ০২:০৭ এএম

ঢাকার দুই সিটিতে ‘ত্রুটিমুক্ত’ নির্বাচন করতেই ইভিএমে (ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন) ভোটগ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা। তিনি আরও বলেন, এ নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের দরকার নেই; পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি যথেষ্ট। গতকাল শনিবার বরিশাল আঞ্চলিক নির্বাচন কার্যালয়ে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন সিইসি।

দু’দিনের ব্যক্তিগত সফর শেষে সিইসি গতকাল বরিশাল থেকে ঢাকায় ফেরার আগে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নির্বাচন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ঢাকার দুই সিটি নির্বাচন ইভিএম পদ্ধতিতে হবেÑএটা সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে। ত্রুটিমুক্ত নির্বাচন করার জন্যই ইভিএম ব্যবহার করা হবে। ইভিএমের মাধ্যমেই ত্রুটিমুক্ত নির্বাচন সম্ভব। এ কারণেই ইভিএম পদ্ধতি বেছে নেওয়া হয়েছে।’

নূরুল হুদা বলেন, ‘ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনই নয়, পরবর্তী সময়ে দেশের সব পর্যায়ের নির্বাচনে ইভিএম পদ্ধতি প্রচলনের চিন্তাভাবনা রয়েছে। তবে কত সময়ের মধ্যে এই পদ্ধতি বাস্তবায়ন করা যাবে সেটা একটা চিন্তার বিষয়।’

ড. বদিউল আলম মজুমদারসহ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইভিএম ত্রুটিযুক্ত পদ্ধতি এবং এই পদ্ধতি বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত দেশ বাতিল করে দিয়েছে। তারপরও নির্বাচন কমিশন কেন এই পদ্ধতির দিকে ঝুঁকছেÑ এ প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, ড. বদিউল আলমকে তিনি নির্বাচন বিশেষজ্ঞ মনে করেন না। তিনি আরও বলেন, ‘ইভিএম পদ্ধতি স্বচ্ছ। এই পদ্ধতিতে একের অধিক ভোট দেওয়ার সুযোগ নেই। একের ভোট অন্য কেউও দিতে পারে না।’

ঢাকার দুই সিটি নির্বাচন প্রসঙ্গে সিইসি বলেন, ঢাকার দুই সিটি নির্বাচন স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু হবে আশা করে কমিশন। স্বচ্ছ নির্বাচনের পূর্বশর্ত প্রতিযোগিতামূলক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন। সব রাজনৈতিক দল অংশ নিলে ঢাকার নির্বাচনও সুষ্ঠু হবে বলে মনে করেন তিনি।

ঢাকা সিটি নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের কোনো পরিকল্পনা আছে কি না জানতে চাইলে সিইসি বলেন, ‘এই নির্বাচনে সেনাবাহিনী দরকার নেই। এই নির্বাচন পরিচালনায় পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি যথেষ্ট। তাদের সেই সামর্থ্য এবং যোগত্যা আছে।’

বিগত নির্বাচনগুলোতে কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি কম থাকার কারণ জানতে চাইলে সিইসি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে আহ্বানকারী। তবে প্রার্থী কিংবা প্রতিদ্বন্দ্বীদের দায়িত্ব ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া। কোনো কোনো নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হয় না। বড় বড় রাজনৈতিক দল বা বিরোধী দলগুলো নির্বাচনে যায় না। তখন ভোটারদের মাঝে অনীহার সৃষ্টি হয়। ওই দলগুলোর সমর্থক ভোটাররা কেন্দ্রে যান না।’

ভোটারদের আস্থাহীনতা কমাতে কমিশন কী করবেÑ এ প্রশ্নের জবাবে নূরুল হুদা বলেন, ‘কমিশন জনগণকে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান করবে। ভোট পদ্ধতিতে ত্রুটি কখনো ছিল না এবং এখনো নেই।’

বরিশাল আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিনের সভাপতিত্বে সভায় বক্তারা জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন পদ্ধতির সংস্কার করে দ্রুত সময়ের মধ্যে জনগণকে নির্ভুল জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদানে সিইসির কাছে বেশ কিছু সুপারিশমালা তুলে ধরেন। এর জবাবে সিইসি জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন পদ্ধতি সংস্কার করে সহজসাধ্য করার আশ্বাস দেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত