বাবার মৃত্যুর পর দুই ভাই ও প্রতিবন্ধী মাকে নিয়ে বেঁচে থাকার জন্য চানাচুর, ঝালমুড়ি বিক্রিতে নামতে হয় তাকে। একে একে ১২-১৩ ধরনের ব্যবসায় নিজেকে যুক্ত করেছেন। কখনো হার মানেননি। এখন তার পরিবারে যুক্ত হয়েছে স্ত্রী-সন্তানও। তবু অনমনীয় সুমন।
জীবনযুদ্ধে তিনি হারতে চান না।
জীবিকার প্রয়োজনে অন্য জেলায় বাড়ি হলেও মাদারীপুরে বাসা ভাড়া নেন। বর্তমানে হরেক মালের ব্যবসায় নেমেছেন সুমন হোসেন।
সুমন খুলনা জেলার রূপসা থানার ঝাপসা গ্রামের মৃত মালেক হোসেনের ছেলে।
মাদারীপুরের গ্রাম, সুমনের ভ্রাম্যমাণ হরেক মালের ভ্যানে গেলে দেখা যায়, ১০ টাকার লবণের বাটি থেকে শুরু করে তিন হাজার টাকার ৩৬ পিসের ডিনার সেট রয়েছে। রয়েছে শিশুদের বই, খেলনাসহ বিভিন্ন খাবার রাখার জিনিস। সুমন একটি হ্যান্ডমাইকে ডাক দেন, ‘আসুন আসুন, হরেক রকমের মালামাল। আপনার পরিবার বা সংসারের জন্য সব জিনিসপত্র অল্প দামে কিনতে পারবেন’।
তিনি আরো বলতে থাকেন, ‘টাকা ছাড়া আপনার পুরোনো নষ্ট মোবাইল দিয়েও কিনতে পারবেন হরেক রকমের জিনিসপত্র। একটি অ্যান্ড্রয়েড নষ্ট মোবাইল দিয়ে একটি বড় বালতি পেতে পারেন। নিতে পারেন আপনার পছন্দের জিনিসপত্র’।
সুমন জানান, প্রতিদিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত প্রায় চার-পাঁচ হাজার টাকা বিক্রি হয় তার। এতে পাঁচ-সাত শ টাকা লাভ হয়। যা দিয়ে এখন সুমনের সংসার ভালোই চলছে’।
ক্রেতা রাখি হাসান জানান, এই হরেক মালের দোকান বাড়ির পাশে আসায় আমাদের অনেক উপকার হয়েছে। টুকিটাকি কিনতে হলেও বাজারে যেত হতো আগে। সেটা এখন আর যেতে হচ্ছে না। তা ছাড়া বাজারের দামের চেয়ে এই ভাসমান দোকানে দামও কম।
সুমন হোসেন জানান, ‘আমি ছোট বেলা থেকেই বিভিন্ন ব্যবসা করে আসছি। যখন আমার বাবা মারা যান তখন থেকে মাত্র কয়েক শ টাকা নিয়ে ব্যবসায় আসি। চানাচুর, ঝালমুড়ি, কাঁচামালের ব্যবসাসহ ১২-১৩ ধরনের ব্যবসা করেছি। আমার ঘরে একজন প্রতিবন্ধী মা রয়েছেন। দুই ভাই, আমি আমার স্ত্রী ও দুই সন্তান রয়েছে’।
সুমন বলেন, ‘আমি গত ১৩ বছর মাদারীপুরে থাকি, আমি বিভিন্ন গাড়িতে, লঞ্চে ফেরি করে মালামাল বিক্রি করে সংসার চালিয়েছি। কিন্তু গত ৭-৮ বছর হরেক মাল বিক্রি করে আগের চেয়ে অনেক ভালো আছি। মাসে নিজ সংসার, মা ও ভাই, সন্তানদের খরচ দিয়ে কিছু টাকাও রাখতে পারছি। তাই এই ব্যবসাই করছি’।
সুমন আরো জানান, আমি বিভিন্ন জেলার এলাকায় ব্যবসা করার জন্য গিয়েছি। কিন্তু কোনো চাঁদা, হয়রানি ছাড়া ব্যবসা করতে পারছি মাদারীপুরে। মাদারীপুরের মানুষ একটু শান্তিপ্রিয়, অনেক জেলায় হরেক মাল বিক্রি করতে গিয়ে অনেকে আমার সঙ্গে অনেক খারাপ ব্যবহার করেছে। কিন্তু ১৩ বছর যাবৎ মাদারীপুরে ব্যবসা করছি, তেমন কেউ আমার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেনি।
