মাতৃত্বকালীন ভাতা আত্মসাৎ

পার্বতীপুরে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি

আপডেট : ০১ জানুয়ারি ২০২০, ১১:৪৩ পিএম

ছবি ও তথ্য জালিয়াতির মাধ্যমে দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের দুই দরিদ্র মায়ের দুই বছরের মাতৃত্বকালীন ভাতা আত্মসাতের ঘটনা প্রমাণিত হওয়ার পরও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো প্রশাসনিক বা আইনগত ব্যবস্থা নেয়নি পার্বতীপুর উপজেলা মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তর।

উল্টো অভিযুক্তদের সঙ্গে আঁতাত করে এ ঘটনায় পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শাহনাজ মিথুন মুন্নীর কাছে ভুক্তভোগী ওই দুই মায়ের করা অভিযোগপত্র প্রত্যাহার করে নেওয়ার ব্যবস্থা করে দায়ী ব্যক্তিদের বাঁচানোর চেষ্টা করা হয়েছে। নিজের দায় ও ঝক্কি ঝামেলা এড়াতে পার্বতীপুর উপজেলা মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তর কর্মকর্তা রেবেকা সুলতানা এ কাজ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ ছাড়াও, ভাতাভোগী মায়েদের তিনদিনের মাতৃত্বকালীন ভাতা প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথা থাকলেও তা একদিনেই শেষ করা হয় বলে ভুক্তভোগীরা জানান। এর আগেও ২০১৮ সালে ২৯ জুন নিভা সরকার ঈশা নামে একজন চাকরিপ্রার্থী পার্বতীপুরের উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা রেবেকা সুলতানার বিরুদ্ধে ‘টেইলারিং ট্রেড প্রশিক্ষক’ পদে নিয়োগের জন্য ২৫ হাজার টাকা উৎকোচ গ্রহণের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেন।

সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মুসলিম উদ্দীনের স্ত্রী উম্মে কুলসুম বেগম (কার্ড নম্বর ২০, হিসাব নম্বর-০১০০৯০২৮, সোনালী ব্যাংক, হুগলীপাড়া শাখা) ও নুরুল আমিনের স্ত্রী শাফলা বেগম (কার্ড নম্বর ১৫, হিসাব নম্বর-১৮২২৬০১০০৯৫০৪ সোনালী ব্যাংক, হুগলীপাড়া শাখা) ২০১৭-১৮ অর্থ বছরের দরিদ্র মার জন্য মাতৃত্বকালীন ভাতাভোগীর তালিকাভুক্ত হন। কিন্তু দুবছর পেরিয়ে গেলেও মাতৃত্বকালীন ভাতা না পাওয়ায় তারা গত ৫ নভেম্বর/২০১৯ পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে এ ব্যাপারে পৃথক দুইটি অভিযোগ করেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ব্যাপারটি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তাকে মৌখিক নির্দেশনা দেন। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত ও ভাতা আত্মসাতের ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করা সম্ভব হয়। তবে, দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো তাদের দায়মুক্তির ব্যবস্থা করা হয়। পার্বতীপুর উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা রেবেকা সুলতানা দাবি করেন, অভিযোগকারী দুই মা তাদের অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেওয়ায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তবে, অভিযোগ প্রত্যাহারের স্বপক্ষে তিনি কোন প্রমাণপত্র দেখাতে পারেননি।

মাতৃত্বকালীন ভাতা আত্মসাতের অভিযোগ ও এতে জড়িতদের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থাগ্রহণ করা হচ্ছে না সে ব্যাপারে পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শাহনাজ মিথুন মুন্নী বলেন, ঘটনাটি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তাকে এরই মধ্যে মৌখিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত