চলতি বছরে পাঁচ থেকে ছয় লাখ মামলা নিষ্পত্তি হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক। গতকাল বুধবার ২০২০ সালের প্রথম দিন রাজধানীর বিচার প্রশাসন ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে সহকারী জজদের বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ আশা প্রকাশ করেন তিনি। আনিসুল হক বলেন, ‘এখন ৩৬ লাখ ৬০ হাজার মামলা চলার যে কথা বলা হচ্ছে তার সঙ্গে প্রকৃত সংখ্যার কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। সেখানে হিসাব হচ্ছে ৩১ লাখ। এটি যাই হোক, এটি মামলার জট। আমাদের এ বছর লক্ষ্য থাকবে অন্তত পাঁচ থেকে ছয় লাখ মামলা কমিয়ে আনা। আমরা সেভাবেই বিচারিক যে প্রোগ্রাম, আদালতের লোকবল সেভাবে বাড়ানোর চেষ্টা করছি। মামলা কমানোর যে পরিকল্পনা আমরা নিয়েছি তা কিন্তু অবাস্তব নয়। আমরা চেষ্টা করব।’ তিনি বলেন, ‘জাস্টিস অডিট নামে আমরা একটা পদ্ধতি চালু করেছি। প্রত্যেক তিন বছর আমরা মামলার হিসাব নিই। শুধু তাই নয়, কী প্রকার মামলা, কোন বিষয়ে মামলা বেশি হচ্ছে সেসব বিষয়ে একটা ধারণা নিই।’
মামলা নিষ্পত্তিতে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির ওপর জোর দিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘বিষয়টি এখনো জনগণের কাছে তেমনভাবে পরিচিত নয়। যে সব ক্ষেত্রে ফৌজদারি মামলা আপোসযোগ্য, সে বিষয়গুলোতে সংশ্লিষ্ট আদালত যেন আদালতের বাইরে মীমাংসা করার জন্য বলে। এ জন্য বিচারকদের উদ্যোগ নিতে হবে।’ বিচার বিভাগের ওপর মানুষের আস্থা বাড়ায় মামলা বাড়ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিচারকদের উদ্দেশে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর লালিত স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার অন্যতম অনুষঙ্গ হলো আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা। এক্ষেত্রে বিচারকদের ভূমিকা অগ্রগণ্য। বিচার বিভাগ সম্পর্কে সাধারণ মানুষের যাতে কোনো হতাশা বা বিরূপ ধারণা না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। জনগণকে দ্রুত ও সহজে ন্যায়বিচারপ্রাপ্তি নিশ্চিতকরণে বিচারকদের আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে।’ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিচার প্রশাসন ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ও সাবেক বিচারপতি খন্দকার মুসা খালেদ।
