ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে প্রধানমন্ত্রী

খালেদা জিয়া অস্ত্র দিয়েছিলেন আমি দিয়েছি খাতা-কলম

আপডেট : ০৫ জানুয়ারি ২০২০, ০২:২০ এএম

আদর্শ নেতৃত্ব গঠনের জন্য ছাত্রলীগ কর্মীদের লেখাপড়ায় মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, ‘খালেদা জিয়া ছাত্রদের অস্ত্র দিয়েছিলেন, আমি দিয়েছি খাতা-কলম।’ গতকাল শনিবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ৭২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাঙালির প্রতিটি অর্জনে ছাত্রলীগের বড় ভূমিকা আছে। শহীদদের তালিকা যদি করি, তাহলে সেখানেও আছেন ছাত্রলীগের কর্মীরা। জাতির যেকোনো ক্রান্তিলগ্নে ছাত্রলীগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। আদর্শ ছাড়া, নীতি ছাড়া, সততা ছাড়া কখনো কোনো নেতৃত্ব গড়ে উঠতে পারে না। সেই নেতৃত্ব দেশকে কিছু দিতে পারে না।জাতিকে কিছু দিতে পারে না। মানুষের কল্যাণে কোনো কাজ করতে পারে না। কোনো ধরনেরই কোনো সফলতা দেখাতে পারে না। ‘হ্যাঁ, সাময়িকভাবে অর্থ-সম্পদের মালিক হতে পারে, নাম-ডাক হতে পারে। কিন্তু সেখানেই বিলীন হয়ে যায়। শুধু দেশের জন্য বা ইতিহাসে কিছু রেখে যাবার মতো কোনো কাজ করতে পারে না।’ এই উপলব্ধি থেকে ছাত্রলীগ নেতাদের আদর্শের রাজনীতিতে উদ্বুদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ছাত্রলীগ সংগঠনকে এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে, একটা নীতি নিয়ে, আদর্শ নিয়ে সংগঠন গড়তে হবে।’

ছাত্রলীগের গঠন ও বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সংগঠনটির ভূমিকা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, এ সংগঠন গড়ে তুলেছেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ছাত্রলীগের যে ঐতিহ্য, তা মনে রাখতে হবে। মনে রেখেই একজন কর্মী হিসেবে আচার-আচরণ করা উচিত। এমন নেতৃত্ব গড়ে তুলতে হবে, যাতে দেশ ও জাতির বিশ্বাস অর্জন করে চলতে পারে। শেখ হাসিনা বলেন, পাকিস্তানের সামরিক শাসক জেনারেল আইয়ুব খান ছাত্রদের হাতে অস্ত্র তুলে দেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর ওই আইয়ুবের পদাঙ্ক অনুসরণ করে জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসে মেধাবী ছাত্রদের হাতে অস্ত্র তুলে দিয়েছেন। জিয়াউর রহমান অসংখ্য মেধাবী শিক্ষার্থীর জীবন নষ্ট করে দিয়েছেন। সাত খুনের আসামিকে, যুদ্ধাপরাধীদের রাজনীতি করার সুযোগ করে দিয়েছেন।

শেখ হাসিনা বলেন জিয়া, এরশাদ ও খালেদা জিয়ারা মেধাবী ছাত্রদের ব্যবহার করেছেন। ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করার কাজে লাগিয়েছেন ছাত্রজীবনকে। তিনি বলেন আদর্শ, সততা ছাড়া নেতৃত্ব গড়ে উঠতে পারে না। বঙ্গবন্ধু কখনো অর্থ-সম্পদের দিকে তাকাননি। সারা জীবন দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে রাজনীতি করেছেন। আদর্শ নিয়ে, নীতি নিয়ে ছাত্রলীগকে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, জাতির পিতা যে আদর্শ নিয়ে সংগঠন গড়ে তুলেছিলেন, সেই আদর্শ ধারণ করতে হবে। ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন বঙ্গবন্ধু, সেই আদর্শকে ধারণ করতে হবে। বক্তব্যের শেষে ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে ভারমুক্ত ঘোষণা করেন। দুই দিনব্যাপী পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় দিন আজ রবিবার পালিত হবে রক্তদান কর্মসূচি। এরপর শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ, শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান শেষ হবে।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য তোফায়েল আহমেদ, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এবং ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যসহ ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত