কাউন্সিলর প্রার্থীর দিকে বেশি না ঝুঁকে মেয়র প্রার্থীদের বিজয় নিশ্চিত করতে ঢাকার সংসদ সদস্যদের কাজ করতে নির্দেশ দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
গতকাল শনিবার প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগের সদ্য গঠিত কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটি ও উপদেষ্টা পরিষদের মুলতবি যৌথ সভায় এ নির্দেশ দেন তিনি। এ সময় একক কাউন্সিলর প্রার্থী নিশ্চিতেও দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের ব্যবস্থা নিতে বলেন আওয়ামী লীগ সভাপতি।
শেখ হাসিনাকে উদ্ধৃত করে সভায় উপস্থিত আওয়ামী লীগের এক কেন্দ্রীয় নেতা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমাদের মেয়র প্রার্থীরা সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য। আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে বিজয় আসবেই। শেখ হাসিনা আরও বলেন, অতীতে দেখা গেছে, আমাদের সংসদ সদস্যরা মেয়রের চেয়ে কাউন্সিলর প্রার্থীদের নিয়ে ব্যস্ত থাকে। এবার এমন কোনো ঘটনা ঘটলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে তাদের বিরুদ্ধে। সভায় নির্বাচন নিয়ে কোথাও কোনো সমস্যা থাকলে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদের সঙ্গে বসে আলোচনা করে সমাধান করার নির্দেশ দেন তিনি। বৈঠকে বিদ্রোহী কাউন্সিলর প্রার্থীদের বসিয়ে একক প্রার্থী নিশ্চিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের ব্যবস্থা নিতেও বলেন শেখ হাসিনা।
সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে শুরু হওয়া এ যৌথসভা চলে প্রায় ৩ ঘণ্টা। সভায় কার্যনির্বাহী কমিটি ও উপদেষ্টা পরিষদের প্রায় ৫০ সদস্য বক্তব্য রাখেন। এর আগে গত শুক্রবার বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ের আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ সভা হয়। পরে সভা গতকাল শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত মুলতবি করা হয়।
গতকালের সভায় উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য সুলতানা শফি দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পাওয়া বর্তমান মেয়র সাঈদ খোকনের ভূমিকা ও বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তুললে শেখ হাসিনা বলেন, ও কাজ করবে। ওকে যুক্ত করতে হবে। ও দীর্ঘদিন মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছে। ওর কিছু অনুসারী আছে। তাদের কাজে লাগাতে হবে। এ সময় দলের সব নেতাকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে সবার দরজায় ভোট চাইতে যাওয়ার পরামর্শ দেন শেখ হাসিনা।
সভায় মহীউদ্দীন খান আলমগীর বলেন, ৩০ জানুয়ারির এই নির্বাচনের আগে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও হোল্ডিং ট্যাক্স যাতে না বাড়ানো হয় সে বিষয়ে সরকারকে সতর্ক থাকতে হবে। কারণ বাড়ালে নির্বাচনে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, এগুলো কেন হবে? আমাদের এলএনজি পর্যাপ্ত রয়েছে। এ সময় নেতাদের উদ্দেশে বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, আমি একসময় ঢাকায় বাঁশের সাঁকো দিয়েও পার হয়েছি। এখন কি সেই সাঁকো আছে? ঢাকা শহরে একসময় বিদ্যুতের অভাব ছিল। এখন কি আছে? রাস্তাঘাট ভাঙা ছিল, খানাখন্দ ছিল। এখন কি তা আছে? আপনারা কি এগুলো প্রচার করতে পারেন না?
