আসন্ন নির্বাচনে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ৩০ নম্বর ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগই যেন আওয়ামী লীগের প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কাউন্সিলর পদে আওয়ামী লীগের সমর্থন পেয়েছেন বর্তমান কাউন্সিলর হাজী সেলিমের ভাগ্নে মো. হাসান পিল্লু। তবে হাজী সেলিমের মেজ ছেলে মো. এরফান সেলিম কাউন্সিলর প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। তারা দুজনই হাজী সেলিমের সমর্থন নিয়ে প্রার্থী হওয়ার দাবি জানিয়েছেন। ওয়ার্ডে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী মো. ইলিয়াসও আশা করছেন পুরান ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ এ বাণিজ্যিক এলাকার কাউন্সিলর হওয়ার।
সরেজমিন দেখা যায়, ডিএসসিসির ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত চকবাজার থেকে মিটফোর্ড পর্যন্ত সড়কগুলোয় যানজট লেগেই থাকে খোঁড়াখুঁড়ির কারণে। এর প্রভাব পড়ছে আশপাশের এলাকায়ও। এতে স্থবির হয়ে পড়েছে ব্যবসা-বাণিজ্য। চকবাজার থেকে মিটফোর্ড পর্যন্ত রাস্তার এক পাশে ড্রেন সম্প্রসারণের কাজ চলছে। ফলে দিনের পুরো সময়টা বন্ধ থাকে এই রাস্তা। চকবাজারের মোগলটুলির রাস্তার সঙ্গে বাবুবাজার, সোয়ারীঘাট, বেড়িবাঁধের সংযোগ সড়ক থাকায় এসব এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। সড়কের একদিকে নালা তৈরি, অন্যদিকে অবৈধ দোকানপাট ও মালামাল রেখে তা দখল করে রেখেছেন দোকানিরা। স্থানীয়রা জানান, বছরের প্রায় সময়ই খোঁড়াখুঁড়ি চলে এই রাস্তায়। গত এক মাস ধরে ঢিলেঢালাভাবে ড্রেন সংস্কারের কাজ চলছে। এ কারণে রাস্তাটি বন্ধ থাকায় পুরো চকবাজার এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।
৩০ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শুধু যানজট না, এলাকায় প্রতিটি মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে। অলিগলিতে রয়েছে অসংখ্য কেমিক্যাল ও প্লাস্টিক কারখানা। নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার না করায় বেড়েছে দুর্গন্ধ, মশার উপদ্রব তো আছেই। নেই খেলার মাঠ এবং কমিউনিটি সেন্টার।
ভোটারদের দাবি, চকবাজারের ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো চিহ্নিত করে অপরিকল্পিত গুদাম, কারখানাগুলো স্থানান্তর করার, যাতে চুড়িহাট্টা বা নিমতলীর মতো ভয়ানক কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে। ভোটাররা বলছেন, ওয়ার্ডটি নিরাপদে বসবাস উপযোগী করতে যে কাজ করবে তাকেই তারা নির্বাচিত করবেন।
ওয়ার্ডটির মধ্যে আছে দেবীদাস ঘাট লেন, চম্পাতলী লেন, জুম্মন ব্যাপারী লেন, ইমামগঞ্জ, লালগোলা, রজনী বোস লেন, সোয়ারীঘাট, রায় ঈশ্বর চন্দ্র শীল বাহাদুর স্ট্রিট, সদর নারায়ণ দাস লেন ও মিটফোর্ড রোড। ৫ বর্গকিলোমিটারের এই ওয়ার্ড হাজী সেলিমের এলাকা হিসেবে পরিচিত। ১৯৯৪ সালে তিনি এই ওয়ার্ডে নির্বাচিত কাউন্সিলর ছিলেন। ’৯৬ এর নির্বাচনে হাজী সেলিম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে তার স্ত্রী গুলশানারা সেলিম উপনির্বাচনে কাউন্সিলর হন। ২০০২ সালের সিটি নির্বাচনে ওয়ার্ডটি বিএনপির দখলে চলে যায়। ২০১৫ সালে আওয়ামী লীগ সমর্থীত প্রার্থী হাজী সেলিমের ভাগ্নে মো. হাসান পিল্লু নির্বাচিত হন।
স্থানীয়রা বলছেন, এবারের নির্বাচনে বিএনপির শক্ত কোনো অবস্থান না থাকলেও আওয়ামী লীগের প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠেছে আওয়ামী লীগই। ইতিমধ্যে দলের হাইকমান্ড বর্তমান কাউন্সিলর হাসান পিল্লুকে সমর্থন দিয়েছে। তিনি হাজী সেলিমের ভাগিনা। অন্যদিকে হাজী সেলিমের মেজ ছেলে মো. এরফান সেলিম কাউন্সিলর প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
পিল্লু দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমি ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হাজী সেলিমের সমর্থনে নির্বাচনে দাঁড়িয়েছি। তিনি আমার অভিভাবক। তার সহযোগিতা নিয়ে আমার ওয়ার্ডের ১৯টি রোডের কাজ শেষ করছি আমি। চকবাজার থেকে মিটফোর্ড পর্যন্ত রাস্তার কাজ চলছে। নিজ খরচে কামালবাগসহ কয়েকটি স্যুয়ারেজ ব্যবস্থা ঠিক করেছি। ইমামগঞ্জে একটি কমিউনিটি সেন্টার তৈরি করতে চাই যেখানে জিমনেসিয়াম কাম লাইব্রেরির ব্যবস্থা থাকবে। এছাড়া সিটি করপোরেশনের দখল হওয়া জমি উদ্ধার করে শিশুদের জন্য খেলার মাঠ তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে। আমি এই ওয়ার্ডটিকে একটি মডেল ওয়ার্ড করতে চাই। যাতে মানুষ নিরাপদে বসবাস করতে পারে। কাউন্সিল প্রার্থী হাজী সেলিমপুত্র ইরফান সেলিম দেশ রূপান্তরকে বলেন, এই ওয়ার্ডটিতে আমার বাবা কাউন্সিলর ছিলেন। বাবার অনুমতি নিয়েই মাঠে নেমেছি। এলাকার মানুষও চাইছে বাবার উত্তরসূরি হিসেবে আমি নির্বাচন করি। আমি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হলে এলাকায় সন্ত্রাস ও মাদক নির্মূল করব। ময়লা-আবর্জনার সঠিক ব্যবস্থাপনায় আলাদা পরিকল্পনা নেব। এছাড়া অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলে যাতে দ্রুত পানির সরবরাহ করা যায় তার জন্য এলাকার প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ফায়ার হাইড্রেন নির্মাণ করা হবে। বিএনপি সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী মো. ইলিয়াস বলেন, ভোটাররা ভোট দিতে খুব উৎসুক। তার জন্য নির্বাচন কমিশনকে লেভেল প্লেইং ফিল্ড নিশ্চিত করতে হবে। ওয়ার্ডের সড়ক ও ড্রেনের বেহাল দশা। তাছাড়া চকবাজার ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে পরিচিত পেয়েছে। যে কোনো সময় অগ্নিকাণ্ডর মতো ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। আমি নির্বাচিত হলে রাস্তাঘাট উন্নয়নসহ একটি ফায়ার সার্ভিস স্থাপন করব।
