টেংরাটিলায় অগ্নিকাণ্ড: ১৫ বছর পরও উঠছে গ্যাস

আপডেট : ০৭ জানুয়ারি ২০২০, ১২:৩৬ পিএম

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলায় অবস্থিত টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রে অগ্নিকাণ্ডের ১৫ বছর পূর্ণ হলো আজ। কিন্তু এখনও গ্যাসক্ষেত্রের আশপাশের এলাকায় গ্যাস উঠছে। সার্বিক পরিস্থিতি এখনও স্বাভাবিক হয়নি।

গ্যাস ফিল্ডের আশপাশের এলাকার মাটি উর্বরতা শক্তি হারিয়ে ফেলায় সেখানে হচ্ছে না কোনো চাষাবাদ ও গাছপালা, পুকুরে করা যাচ্ছে না মাছ চাষ। অনিয়ন্ত্রিতভাবে গ্যাস উদগীরণের ফলে মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছেন গ্যাস ফিল্ডের আশপাশের এলাকার লোকজন।

২০০৫ সালের ৭ জানুয়ারি রাতে টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রে প্রথম আগুন লাগে। তখন কানাডিয়ান প্রতিষ্ঠান নাইকো গ্যাস উত্তোলনের কাজ করছিল। ৭ জানুয়ারির পর একটানা ১৫ দিন দাউ দাউ করে আগুন জ্বলে।

image

দ্বিতীয় দফা আগুন লাগে একই বছরের ২৪ জুন। এরপর নাইকো খনন কাজ গুটিয়ে নেয়। অগ্নিকাণ্ডের পর গ্যাসক্ষেত্রের চারপাশের কয়েকটি গ্রামের ৬১৬টি পরিবারকে ক্ষতিগ্রস্ত চিহ্নিত করে। কিন্তু এখনো ক্ষতিপূরণ পায়নি পরিবারগুলো। ক্ষতিগ্রস্ত হয় এলাকার পরিবেশ। এখন গ্যাসক্ষেত্রে নাইকোর কোনো কার্যক্রম নেই।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, গ্যাসক্ষেত্রের আশপাশের এলাকায় যে গ্যাস উঠছে তা রান্নার কাজের ব্যবহার করছেন লোকজন। গ্যাসক্ষেত্রের পাশের একটি পুকুর থেকে পাইপ দিয়ে বাড়িঘরে এই গ্যাস নেওয়া হচ্ছে।

টেংরা, গিরিসনগর, টিলাগাঁও, আলীপুর, আজবপুর গ্রামের মানুষের ঘরে গ্যাস ব্যবহার হচ্ছে। এ ছাড়া গ্যাসের প্রতিক্রিয়ায় এলাকার মানুষের শ্বাসকষ্ট, চর্মরোগ, চোখ জ্বালাপোড়া, আর্সেনিকসহ নানা স্বাস্থ্যগত সমস্যায় দেখা দিচ্ছে।

উপজেলার টেংরা গ্রামের বাসিন্দা স্বাস্থ্য সহকারী সিরাজ ফরায়েজি জানান, গ্যাসের প্রতিক্রিয়ায় এলাকার মানুষ নানা রোগে ভুগছেন। এলাকায় এখনও বুঁদ বুঁদ করে বের হওয়া গ্যাসের গন্ধে মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে শিশুরা।

image

সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের মেডিসিন অফিসার ডা. বিষ্ণু প্রসাদ চন্দ বলেন, টেংরাটিলা গ্যাসফিল্ডে অনিয়ন্ত্রিতভাবে যে গ্যাস বের হচ্ছে এটা জনস্বাস্থ্যের জন্য খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। এভাবে গ্যাস বের হতে থাকলে গ্যাসফিল্ড এলাকার মানুষের চোখে ঝাপসা দেখা, শ্বাসকষ্ট, চর্মরোগ হতে পারে।

টেংরা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক কামরুল ইসলাম বলেন, ‘অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে বিদ্যালয়ের দোতলা একটি ভবন পরিত্যক্ত। নাইকো ৬০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেবে বললেও এখনো দেয়নি।’

স্থানীয় সুরমা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘সরকার নাইকোর বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণের জন্য আন্তর্জাতিক আদালতে আইনি লড়াই করছে। স্থানীয় লোকজনও যেন ক্ষতিপূরণ পায়। সে বিষয়টি সরকারকে দৃষ্টি রাখতে হবে।

সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবদুল আহাদ বলেন, যেহেতু এই গ্যাসক্ষেত্র নিয়ে সরকার আইনে লড়াই করছে, তাই এখানে বর্তমানে কোনো কার্যক্রম নেই। তবে গ্যাসক্ষেত্র এলাকার নিরাপত্তার দায়িত্বে প্রয়োজনীয় লোকজন সেখানে রয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি আমাদের পর্যবেক্ষণে আছে। ক্ষতিপূরণের বিষয়টি মামলা নিষ্পত্তি হলে সরকার ব্যবস্থা নেবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত