৫৫ বছর আগে মাত্র এক দিন বয়সে শিকাগোর একটি হাসপাতাল থেকে চুরি হয়ে যায় পল ফ্রোঞ্জাক। সম্প্রতি মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই দাবি করেছে, সাড়ে পাঁচ দশক পর হারিয়ে যাওয়া ওই শিশুর সন্ধান মিলেছে। পলকে খুঁজে পাওয়ার অভিযানটি নানা নাটকীয়তায় ভরপুর। চাঞ্চল্যকর এ মামলা নিয়ে লিখেছেন পরাগ মাঝি
শিকাগোর মিচেল রিজ হাসপাতাল
১৯৬৪ সালের ২৬ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রে শিকাগোর মিচেল রিজ হাসপাতাল থেকে চুরি হয়ে যায় এক দিন বয়সী শিশু পল। নার্সের পোশাক পরা এক নারী শিশুটিকে তার মায়ের কাছ থেকে নিয়ে যাওয়ার সময় জানিয়েছিল, ডাক্তার তাকে দেখতে চেয়েছেন। কিন্তু পলকে নিয়ে হাসপাতাল থেকে উধাও হয়ে যায় সেই নারী। এ ঘটনায় ভেঙে পড়েন পলের মা ডোরা এবং বাবা চেস্টার ফ্রোঞ্জাক।
নবজাতক চুরির এ ঘটনাটি দারুণ আলোড়ন তোলে। পরবর্তী দুই বছর মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই এবং স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো হন্যে হয়ে শিশুটিকে খুঁজে বেড়ায়। ১৯৬৬ সালে চুরি যাওয়ার মামলাটি সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়। কারণ নিউ জার্সির একটি শপিং সেন্টারে দুই বছর বয়সী একটি পরিত্যক্ত শিশুর সন্ধান পাওয়া যায়। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর মতে, পরিত্যক্ত ওই শিশুটিই পল। যাকে দুই বছর আগে মিচেল রিজ হাসপাতাল থেকে চুরি করে নিয়ে গিয়েছিল কেউ। কিন্তু ওই চোর কোনো কারণে শিশুকে নিউ জার্সির ওই শপিং সেন্টারে ফেলে গেছে। তাছাড়া এক দিন বয়সী পলের ছবির সঙ্গেও অনেকটা মিলে যায় সন্ধান পাওয়া শিশুটির চেহারা।
গলদ রয়েছে কোথাও
দুই বছর পর পলকে ফিরে পেয়ে চেস্টার আর ডোরার মুখে হাসি ফোটে। তারাও বিশ্বাস করে যে, এ শিশুটিই তাদের চুরি হয়ে যাওয়া সন্তান। তখন পর্যন্ত পরিচয় শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া ডিএনএ টেস্টের প্রচলন ঘটেনি। তাই এ পরীক্ষার মধ্য দিয়ে নিশ্চিত হওয়াও সম্ভব ছিল না।
ডোরা আর চেস্টার দম্পতির মায়া-ভালোবাসায় ধীরে ধীরে বড় হতে থাকে পল ফ্রোঞ্জাক। ১০ বছর বয়সে পল জানতে পারে যে, মাত্র এক দিন বয়সে তাকে চুরি করে নিয়ে গিয়েছিল কেউ। এরপর প্রায় চার দশক পর ২০১২ সালে পরিণত বয়সে তিনি একটি ডিএনএ পরীক্ষায় অংশ নেন। কিন্তু এ পরীক্ষা তার সব আশঙ্কাকে সত্যি করে। কারণ পরীক্ষায় দেখা যায়, তিনি ডোরা ও চেস্টারের সন্তান নন! চুরি যাওয়া ঘটনাটির ৪৮ বছর পর এই ডিএনএ পরীক্ষা চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। এই পর্যায়ে এসে দুটি বড় প্রশ্নের মুখোমুখি হয় সবাই। প্রথমত, পল ফ্রোঞ্জাক যদি ডোরা আর চেস্টারের প্রকৃত সন্তান না হয়, তবে তাদের আসল সন্তান এখন কোথায়? দ্বিতীয়ত, ডোরা আর চেস্টারের পরিবারে বেড়ে ওঠা পল ফ্রোঞ্জাক আসলে কে? তার আসল পরিচয় কী বা কে তাকে নিউ জার্সির শপিং মলে ফেলে গিয়েছিল?
সন্ধান মিলল আসল পলের
এমন ঘোলাটে পরিস্থিতিতে শিকাগোভিত্তিক ডব্লিউজিএন নিউজ নেটওয়ার্কের অনুসন্ধানী সাংবাদিকরা প্রকৃত পলের সন্ধান পেতে তৎপর হয়ে ওঠেন। অবশেষে গত বছর ১৮ ডিসেম্বর সেই পলকে খুঁজে পাওয়ার সংবাদ প্রকাশ করে তারা। এফবিআইয়ের বরাত দিয়ে নিউজ নেটওয়ার্কের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, মাত্র এক দিন বয়সে হারিয়ে যাওয়া পল এখন মিশিগানের ছোট্ট একটি গ্রামে বাস করছেন। সেখানে তার আলাদা নাম, আলাদা পরিচয়। তবে বিবৃতিতে আসল পলের বর্তমান পরিচয় গোপন রাখা হয়। কারণ তিনি একজন ক্রাইম ভিকটিম। যদিও অর্ধশতাব্দী আগে হারিয়ে যাওয়ার গল্পটি তাকে শোনানো হয় এবং ওই হারিয়ে যাওয়া শিশুটি যে তিনিই তারও প্রমাণ দেখানো হয়। কয়েক মাস আগেই এফবিআই সদস্যরা তাকে তার প্রকৃত পরিচয় সম্পর্কে অবহিত করেন।
পরিচয় জানতে পারার পর কীভাবে প্রকৃত মা ডোরার সঙ্গে যোগাযোগ করবেন সে বিষয়ে কোনো বক্তব্য প্রদান করেননি পল। প্রকৃত বাবা চেস্টারের সঙ্গে অবশ্য তার যোগাযোগের আর কোনো উপায় নেই। কারণ কয়েক বছর আগেই তিনি গত হয়েছেন। মিশিগানের গ্রামে বসবাস করা লোকটিই আসল পল কি নাÑ এ বিষয়ে এফবিআই শিকাগোকে প্রশ্ন করা হলেও এ বিষয়ে আর কোনো তথ্য প্রদান করেনি সংস্থাটি। এফবিআই মুখপাত্র শিভন জনসন জানান, কয়েক বছর আগেই পল ফ্রোঞ্জাকের হারিয়ে যাওয়ার কেসটি আবারও তদন্ত শুরু হয়। জনসন বলেন, সম্ভাব্য সবকিছু মাথায় রেখেই মামলাটির তদন্ত পরিচালিত হয়েছে। ভিকটিমদের গোপনীয়তার ওপর আমরা সর্বোচ্চ জোর দিয়েছি।
এদিকে শিকাগোর শহরতলিতে বাস করা ডোরা ফ্রোঞ্জাকও তার হারানো সন্তান প্রসঙ্গে কোনো মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
নাটকীয়তার শুরু যেখানে
ডোরা ও চেস্টারের পরিবারে বেড়ে ওঠা নকল পল গত বছর এক সাক্ষাৎকারে তার প্রকৃত পরিচয় সম্পর্কে ব্যক্তিগত অনুসন্ধান কার্যক্রম বিষয়ে কথা বলেন। এ পলের বয়স এখন ৫৫। তারও এক সন্তান রয়েছে। ‘দ্য সান’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ১০ বছর বয়সে তিনি যখন জানতে পারেন যে এক দিন বয়সে তাকে চুরি করেছিল কেউ এবং দুই বছর বয়সে তাকে একটি শপিং সেন্টারের সামনে খুঁজে পাওয়া যায়, তখন থেকেই তার মনে হতো ডোরা আর চেস্টার হয়তো তার প্রকৃত বাবা-মা নয়। তিনি মনের মধ্যে এ সন্দেহ বয়ে বেড়ান প্রায় ৩৮ বছর। অবশেষে ২০১২ সালে ডোরা ও চেস্টারের সঙ্গে এ সন্দেহের ব্যাপারে কথা বলেন এবং একটি ডিএনএ পরীক্ষায় অংশ নেওয়ারও দাবি করেন।
এমন পরিস্থিতিতে ডোরা আর চেস্টার পলকে বলেন, ‘ঠিক আছে। তোমার মনে যেহেতু সন্দেহ আছে যে আমরা তোমার প্রকৃত বাবা-মা নই, তাই সত্যিটাকে জানতে তুমি ডিএনএ পরীক্ষায় অংশ নিতে পারো।’
পল তার সন্দেহের কথা জানালে তাৎক্ষণিকভাবে ডোরা আর চেস্টার ডিএনএ পরীক্ষায় সম্মতি দিলেও পরে তারা পলকে এ পরীক্ষা না করার অনুরোধ করেন। তারা চাইছিলেন না জীবনে আর কোনো নাটকীয় মোড় আসুক। কিন্তু ততদিনে দেরি হয়ে গেছে। পল ডিএনএ পরীক্ষার সব আয়োজনই সম্পন্ন করে ফেলেছিলেন। ফলাফলেও দেখা যায় যে পরিবারে তিনি বড় হয়েছেন সেই পরিবারের সঙ্গে তার কোনো রক্তের সম্পর্ক নেই। পল জানান, এ ঘটনার পর বাবা-মা তার সঙ্গে কথা বলা বন্ধ করে দেন। কারণ তিনি তাদের অনুরোধ উপেক্ষা করেছিলেন।
পরিচয় মিলল নকল পলেরও
ডোরা আর চেস্টার নিজের বাবা-মা নয় জানার পর থেকেই আসল বাবা-মায়ের পরিচয় জানতে উদগ্রীব হয়ে ওঠেন পল। এজন্য তিনি কেকে মুর নামে একজন জেনেটিক বিশেষজ্ঞের দ্বারস্থ হন। তার সহযোগিতায় ২০১৫ সালে পল জানতে পারেন, যে পরিবারে তিনি জন্মেছিলেন সেখানে জন্মের সময় তার নাম রাখা হয়েছিল জ্যাক রোজেন্থাল।
পল জানান, পরিচয় জানার পর তিনি রোজেন্থাল পরিবারে ছুটে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেখানে গিয়ে তিনি তার আসল পিতা-মাতা সম্পর্কে অপ্রিয় অনেক তথ্য জানতে পারেন। পলের ভাষ্য, তার আসল মা ছিলেন একজন মাদকাসক্ত এবং তার আসল বাবা ছিলেন একজন খিটখিটে মেজাজের প্রবীণ। দুজনই এখন মৃত।
রোজেন্থাল পরিবারের সদস্যরা পলকে জানান, তার একজন যমজ বোনও ছিল। তার নাম ছিল জিল। বাবা-মায়ের অবহেলার কারণে পলের মতো জিলও হারিয়ে গিয়েছিল। জিলের ভাগ্যে কী ঘটেছে তা কখনো জানা সম্ভব হয়নি।
এক কাজিনের ভাষ্য থেকে পল জানান, শিশু অবস্থায় তার বাবা-মা তাকে আর তার বোন জিলকে একটি খাঁচার মধ্যে বন্দি করে রাখত। পরিবারের অন্য সদস্যরা তাকে জানান, জিল আর তিনি সারা দিন শুধু কাঁদতেন। পল এখনো জানেন না দুই বছর বয়সে কীভাবে তিনি নিউ জার্সির ওই শপিং সেন্টারের সামনে এসেছিলেন। কিংবা কী ঘটেছিল তার বোনের ক্ষেত্রে। তবে ধারণা করছেন তার বোনের ক্ষেত্রে হয়তো মর্মান্তিক কিছু ঘটেছিল। আর একই সময়ে হয়তো তাকেও পরিত্যাগ করেছিল তার বাবা-মা।
পল বলেন, ‘আমার আসল পরিচয় জানার পরই আমি দারুণ উল্লসিত হয়েছিলাম। কিন্তু এই উল্লাস পরমুহূর্তেই থেমে যায়, যখন জানতে পারি আমার একটি যমজ বোনও ছিল, যে কি না এখনো নিখোঁজ।’
স্যাম মিলার আরেক নিখোঁজ রহস্য
সাক্ষাৎকারে পল আরও বলেন, ‘আমার বাবা-মায়ের অপহৃত সন্তানকে খুঁজে পেতেই আমি আমার এ যাত্রা শুরু করেছিলাম। আর ভেবেছিলাম, এই ফাঁকে যদি আমি আমার পরিচয়টাও পেয়ে যাই তবে তা হবে বোনাস। আমি কখনই ভাবিনি যে, এ রহস্যের সমাধান আমাদের জিজ্ঞাসার চেয়ে বড় কিছু উন্মোচন করবে।’
তবে নিজের পরিচয়টাই আগে পেয়েছিলেন পল। এরপরই তিনি হন্যে হয়ে সেই ব্যক্তিকে খুঁজতে শুরু করেন, যার পরিচয়ে তিনি বেড়ে উঠেছেন। ২০১৮ সালে এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্যাম মিলার নামে এক ব্যক্তির প্রসঙ্গ টেনেছিলেন। তিনি জোরালোভাবেই ভেবেছিলেন, ওই স্যাম মিলারই হয়তো হারিয়ে যাওয়া পল। যদিও কয়েক বছর আগেই টেক্সাসে মারা গিয়েছিলেন মিলার।
পল বলেন, ‘আসল পলকে খুঁজতে গিয়ে আমরা প্রায় প্রতি সপ্তাহেই নতুন নতুন লিড পেতাম।’
পলকে খুঁজতে গিয়ে স্যাম মিলারের লিডটি আসে ২০১৪ সালে। তদন্তকারীরা জোরালোভাবে ধারণা করেছিল, তিনিই পল ফ্রোঞ্জাক। কারণ ছবিতে এক দিন বয়সে পলের যে চেহারা ছিল পরিণত বয়সে তা কেমন হতে পারে তার একটি নমুনা তৈরি করেছিল তদন্তকারীরা। ঘটনাক্রমে ওই নমুনার সঙ্গে স্যাম মিলারের চেহারা আশ্চর্যজনকভাবে মিলে গিয়েছিল।
মিলার বেড়ে উঠেছিলেন শিকাগোর বাইরে একটি শহরতলিতে। তিনি জানতেন না যে, তাকে শিশু অবস্থায় দত্তক নেওয়া হয়েছিল। বেশ কয়েক বছর ধরেই তিনি কিডনি রোগে ভুগছিলেন। এ রোগটি শেষ পর্যন্ত বাজে পরিস্থিতিতে উপনীত হয়। এ অবস্থায় তিনি তার এক কাজিনের দ্বারস্থ হন পারিবারিক স্বাস্থ্য সম্পর্কিত ইতিহাস ঘেঁটে দেখার জন্য। ওই কাজিনই তাকে জানায় যে, তাকে দত্তক নেওয়া হয়েছিল এবং ওই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে কিডনি রোগের কোনো ইতিহাস নেই।
মিলারের ছিল দুই সন্তান। কিডনি রোগের কারণে তিনি মৃত্যুর দুয়ারে দাঁড়িয়েছিলেন। এ অবস্থায় তিনি হন্যে হয়ে তার আসল পরিবারকে খুঁজে বেড়াচ্ছিলেন। এবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ‘আশা করছি, আমি একটি কিডনি খুঁজে পাব। খুঁজে পাব আমার পরিবারকে এবং ফিরে আসব স্বাভাবিক জীবনে। কারণ এখন আমি মৃত্যুর খুব কাছাকাছি।’
কিন্তু সরকারি অফিস থেকে মিলারের দত্তক নেওয়ার ইতিহাস খুঁজতে গিয়ে দেখা যায়, তিনি আসলে এক দিন বয়সে হারিয়ে যাওয়া পল নন।
এলো লিন্ডা টেইলর প্রসঙ্গও
২০১৩ সালে এবিসি নিউজে একটি অনুসন্ধানী অনুষ্ঠান চলাকালে পলের চুরি যাওয়ার রহস্য সমাধানে এগিয়ে আসেন ৬৪ বছর বয়সী নারী জোয়ানি হারবার্গ। ধারণা করা হয়, তার মা লিন্ডা টেইলরই হয়তো পলকে চুরি করেছিল। তার কুখ্যাতি একসময় সুবিদিত ছিল। জানা যায়, ব্যক্তিজীবনে তিনি অন্তত শতাধিক ছদ্মনাম এবং অর্ধশতাধিক নকল ঠিকানা ব্যবহার করেছেন।
অনুষ্ঠানের উপস্থাপককে জোয়ানি বলেন, ‘আমার মা পারত না এমন কোনো কাজ নেই। শুধু একটি বাচ্চাই নয়, তিনি আপনাকেও চুরি করে ফেলতে সক্ষম। তিনি শুধু নামেই নারী ছিলেন। টিকে থাকার প্রয়োজনে তিনি অনেক কিছুই করেছেন।’
জোয়ানিকে এক দিন বয়সী পলের ছবিটি দেখানো হলে তিনি দাবি করেন, এ শিশুকে তিনি ১৯৬৪ সালেই দেখেছিলেন। সেবার ওই শিশুকে তার মা বাড়িতে নিয়ে এসেছিলেন। জোয়ানি দাবি করেন, ওই শিশুর সঙ্গে তিনি খেলাধুলা করতেন আর তার ডাকনাম দেওয়া হয়েছিল ‘টাইগার’।
লিন্ডা টেইলর ১২ বছর আগেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। তাকে একসময় ছদ্মবেশের রানী বলা হতো। এই কারণে তিনি এতটাই পরিচিত হয়ে উঠেছিলেন যে, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যানও প্রতারকের প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে তার নামটি উচ্চারণ করেছিলেন।
জোয়ানি জানান, তার ছদ্মবেশী মায়ের আলাদা একটি কক্ষই ছিল, যেখানে ছদ্মবেশের নানা উপকরণ তিনি সংগ্রহ করে রাখতেন। এসবের মধ্যে নার্স এমনকি ডাক্তারদের সাজসজ্জাও ছিল। ১৯৭৭ সালে তার প্রতারণা ধরা পড়ে যায় এবং ছয় বছরের জেল হয়। সে সময়ই পল ফ্রোঞ্জাকের চুরির ঘটনায় তাকে সন্দেহ করা হয়েছিল। সেই সময়ের পত্রিকার বরাত দিয়ে জানা যায়, তার এক সাবেক স্বামীও দাবি করেছিলেন, ১৯৬০-এর দশকে লিন্ডার সঙ্গে একটি নবজাতককে দেখেছিলেন তিনি। তবে পলের চুরি হয়ে যাওয়ার মামলায় কখনই জেরার মুখে পড়তে হয়নি লিন্ডাকে।
জোয়ানি বলেন, এক দিন স্কুল থেকে ফিরে তিনি দেখেন টাইগার আর নেই। সে কোথায় গেছে এ বিষয়ে তার মা তাকে কখনই কিছু বলেননি। তবে তার ধারণা ছোট্ট ওই শিশুকে তিনি হয়তো তার এক প্রেমিকের কাছে হস্তান্তর করেছিলেন, যিনি বাস করতেন টেনেসিতে।
