বিধিমালার আওতায় আসছে রিক্রুটিং এজেন্সি

বিদেশ থেকেও অভিযোগ করতে পারবেন প্রবাসীরা

আপডেট : ১২ জানুয়ারি ২০২০, ১২:০৬ এএম

বিদেশে কর্মী পাঠাতে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর বিপুল অর্থ নেওয়ার অভিযোগ নতুন নয়। এমনকি এক কাজের কথা বলে অন্য কাজে পাঠানো, চাকরির কথা বলে পর্যটন ভিসায় বিদেশে পাঠানো ও ফ্রি ভিসার নামে শ্রমিকদের সঙ্গে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর প্রতারণার ঘটনাও ঘটছে অহরহ। ফলে বিপুল অঙ্কের অর্থ খরচ করে বিদেশ যাওয়া শ্রমিকদের অনেকে ফিরছেন নিঃস্ব হয়ে, অনেকে মানবেতর জীবনযাপন করছেন পরদেশে। এ অবস্থায় অভিবাসনে শৃঙ্খলা আনতে বিধিমালা জারি করেছে সরকার। তাতে মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে প্রতারণা করা, সরকার নির্ধারিত ফির অতিরিক্ত টাকা নিয়ে শ্রমিকদের বিদেশে পাঠানোর পর প্রতারণার শিকার হওয়া শ্রমিক সরকারের কাছে অভিযোগ করতে পারবেন। তিন মাসের মধ্যে তদন্ত করে সরকার আদেশ জারি করে সরাসরি বা সালিশের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করবে। 

২০১৩ সালে ‘বৈদেশিব কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইন’ করে সরকার। ওই আইনের আওতায় ‘বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী (রিক্রুটিং এজেন্ট লাইসেন্স ও আচরণ) বিধিমালা ২০১৯’ গত ৬ জানুয়ারি জারি করেছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।

বিধিমালার ১৩ ধারায় বলা হয়েছে, কেউ কোনো রিক্রুটিং এজেন্সি দ্বারা প্রতারিত বা ক্ষতিগ্রস্ত হলে দেশের প্রচলিত আইনে তিনি মামলা করতে পারবেন। এর বাইরে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি কোনো রিক্রুটিং এজেন্সিসহ সংশ্লিষ্ট যেকোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রতারণা, অবৈধভাবে অর্থ গ্রহণ বা কর্মসংস্থান চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগসহ সংশ্লিষ্ট অন্য যেকোনো বিষয়ে লিখিতভাবে সরাসরি বা ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে কিংবা জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো বা ব্যুরোর অধীন জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি কার্যালয় অথবা গন্তব্য দেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনের মাধ্যমে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ দাখিল করতে পারবেন।

অভিযোগ পাওয়ার পর সরাসরি বা ব্যুরোর মাধ্যমে তা তদন্ত করে মতামতসহ সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। তদন্তে কোনো অভিযোগ প্রমাণিত হলে তদন্ত শেষ হওয়ার তিন মাসের মধ্যে সরকার তা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্র্তৃপক্ষ বা ব্যক্তি আদেশ দ্বারা সরাসরি বা সালিশের মাধ্যমে অভিযোগ নিষ্পত্তি করবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে বা তদন্তকালে অভিযোগকারী ও রিক্রুটিং এজেন্ট আপস মীমাংসা করতে আগ্রহ প্রকাশ করলে সরকার মধ্যস্থতা বা সালিশের মাধ্যমে তা নিষ্পত্তি করবে।

বিধিমালায় বলা হয়েছে, রিক্রুটমেন্ট সংক্রান্ত কাজ করতে আগ্রহী ব্যক্তিকে সরকার থেকে লাইসেন্স নিতে হবে। লাইসেন্স নেওয়ার সময় ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে অঙ্গীকারনামা করতে হবে যে, বিদেশে কর্মী প্রেরণে সরকার নির্ধারিত ফির অতিরিক্ত টাকা নেবে না। বিদেশ পাঠাতে কাউকে মিথ্যা প্রলোভন দেওয়া যাবে না। চাহিদাপত্র অনুযায়ী অভিবাসী কর্মী নির্বাচন করবে। এসব শর্ত লঙ্ঘন করলে লাইসেন্স বাতিল করার কথা বিধিমালায় বলা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত