আরব বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘ সময়ের শাসক ওমানের সুলতান কাবুস বিন আল সাইদ (৭৯) মারা গেছেন। গত শুক্রবার রাতে মারা যান বলে দেশটির সরকারি টেলিভিশনের উদ্ধৃতি দিয়ে এ খবর জানিয়েছে বিবিসি।
কাবুসের মৃত্যুর পর তার কোনো উত্তরাধিকার না থাকায় পরবর্তী সুলতান কে হবেন, তা নিয়ে অনেক জল্পনা-কল্পনা চললেও অবশেষে কাবুসের চাচাতো ভাই দেশটির সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যবিষয়ক মন্ত্রী হাইথাম বিন তারিককে (৬৫) নতুন সুলতান হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে রয়টার্স।
বিবিসির ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মাসে বেলজিয়ামে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরেছিলেন কাবুস। তিনি দুরারোগ্য ক্যানসারে ভুগছিলেন বলে সন্দেহ করা হয়েছিল। এ নিয়ে সে সময় বিশ্ব গণমাধ্যমে খবরও প্রচার করা হয়েছিল। সুলতানের মৃত্যুতে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে ওমান। এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘রাজপ্রাসাদ গভীর দুঃখ ও কষ্টের সঙ্গে সুলতান কাবুস বিন সাইদকে স্মরণ করছে, যিনি শুক্রবার আমাদের ছেড়ে গেছেন।’
বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা বাসস জানিয়েছে, সুলতান কাবুসের মৃত্যুতে গতকাল শনিবার গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এক শোকবার্তায় সুলতানের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন তিনি।
১৯৭০ সালে এক রক্তপাতহীন অভ্যুত্থানের মাধ্যমে বাবা সাঈদ বিন তাইমুরকে সরিয়ে সুলতান হন তিনি। ক্ষমতায় আসার পর একাধারে সুলতান, প্রধানমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও সামরিক বাহিনীর প্রধানের দায়িত্ব নিজের হাতে তুলে নেন তিনি। তার প্রচেষ্টায় একটি আধুনিক রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে ওমান। একজন রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে বিভিন্ন সময় তিনি কূটনৈতিক সক্ষমতার পরিচয় দেখিয়েছেন। তার প্রচেষ্টায়ই সম্প্রতি ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পরমাণু আলোচনা হয়েছিল। ইয়েমেনের যুদ্ধ বন্ধ করতে তিনিই আলোচনার ব্যবস্থা করেছিলেন।
