রাষ্ট্রায়ত্ত বেসিক ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা কমাতে ব্যাংকের বোর্ডসভার সিদ্ধান্ত এক মাসের জন্য স্থগিত করেছে হাইকোর্ট। এ সংক্রান্ত রিট আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে গতকাল রবিবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম
ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেয়। বেসিক ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন কমিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত হবে না রুলে তা জানতে চেয়েছে হাইকোর্ট। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ এম আমিন উদ্দিন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত তালুকদার। রাষ্ট্রপক্ষের এ আইনজীবী দেশ রূপান্তরকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মধ্যে বেসিক ব্যাংক একসময় ভালো অবস্থায় ছিল। আবদুল হাই বাচ্চু চেয়ারম্যান হওয়ার পর ব্যাংকটিতে প্রায় সাড়ে চার হাজার কোটি টাকার জালিয়াতি হয় বলে অভিযোগ ওঠে। জালিয়াতির অভিযোগ ওঠে আবদুল হাই বাচ্চুর বিরুদ্ধে। বাচ্চুর সময়ে এই ব্যাংক থেকে দেওয়া প্রায় সব ঋণই এখন খেলাপি। গত বছরের জুন মাস শেষে ব্যাংকটিতে খেলাপি ঋণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ১১৩ কোটি টাকা।
রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মধ্যে বেসিক ব্যাংকের বেতন কাঠামো আলাদা ছিল। এতে তারা অন্য ব্যাংকের চেয়ে বেশি বেতন-ভাতা ভোগ করতেন। কিন্তু ব্যাংকটি বিপর্যয়ে পড়ার পর গত ২২ ডিসেম্বর এক আদেশে খরচ কমাতে অন্যান্য সরকারি ব্যাংকের বেতন কাঠামো অনুসরণের সিদ্ধান্ত নেয় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। এতে বলা হয়, বেসিক ব্যাংক বিগত ৭ বছর ক্রমাগত লোকসান দেওয়ায় বিদ্যমান অতিরিক্ত বেতন-ভাতা ব্যাংকের পক্ষে বহন করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তাই ব্যাংকের বিদ্যমান বেতন কাঠামো ও অন্য সুবিধাদি বাতিল করা হলো। বেতন কমে যাওয়ার খবরে ক্ষোভ ও অসেন্তাষ প্রকাশ করেন ব্যাংকটির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
