নরসিংদীতে ২য় শ্রেণির ছাত্রী ধর্ষণের শিকার

আপডেট : ১৪ জানুয়ারি ২০২০, ০৩:২৭ এএম

নরসিংদীতে দ্বিতীয় শ্রেণির এক স্কুলছাত্রী ধর্ষণের শিকার হয়েছে। গত রবিবার সন্ধ্যায় সদর উপজেলার রাজাদী গ্রামের কালীর বাজার এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় গতকাল সোমবার সকালে আলামিন নামে একজনকে আসামি করে মামলা করেন শিশুটির বাবা। মামলার পর ওইদিনই গভীর রাতে পলাশ উপজেলার মাজেরচর গ্রাম থেকে আলামিনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

সাভারে পাঁচ বছরের এক মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল সোমবার সকালে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় অজ্ঞাত পরিচয় একজনকে আসামি করে থানায় মামলা করেছেন ভুক্তভোগীর স্বজনরা।

নরসিংদীর ঘটনায় পুলিশ ও নির্যাতিতার পরিবার জানায়, রবিবার সন্ধ্যায় স্কুল শেষে বাড়ি ফেরার পথে চিনিশপুর ইউনিয়নের রাজাদী গ্রামের কালীর বাজার এলাকায় পৌঁছালে শিশুটির গতিরোধ করে আলামিন। পরে শিশুটির মুখ চেপে ধরে পাশের একটি কলাক্ষেতে নিয়ে ধর্ষণ করে পালিয়ে যায়। পরে শিশুটিকে উদ্ধার করে রাত ১১টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিশুটি জানায়, ‘আমি স্কুল থেকে বাড়ি ফিরছিলাম। আমার এক সহপাঠীকে স্কুলব্যাগটি বাড়িতে রেখে আসতে বলে দোকানে যাচ্ছিলাম। এরই মধ্যে লোকটা আমার বাবার নাম জানতে চায়। একপর্যায়ে সে আমার মুখে চাপ দিয়ে অন্ধকার একটি কলাক্ষেতে নিয়ে যায়।’

শিশুটির রিকশাচালক বাবা বলেন, ‘অনেক খোঁজাখুঁজির পর বাড়ির অদূরে একটি কলাক্ষেতে তার গোঙানির শব্দ শুনতে পাই। সেখানে গিয়ে দেখি আমার মেয়ে পড়ে আছে। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসি। আমি ধর্ষকের বিচার চাই।’

নরসিংদী সদর মডেল থানার ওসি সৈয়দুজ্জামান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘নরসিংদীতে অপরাধ করে পার পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ঘটনার পরপরই নির্যাতিতাকে হাসপাতালে পাঠায় পুলিশের একটি দল। পরে পলাশে অভিযান চালিয়ে ওই রাতেই আলামিনকে গ্রেপ্তার করি।’

সাভারে ধর্ষণের শিকার ৫ বছরের শিশু : সাভারে বাসার পাশে খেলতে গিয়ে পাঁচ বছরের এক মাদ্রাসাছাত্রী ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এ ঘটনায় গতকাল সোমবার সকালে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়েছে।

ধর্ষণের শিকার ওই শিশুর স্বজনরা জানান, সাভারের জিরাবো এলাকায় তাদের স্থায়ী বাড়ি। স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় শিশুশ্রেণিতে পড়ে সে। শনিবার মাগরিবের আজানের পরপরই বাসার পাশের খেলার মাঠ থেকে নিখোঁজ হয় শিশুটি। বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজির প্রায় দেড় ঘণ্টা পর বাসার পাশের একটি মাঠের কোনায় তাকে খুঁজে পাওয়া যায়। বাসায় নেওয়ার পর শিশুটি বমি করতে থাকলে পরদিন রবিবার সাভারের একটি ক্লিনিকে নিলে চিকিৎসকরা পরীক্ষা করে ধর্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত হন এবং ঢামেকে নিয়ে আসতে বলেন। স্বজনদের দাবি, যৌন নির্যাতনের বিষয়টি তারা টের পাননি। চিকিৎসকরা বলার পরই বুঝতে পেরেছেন। শিশুটির কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলেও শিশুটি কিছুই বলতে পারেনি। দুর্বৃত্তকেও চিনতে পারেনি।

সাভার থানার ওসি (তদন্ত) সাইফুল ইসলাম দেশ রূপান্তকে জানান, শিশুটিকে ধর্ষণের অভিযোগে থানায় অজ্ঞাত আসামির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। আসামি গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

সাতক্ষীরায় স্কুলছাত্রীকে যৌন হয়রানি : সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে স্কুলছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে মোস্তফা গাজী ওরফে মোস্ত (৩২) নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। আটক মোস্ত উপজেলার মথুরেশপুর ইউনিয়নের চর যমুনা গ্রামের মৃত মোরশেদ গাজীর ছেলে।

কালিগঞ্জ থানার ওসি দেলোয়ার হুসেন জানান, উপজেলার রতনপুর ইউনিয়নের মহিষকুড় গ্রামের মেয়ে ও রতনপুর তারক নাথ বিদ্যাপীঠের নবম শ্রেণির ওই ছাত্রীর সঙ্গে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে তিন সন্তানের জনক মোস্তফা গাজী। গত বছরের ৬ নভেম্বর ওই ছাত্রীকে নিয়ে উপজেলার বসন্তপুর বিজিবি ক্যাম্পের পাশে বেড়িবাঁধে ঘুরতে যায় মোস্ত। এ সময় সে ওই ছাত্রীকে যৌন হয়রানিসহ তার কিছু আপত্তিকর ছবি নিজের মোবাইল ফোনে ধারণ করে। একপর্যায়ে মোস্তফা গাজী বিবাহিত এবং তার সন্তান আছে জানতে পেরে ওই ছাত্রী তার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মোস্তফা গাজী ওই স্কুলছাত্রীর সঙ্গে তোলা আপত্তিকর ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেইসবুকে ছেড়ে দেয়। এরপর ওই স্কুলছাত্রীর ভাই থানায় বাদী হয়ে মোস্তফার বিরুদ্ধে মামলা করেন। এ ঘটনায় আসামি মোস্তফাকে আটক করে সোমবার বিকেলে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত