পুঁজিবাজারে চলমান অস্থিরতা কাটাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত চার বাণিজ্যিক ব্যাংক।
গতকাল বৃহস্পতিবার সোনালী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সরকারি চার বাণিজ্যিক ব্যাংকের ত্রৈমাসিক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকে সোনালী, জনতা, অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান, প্রধান নির্বাহী (সিইও), এমডিরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় নিয়মিত বিষয়গুলোর সঙ্গে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ নিয়ে পর্যালোচনা হয়।
এ সময় পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়ে মত দিয়ে সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। বিনিয়োগকারীদের আস্থা সংকট আর আতঙ্কে সম্প্রতি শেয়ারবাজারে ধসের ঘটনা ঘটেছে। তবে এ ধসের যুক্তিসঙ্গত কোনো কারণ নেই। ধসের কবলে পড়ে ভালো ভালো কোম্পানির শেয়ারের দাম অনেক কমে যায়।
বিক্রির চাপে মূলত শেয়ারবাজারে ধস নামে। এ পরিস্থিতিতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার পক্ষ থেকে বড় ব্রোকারেজ হাউজগুলোকে বিক্রির চাপ কমানোর জন্য আহ্বান জানানো হয়। আবার যারা ধসের আতঙ্কে শেয়ার বিক্রি করে দেন, তাদের অনেকে শেয়ার কিনছেন। এতে বাজার ঘুরে দাঁড়িয়েছে।
এর আগে গত মঙ্গলবার বড় ধরনের ধসের কবলে পড়ে পুঁজিবাজার। এদিন পর্যন্ত শেষ ৮ কার্যদিবসে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্সের ৪১১ পয়েন্ট কমে।
শেয়ারবাজারের বর্তমান অবস্থাকে ২০১০ সালের মহাধসের থেকেও খারাপ বলে অভিহিত করেন শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্টরা। দরপতনের প্রতিবাদ জানাতে মতিঝিলে অবস্থিত ডিএসইর আগের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেন কিছু বিনিয়োগকারী।
অবস্থার ভয়াবহতা অনুধাবন করে ২০ জানুয়ারি জরুরি বৈঠক ডেকেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নে এ পর্যন্ত যতগুলো প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে সর্বোত্তম প্রস্তাব বাস্তবায়নে সহায়তা দেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
পাশাপাশি আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিবের সঙ্গে গত মঙ্গলবার বৈঠক করেন বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) প্রতিনিধিরা। বৈঠকে সিনিয়র সচিব জানান, সংকট উত্তরণে সরকারি চার ব্যাংককে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ বাড়াতে বলা হয়েছে বলে জানান তিনি।
এদিকে গতকাল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) লেনদেনে অংশ নেওয়া বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। এতে বড় ধরনের উত্থান হয়েছে সবকটি সূচকের।
ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ৮১ পয়েন্ট বা ২ শতাংশ বেড়ে ঠেকেছে ৪ হাজার ১৪৯ পয়েন্টে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই-৩০ সূচক ৩৫ পয়েন্ট বা ২ দশমিক ৫৭ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৪০৬ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
সিএসই সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ২০৭ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার ৬০০ পয়েন্টে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৮ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। লেনদেনে অংশ নেওয়া ২১৭ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম বেড়েছে ১০৩টির, কমেছে ৮৭টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২৭টির।
