বাংলাদেশ বিমানের অনিয়ম ঠেকাতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানিয়েছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী। তিনি গতকাল বৃহস্পতিবার সংসদে ক্ষমতাসীন দলের সাংসদ মোরশেদ আলমের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান।
প্রতিমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ বিমানের অনিয়ম ঠেকাতে সরকার যে পদক্ষেপ নিয়েছে সেগুলো হলোÑ টিকিট কেনার ক্ষেত্রে সিট ব্লকিং পদ্ধতি বাতিল, নিয়োগ পদ্ধতিতে স্বচ্ছতা আনা, আরএফআইডি মেশিনের মাধ্যমে হাজিরা, ই-টিকিটিং পদ্ধতি, লাগেজ হ্যান্ডেলিং ব্যবস্থার উন্নয়ন, পেনশন সহজীকরণ, হজ অ্যাপস চালু, ওয়েবসাইট এবং অনলাইনে টিকিট বুকিং, মোবাইল অ্যাপস চালু, ই-জিপি টেন্ডারিং পদ্ধতি চালু, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট তালিকাভুক্তিকরণ ও ইঞ্জিন মেইনটেন্যান্স পাওয়ার বাই হাওয়ার।
তিনি বলেন, বিমান ইতিমধ্যে সিট বুকিং পদ্ধতি বাতিল করেছে। ফলে টিকিট বিক্রি থেকে রাজস্ব আয় বেড়েছে। বিমানে নিয়োগ পদ্ধতিতে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়েছে। আরএফআইডি মেশিনে হাজিরা গ্রহণের মাধ্যমে বিমানের সব শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঠিক সময়ে কর্মস্থলে উপস্থিতি ও প্রস্থান নিশ্চিত করা হয়েছে। ফেস আইডি মেশিনের মাধ্যমে প্রাপ্ত হাজিরা শতভাগ অনুসরণ করে ওয়াকল সিস্টেমে হাজিরা প্রেরণ করা হচ্ছে।
মাহবুব আলী বলেন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ২০০৭ সালের ৪ মার্চ থেকে দেশের অভ্যন্তরে ও বিদেশের সব অফিস থেকে আন্তর্জাতিক গন্তব্যের জন্য ই-টিকিট ব্যবস্থা চালু করেছে। ২০১৩ সাল থেকে হজযাত্রীদের এবং ২০১৪ সাল থেকে অভ্যন্তরীণ যাত্রীদের জন্য ই-টিকিট চালু করা হয়েছে। ই-টিকিট পদ্ধতিকে আরও কার্যকরের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, যাত্রা শেষে হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে লাগেজ পেতে আগে যাত্রীদের সময় লাগত আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা। লাগেজ এরিয়া ইউনিটির মাধ্যমে কেপিআই নির্ধারণের ফলে প্রথম লাগেজ ১৮ মিনিট ও শেষ লাগেজ ৬০ মিনিটে দেওয়া হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন যাত্রী সেবার মান বৃদ্ধি পেয়েছে, তেমনি কর্মী উৎপাদনশীলতা ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে ওই সময়ের মধ্যে লাগেজ সরবরাহের হার ৯৮ শতাংশ।
