লক্ষ্মীপুর পৌর শহরের জালালিয়া মাদ্রাসা এলাকায় গত শনিবার দোকান থেকে টাকা চুরির অভিযোগ এনে নিরব হোসেন নামে এক কিশোরকে নির্যাতন করা হয়েছে। তাকে বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারধরের পর গলায় জুতার মালা পরিয়ে ঘোরানো হয়।
এ ঘটনায় গতকাল সোমবার নিরবের (১৬) নানি আলেয়া বেগম সদর থানায় চারজনের নামসহ ১২ জনকে আসামি করে মামলা করেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে দোকানমালিক রাশেদ ও ইসমাইলকে গ্রেপ্তার করে। নিরব বর্তমানে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মৃত কিরণ হোসেনের ছেলে নিরব ৬ মাস ধরে স্থানীয় রাশেদের চামড়ার দোকানে কাজ করে। এরই মধ্যে তার মায়ের মৃত্যু হয়। গত শনিবার চুরির অপবাদ দিয়ে তাকে বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারধর করে রাশেদ। পরে সালিশ বৈঠকে স্থানীয় কাউন্সিলর ও মাতুব্বররা ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। টাকা দিতে ব্যর্থ হলে তার গলায় ঝাড়ু ও জুতার মালা পরিয়ে এলাকায় ঘোরানো হয়। এ নির্যাতনের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে সমালোচনার ঝড় ওঠে।
নিরবের দাবি, ৬ মাস ধরে দোকানে কাজ করলেও মজুরি দেওয়া হয়নি। একাধিকবার তাগাদা দিয়ে টাকা না পেয়ে বাধ্য হয়ে মালিকের অগোচরে পাওনা টাকা নিয়েছে।
এ বিষয়ে রাশেদ বলেন, ‘নিরব চুরি করে ধরা পড়ার পর সালিশ বৈঠকের মাধ্যমে শাস্তি কার্যকর করা হয়েছে।’ তবে ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. শিপন বলেন, ‘সালিশের পর আমরা চলে আসি। নির্যাতন ও জুতার মালা পরিয়ে ঘোরানোর কথা জানা নেই।’
সদর থানার ওসি আজিজুর রহমান মিয়া জানান, নিরবকে নির্যাতনের ঘটনায় মামলা হয়েছে। ইতিমধ্যে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
