রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গণহত্যার প্রমাণ পায়নি মিয়ানমার প্যানেল

আপডেট : ২২ জানুয়ারি ২০২০, ০১:৫৪ এএম

রাখাইনে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গণহত্যা চালানোর কোনো প্রমাণ পায়নি মিয়ানমার সরকারের নিযুক্ত একটি স্বাধীন প্যানেল (আইসিওই)। যদিও রাখাইনে ‘যুদ্ধাপরাধের’ প্রমাণ পেয়েছে বলে গত সোমবার জানিয়েছে ওই প্যানেল।

আইসিওইর মতে, ২০১৭ সালে রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সামরিক বাহিনীর দমনাভিযানের সময় সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধ ও গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রমাণ পেয়েছে তারা। এসব ঘটনায় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরাও জড়িতছিল এমন ‘বাস্তব প্রমাণ’ পাওয়া গেছে। যুদ্ধাপরাধ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ওইসব ঘটনার মধ্যে ‘নিরপরাধ গ্রামবাসীদের হত্যা ও তাদের বাড়িঘর ধ্বংস’ করার ঘটনাও আছে বলে জানিয়েছে তারা।

বিবৃতিতে প্যানেল ৩০টি পুলিশ পোস্টে হামলার জন্য রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের দায়ী করে। এসব হামলাই দমনাভিযানের ‘সূচনা’ করেছে মন্তব্য করে পরিস্থিতিকে ‘অভ্যন্তরীণ সশস্ত্র সংঘাত’ বলে বর্ণনা করেছে।

অধিকার আন্দোলনকারীরা ও রোহিঙ্গা নেতারা প্যানেলের প্রতিবেদনটিকে ‘ইচ্ছাকৃতভাবে তথ্য গোপনের চেষ্টা’ অভিহিত করে বাতিল করে দিয়েছে। জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আদালত মিয়ানমারের বিরুদ্ধে দায়ের করা গণহত্যার মামলার রায় দেওয়ার আগে এটি সত্যকে ‘ধামাচাপা দেওয়ার অপচেষ্টা’ বলে মনে করছেন তারা।

বিবৃতিতে প্যানেল বলেছে, ‘রাখাইন রাজ্যের উত্তরাঞ্চলে মুসলিম বা অন্য কোনো সম্প্রদায়কে ধ্বংস করার পরিকল্পনা বা অভিপ্রায় অনুসারে এসব হত্যা বা বাস্তুচ্যুতির কাজ করা হয়েছিল, এমন ধারণা করার মতো কোনো প্রমাণ আইসিওই পায়নি। এসব অপরাধ কোনো ধর্মীয় বা জাতিগত, নৃগোষ্ঠীগত বা জাতীয় গোষ্ঠীকে পুরোপুরি বা আংশিক ধ্বংস করার অভিপ্রায় নিয়ে বা গণহত্যার আন্তর্জাতিক অপরাধ হওয়ার মতো প্রয়োজনীয় মানসিকতা নিয়ে করা হয়েছে, এমন বিতর্ক করার পক্ষেই যথেষ্ট প্রমাণ নেই।’

প্যানেলের তদন্তের এসব তথ্যের সঙ্গে মিয়ানমার সরকার ‘একমত’ বলে গতকাল মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট উয়িন মাইন্ট। তিনি বিশেষত বেসামরিক লোকজন ও রোহিঙ্গা জঙ্গিদের কথিত অপরাধের বিষয়ে আরও তদন্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। চলমান তদন্ত যেন আরও বিস্তৃত হতে পারে সেজন্য তিনি প্যানেলের প্রতিবেদনটি সেনাবাহিনীর প্রধানের কাছে হস্তান্তর করেছেন বলে উয়িন মাইন্ট জানান।

২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের উত্তরাঞ্চলে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে দেশটির সেনাবাহিনীর চালানো নৃশংস দমনাভিযানের সময় কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা পাশবিক সহিংসতার মুখে প্রায় সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত