বাণিজ্যমেলায় বাড়ছে দর্শনার্থী, জমেছে বিক্রি

আপডেট : ২২ জানুয়ারি ২০২০, ০১:৫৮ এএম

জমে উঠেছে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা। এতদিন শুধু ছুটির দিনে চাপ থাকলেও এখন নিয়মিত দর্শনার্থী আসছেন। তাদের জন্য স্টলগুলো হরেক অফার ও মূল্যছাড় দিচ্ছে। সাধ্যের মধ্যে পছন্দের পণ্য কিনতে কার্পণ্য করছেন না আগতরা। যদিও অনেকে পণ্যের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এদিকে আয়োজকরা জানিয়েছে, বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আজ বুধবার সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি অনুষ্ঠান থাকায় ১০টার পরিবর্তে দুপুর ১২টায় মেলা শুরু হবে। প্রধানমন্ত্রীর

আরেক অনুষ্ঠানের জন্য গত ১০ ডিসেম্বর মেলা বন্ধ ছিল। সেদিনের লোকসান পোষাতে স্টলমালিকরা মেলার সময়সীমা বাড়ানোর অনুরোধ করেছেন।

গতকাল মঙ্গলবার মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায়, দুপুরেই টিকিট কাউন্টারে দর্শনার্থীদের ভিড়। প্রবেশপথে দীর্ঘ সারি। সময় গড়ানোর সঙ্গে ভিড় বাড়তে থাকে। সন্ধ্যানাগাদ জনসমুদ্রে রূপ নেয়। প্রায় সব ধরনের পণ্যের স্টলে দর্শনার্থী থাকলেও বেশি ছিল ক্রোকারিজ, ফরেন প্যাভিলিয়ন ও স্যুটের দোকানে। শিশু কর্নার এবং খাবারের দোকানেও ছিল উপচেপড়া ভিড়। প্রসাধনী ও অলংকারের দেশি-বিদেশি স্টলে তরুণীদের বেশি ভিড় লক্ষ করা গেছে। নন স্টিক ফ্রাইপ্যান, প্রেসার কুকার, ভেজিটেবল কাটার, জুস মেকার, প্লাস্টিকের বক্স-বালতিসহ গৃহস্থালির স্টলগুলোতেও নারীরা ভিড় করছেন।

দর্শনার্থীরা জানান, শেষদিকে সব স্টলেই নতুন নতুন পণ্য ওঠানো হয়। দামের ক্ষেত্রে হরেক ছাড় দেওয়া হয়। এজন্য তারা কেনাকাটার জন্য শেষ সময়কে বেছে নেন। তুলনামূলক কম দামে এক স্থান থেকে সব ধরনের পণ্য কেনার সুযোগ নিতেই তারা বাণিজ্যমেলায় আসেন বলে জানান। তবে অনেক স্টল নিম্নমানের পণ্য বিক্রি করছে বলে অভিযোগ করেন দর্শনার্থীরা। তাদের দাবি, বিদেশি প্যাভিলিয়নেও বাংলাদেশি নিম্নমানের পণ্য ওঠানো হয়েছে।

কবি নজরুল কলেজের শিক্ষার্থী উম্মে হাবীবা জানান, মেলা থেকে পণ্য কেনার সুবিধা হলো দাম একটু কম। প্রায় সব ধরনের পণ্যই একটি স্থান থেকে পাওয়া যায়। এবারও অনেক স্টল নিম্নমানের পণ্য বিক্রি করছে। প্রসাধনীর বিষয়ে ধারণা না থাকলে বেশি প্রতারিত হতে হচ্ছে। কর্র্তৃপক্ষের এ বিষয়ে নজর দেওয়া উচিত। উত্তরা থেকে আসা গৃহিণী শামসুন্নাহার জানান, পণ্য কিনতে ছাড় পাওয়া যায় বলে মেলায় আসেন। কিন্তু যানজট তাদের বেশিরভাগ সময় কেড়ে নেয়। এবার স্টল কম থাকায় চলাচলে সুবিধা হচ্ছে। শুধু ছাড় দেখলে হবে না, মান যাচাই করে পণ্য কেনা উচিত বলে মনে করেন তিনি।

গোল্ডেন রোজ স্টলের ইনচার্জ মাসুদ বলেন, ‘প্রত্যেক বছরের মতো এবারও শেষদিকে মেলায় বিকিকিনি জমে উঠেছে। মেলার সময়সীমা বাড়ানো হলে ভালো হতো।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের স্টলের যেকোনো পণ্য কিনলে নোটবুক ফ্রি দেওয়া হচ্ছে। এখন ৩ হাজার ৫০০ টাকা মূল্যের ১০০ এমএল পারফিউমের সঙ্গে ৫০০ টাকা চলছে।’ ফ্লোর্মার স্টলের সাইফুল ইসলাম সজল জানান, মেলা উপলক্ষে তাদের স্টলে পণ্যভেদে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দেওয়া হচ্ছে। বিদেশি প্যাভিলিয়নের বিক্রয়কর্মী ইতি জানান, তারা ইমিটেশনের অলংকার ও কসমেটিকস বিক্রি করছেন। লেকমের একটি কাজল কিনলে আরেকটা ফ্রি দেওয়া হচ্ছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সচিব আবদুর রউফ বলেন, ‘আগামীকাল (আজ) সকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের একটি অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অংশ নেবেন। নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় মেলার সূচিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। সকাল ১০টার পরিবর্তে মেলা শুরু হবে দুপুর ১২টায়।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত