ব্যর্থতার পুনরাবৃত্তিতে সিরিজ হার

আপডেট : ২৬ জানুয়ারি ২০২০, ০৪:৪৬ এএম

বাংলাদেশ : ১৩৬/৬

পাকিস্তান : ১৩৭/১

ফল : পাকিস্তান ৯ উইকেটে জয়ী।

হতাশাজনক ও বিরক্তিকর পারফরম্যান্সে পাকিস্তানের কাছে টি-টোয়েন্ট সিরিজ হারাল বাংলাদেশ। লাহোরে সিরিজের দুটি ম্যাচেই ব্যর্থতার পুনরাবৃত্তি মাহমুদউল্লাহর দলের। যে পিচে আগে ব্যাট করে ৬ উইকেটে ১৩৬ রান তোলে বাংলাদেশ, সেই পিচেই ১৬.৪ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ জিতে নেয় পাকিস্তান! গতকাল বাংলাদেশকে ৯ উইকেটে হারিয়ে সিরিজ বাগিয়ে নিয়েছে স্বাগতিকরা। শূন্যহাতে পাকিস্তান থেকে না ফিরতে চাইলে শেষ ম্যাচটিতে জয়ের বিকল্প নেই বাংলাদেশের। বিপিএলের পরপরই টি-টোয়েন্টিতে এমন ব্যর্থতা ক্রিকেট সমর্থকদের জন্য আসলেই মেনে নেওয়া কঠিন।

আগের ম্যাচে মাহমুদউল্লাহদের ৫ উইকেটে ১৪১ রান ছিল লাহোরে টি-টোয়েন্টিতে সর্বনিম্ন। এক দিন পর সেই লজ্জা আরও বাড়ল বাংলাদেশের। টস জিতে গত ম্যাচের মতো এদিনও আগে ব্যাট করে বাংলাদেশ। টসের মতো পুনরাবৃত্তির ছিল ব্যাটিংয়েও। এমন নয় যে গতকালের উইকেট প্রথম ম্যাচের মতো দুর্বোধ্য ছিল। গতকালের পিচে বাউন্স ছিল, পেসারদের বল পিচ করে সহজেই ব্যাটে আসছিল। কিন্তু তার বিপরীতে রান করা কঠিন হয়ে দাঁড়ায় বাংলাদেশ ব্যাটসম্যানদের জন্য। তিন পাকিস্তান পেসার মিলে ১২ ওভার করেছেন, তাতে মাত্র ৬৯ রান নিতে পেরেছে বাংলাদেশ। উইকেট দিতে হয় চারটি। অথচ তিন বাংলাদেশ পেসারের ৯ ওভারেই ৭৩ রান নিয়েছে পাকিস্তান ব্যাটসম্যানরা। পুরো ইনিংসে শফিউলের একটি উইকেটই বাংলাদেশের অর্জন। আগের দিনের বোলিং পারফরম্যান্স এতটা বাজে ছিল না। কিন্তু ব্যাটিং ব্যর্থতার ধারাবাহিকতায় যোগ হলো বোলিংও।

সিরিজ শুরুর আগে অনুশীলন ক্যাম্প করে পাকিস্তান। সেখানে নিজেদের মধ্যে মাত্র চার ম্যাচ খেলেছিল তারা। কিন্তু বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মানের একটি টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট খেলেই পাকিস্তান সফরে যায়। বিপিএলের পারফরম্যান্সের বিচারে সব ফর্মে থাকারাই সুযোগ পান দলে। কিন্তু পাকিস্তানে পা রাখতেই একসঙ্গে সবাই ফর্ম হারিয়ে ফেললেন। গতকাল একমাত্র তামিম ইকবালের ব্যাটে রান এলো। শেষ পর্যন্ত টি-টোয়েন্টিতে নিজের সপ্তম হাফসেঞ্চুরি করে ৫৩ বলে ৬৫ করে থামেন। তার আগে ১১ ওভার পর্যন্ত তামিম যেভাবে খেলছিলেন ৭৭ টি-টোয়েন্টি খেলা অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানের কাছে সেটা মোটেও কাম্য নয়। তখন ২৮ বলে ২৯ রান তার। ১৬ রানে জীবন পাওয়াটা কাজে লাগিয়েছেন হাফসেঞ্চুরি করে যেভাবে রান আউট হলেন, এই পর্যায়ের ক্রিকেটে তা অগ্রহণযোগ্য। ইনিংসের শেষদিকে মারমুখী হয়েছিলেন। ১৮তম ওভারে হারিস রউফের চতুর্থ বলে ২ রানের জন্য ছোটেন। কিন্তু ইমাদ ওয়াসিমের থ্রোতে বল স্ট্যাম্পের কাছে চলে এলেও দৌড়ের গতি বাড়েনি তামিমের। এমনকি উইকেট বাঁচানোর জন্য ডাইভও দেননি। ফলাফল রান আউট।

ইনিংসের শেষ ৫ ওভারে মাত্র ৪৮ রান এসেছে বাংলাদেশের। তামিম ছাড়া টপ অর্ডারের কারো রান নেই। মোহাম্মদ নাঈম প্রথম বলেই ফিরেছেন, মোহাম্মদ মিঠুনের বদলে নামা মেহেদী হাসান ১২ বলে করেছেন ৯। বিপিএলের সারপ্রাইজ প্যাকেজ পাকিস্তানে প্রথম ম্যাচে ব্যর্থ। লিটন দাসও ১৪ বলে ৮ রান করে বল নষ্ট করেছেন কেবল। বাংলাদেশ ইনিংসের সর্বোচ্চ ৪৫ রানের জুটিটি করেন তামিম ও আফিফ। দারুণ শুরু করেও ২০ বলে ২১ করে থামেন আফিফ। শেষের ওভারগুলোয় রান ওঠানোর চাপেই খেই হারান মাহমুদউল্লাহ ও সৌম্য।

ম্যাচ শেষে বাংলাদেশ অধিনায়ক অকপটেই স্বীকার করলেন পাকিস্তান পেসারদের কাছে ব্যর্থ তারা, ‘আসলে পাকিস্তান পেসারদের কৃতিত্ব দিতেই হবে। ওরা ভালো জায়গায় বল করেছে। আমাদের জন্য রান তোলা কঠিন করে তুলেছিল। যে কারণে আমরা ভালোভাবে শেষ করতে পারিনি। আমরা চেয়েছিলাম আজ ১৫০-৬০ রান তুলতে। কিন্তু তামিম ছাড়া আর কেউ দায়িত্ব নিয়ে খেলতে পারিনি। ম্যাচ হারায় অবশ্যই হতাশ। ব্যাটিংয়ে আমরা খুবই খারাপ করেছি। শেষ ম্যাচে আমাদের পরিকল্পনা কী হবে তা এখনো নিশ্চিত না। হয়তো পরিবর্তন আসবে কিছু। কিন্তু শেষ ম্যাচটা ভালো করতে হবে।’

জবাব দিতে নেমে শুরুতেই আগের ম্যাচে অভিষিক্ত আহসান আলির উইকেট হারিয়ে ধাক্কা খায় পাকিস্তান। কিন্তু গত ম্যাচের মতো ভুল করেনি তারা। বাংলাদেশ ভুল থেকে না শিখলেও পাকিস্তান ব্যাটসম্যানরা কক্ষপথে ফিরেছেন। টি-টোয়েন্টির নাম্বার ওয়ান ব্যাটসম্যান বাবর আজম ৪৪ বলে ৬৬ ও মোহাম্মদ হাফিজ ৪৯ বলে ৬৭ রানে অবিচ্ছিন্ন থেকে সহজেই দলকে জিতিয়ে দেন। আগের ম্যাচের মতো এদিনও বাংলাদেশের সবচেয়ে খরুচে বোলার মোস্তাফিজুর রহমান। ৩ ওভারে দিয়েছেন ২৯। সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে দলকে জেতানোয় ম্যাচসেরার পুরস্কার উঠেছে বাবর আজমের হাতে। পাকিস্তান অধিনায়ক সিরিজ জয়ের জন্য কৃতিত্ব দিচ্ছেন দলকে। বিশেষ করে দুই অভিজ্ঞ শোয়েব মালিক ও হাফিজকে, ‘এই সিরিজ আমাদের জিততেই হতো। একই সঙ্গে বিশ্বকাপের জন্য তরুণদের তৈরি করার পরিকল্পনাও ছিল। সাফল্যজনকভাবে আমরা দুটিই পেরেছি। শোয়েব ও হাফিজ ভাইদের ধন্যবাদ দিতে চাই আমার কাজ সহজ করে দেওয়ার জন্য।’

ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মলনে আসেন বাংলাদেশ কোচ রাসেল ডোমিঙ্গো। পরে বোলিং করে পাকিস্তান যে বেশি সফল তা উল্লেখ করেন এই দক্ষিণ আফ্রিকান, ‘আমরা সবাই জানি পাকিস্তান স্কোর ডিফেন্ড করায় কতটা ভালো। যদি আমরা ওদের রেকর্ড দেখি তবে স্পষ্ট হবে স্কোর ডিফেন্ড করায় ওরা সেরা দল।’ কোচের চিন্তা যদি এটাই হয়ে থাকে তাহলে টস জিতে ব্যাটিং নেওয়া কেন। এর ব্যাখ্যাও দিয়েছেন কোচ, ‘আমরা এখানে ভিন্ন পরিকল্পনা করেছিলাম। চেষ্টা করেছিলাম ভালো একটা সংগ্রহ করে ওদের চাপে ফেলতে। কিন্তু আমাদের পরিকল্পনাটা ঠিক কাজ করেনি।’ তাই সিরিজ হারের ব্যর্থতা জুটল বাংলাদেশের। কোচ আরও বলেন, ‘আগের ম্যাচে যাও লড়াই করেছি কিন্তু এ ম্যাচে কিছুই হলো না। আমরা অবশ্যই ২০-২৫ রান কম করেছি। অথচ উইকেট গত ম্যাচের চেয়ে আজ ভালো ছিল। অন্তত ১৫৫ রান করলেও লড়াই হতো। এ কারণেই ওরা এক নম্বর দল আর আমরা নয়ে।’

সিরিজ হারলেও পাকিস্তানের নিরাপত্তা দিয়ে মাহমুদউল্লাহর মতো সন্তুষ্টি প্রকাশ করলেন ডোমিঙ্গো, ‘সুবিধার কথা হিসাব করলে পাকিস্তান যা দিচ্ছে তার চেয়ে বেশি কেউ আশা করতে পারে না। তবে সামনে এত সেনাবাহিনী থাকা সত্যিই ভীতিকর। তবুও আমি বেশ উপভোগ করছি। এটা আমার প্রথম পাকিস্তান সফর, সত্যিই খুব ভালো লাগছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত