‘ব্যাটসম্যানদের মধ্যে ইচ্ছা-ক্ষুধা-সাহসিকতা নেই’

আপডেট : ২৭ জানুয়ারি ২০২০, ০২:৪৪ এএম

সিরিজ হাতছাড়া হয়েছে, এখন সম্মান নিয়ে দেশে ফেরাই বড়। সে লক্ষ্যে লাহোরেই আজ তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টি খেলতে নামছে বাংলাদেশ। আগের দুই ম্যাচে দলের যা অবস্থা তাতে বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাস এই মুহূর্তে কোথায় তা সহজেই অনুমান করা যায়। ব্যাটিং বিভাগে বাংলাদেশ ক্রিকেটাররা আত্মবিশ্বাসহীনতায় ভুগছেন বেশি। অথচ ‘ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেলো’ মন্ত্র শিষ্যদের মাথায় ঢোকানোর চেষ্টা করছেন হেড কোচ রাসেল ডোমিঙ্গো। পাকিস্তান সিরিজে এর প্রতিফলন কিছুই হয়নি। পাকিস্তানে না যাওয়া দলের ব্যাটিং কোচ নিল ম্যাকেঞ্জি গতকাল এমনটাই জানালেন। আগের মেয়াদে সফল হওয়ায় ম্যাকেঞ্জির সঙ্গে চুক্তি নবায়ন করেছে বিসিবি। কিন্তু তার অধীনে ব্যাটিংয়ের যেসব জায়গায় উন্নতি হয়েছে পাকিস্তানে তার কিছুই চোখে পড়েনি ম্যাকেঞ্জির।

ক্রিকেট ওয়েবসাইট ক্রিকইনফোকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ম্যাকেঞ্জি বলেন, দলে অতিরিক্ত অনভিজ্ঞ খেলোয়াড় চলে আসায় এটা হয়েছে। এই মুহূর্তে দেশে টেস্ট স্পেশালিস্টদের নিয়ে কাজ করছেন ম্যাকেঞ্জি। পাকিস্তানে শিষ্যদের ব্যাটিং দেখে তার উপলব্ধি, লক্ষ্যে পৌঁছাতে ইচ্ছার অভাব ব্যাটসম্যানদের। জানালেন, ‘এই মুহূর্তে দলে অনেক অনভিজ্ঞতা। আমরা জানতাম এ নিয়েই খেলতে হবে। কিন্তু যা হচ্ছে তা সত্যিই হতাশার। প্রথম টি-টোয়েন্টিতে কিন্তু আমরা খুব ভালো শুরু হাতছাড়া করেছি। আমরা কাছে মনে হচ্ছে হতাশার বিষয় হলো খেলোয়াড়দের মধ্যে ইচ্ছার অভাব। দুই বছর ধরে আমরা স্ট্রাইক রোটেশন, মাঝের ওভারগুলোতে ৬-এর বেশি রান তোলা, বিপক্ষ বোলারদের চাপে ফেলা, কীভাবে দাঁড়ালে বোলার কোথায় বল ফেলবে, যেখানে আমি চাই ঠিক সেখানে বোলারকে বল ফেলতে বাধ্য করা, এসব নিয়ে আমরা অনেক কাজ করেছি। কিন্তু পাকিস্তানের বিপক্ষে দুই টি-টোয়েন্টিতে ব্যাটসম্যানদের কাছে এসব কিছু দেখিনি। রাসেল (ডোমিঙ্গো) চাইছে সবাইকে নির্ভীক হয়ে খেলাতে, আরেকটু ক্ষুধার্ত হয়ে খেলাতে। দলে এখন অনেক প্রতিযোগিতা, এজন্য ক্রিকেটাররা খুব চাপে আছে, এটা বুঝতে পারছি। কিন্তু নির্বাচক ও কোচরা যে ওদের ওপর আস্থা রাখছে এটা আশা করি ওরা বুঝবে।’

আরেকটি বিষয় মনে হচ্ছে বাংলাদেশের ব্যাটিং কোচের। তা হলো নেতিবাচক মানসিকতা ক্রিকেটারদের ধারাবাহিক হতে দিচ্ছে না। ক্রিকেটাররা পরের ম্যাচ খেলতে পারলেই খুশি থাকছে। ম্যাকেঞ্জি বিষয়টি ব্যাখ্যা করলেন এভাবে, ‘আমরা চাই ধারাবাহিকতাটা আনতে। কিন্তু বেশিরভাগ ক্রিকেটার পরের ম্যাচ খেলতে পারলেই খুশি। যদি কেউ ৪০ বা ৫০ করে তাহলে দেখবেন ইনিংস লম্বা হচ্ছে না। আর সে পরের ম্যাচে খেলছে। এটা খুবই নেতিবাচক মানসিকতা। আমরা চাইছি ব্যাটসম্যানদের বিশ্বের সেরা করতে, অন্তত বাংলাদেশের সেরা ব্যাটসম্যান হোক সে। কিন্তু এমন কিছু ব্যাটসম্যানদের মধ্যে দেখছি না। আমি চাই দলের প্রয়োজনে সে স্বার্থপর হোক। ৮০ রান করলে ১০০ বা ২০০ করুক। ধারাবাহিক হওয়ার চেষ্টা করুক। কিন্তু সেটা হচ্ছে না।’

সংক্ষিপ্ত ওভারের ক্রিকেটে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে নতুন ধারা এনেছেন ম্যাকেঞ্জি। দলের বেশ কয়েকজন টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান। লিটন দাস, সৌম্য সরকার, আফিফ হোসেনরা সাম্প্রতিক সময়ে রানও পেয়েছেন। তবে ম্যাকেঞ্জির ধারণা নতুন ব্যাটিং পজিশনে মানিয়ে নেওয়াটা কঠিন হচ্ছে তাদের জন্য, ‘কম্বিনেশন ঠিক করার জন্য বেশকিছু অদল-বদল করতে হয়। রাসেল এখন সঠিক কম্বিনেশন পাওয়ার জন্য কিছু পরিবর্তন আনছে। সমস্যাটা হলো দলে এখন এমন ব্যাটসম্যান বেশি যারা ১, ২, ৩ তিনে ব্যাট করে। ৪, ৫, ৬-এ ব্যাট করার জন্য অন্যরকম স্কিল লাগে যা একজন টপ অর্ডারের থাকে না। মিডল অর্ডারের জন্য একই নিয়ম। আপনি পেসে খুব ভালো কিন্তু নেমেই দেখলেন দারুণ একজন স্পিনার আপনার বিপক্ষে। এমন পরিস্থিতিতে মানিয়ে নেওয়া কঠিন।’

দুই সিরিজ পর দলে ফিরেছেন তামিম। পাকিস্তানের বিপক্ষে তার ব্যাটিং একটু মন্থর হয়েছে। ম্যাকেঞ্জির মতে উইকেটের অন্যপ্রান্তের সমস্যা তামিমকে এমন হতে বাধ্য করেছে। জানান, ‘তামিমকে সময় দিতে হবে। সে ইনজুরি ও অনেক কিছুর মধ্য থেকে ফিরেছে। স্বস্তির বিষয় সে রান পাচ্ছে। আমরা সবাই জানি সে কী করতে পারে। বিষয়টা হলো অন্যপ্রান্ত ওকে চাপে ফেলছে কি না। অন্যপ্রান্তে কোনো ব্যাটসম্যান যদি ভালো না করে, তাহলে এ প্রান্তের কারও পক্ষে কিন্তু মেরে খেলা সহজ না। তামিমকে বিপক্ষ ব্যাটসম্যানের ওপর আস্থা রাখতে হবে, একই সঙ্গে বিপক্ষ ব্যাটসম্যানেরও ভালো করা চাই। আমি খুশি যে সে ফিরেছে এবং ইতিবাচক মানসিকতাতেই আছে। আশা করি এটা দীর্ঘ হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত