করোনাভাইরাস স্বাস্থ্যঝুঁকির পাশাপাশি আতঙ্ক ছড়িয়েছে অর্থনীতিতে। চীনের পাশাপাশি বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও পড়তে শুরু করেছে নেতিবাচক প্রভাব। ভাইরাসটি দেশে দেশে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করায় চীন ভ্রমণে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে বিভিন্ন দেশ। ফলে ফ্লাইট, হোটেল বুকিং বাতিল হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে চীনের পর্যটন খাত। পাশাপাশি দেশটির আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যেও ধস নামতে শুরু করেছে। ধস নামতে শুরু করেছে বিশ্ব পুঁজিবাজারেও। জ্বালানি তেলের দরও পড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। গতকাল সোমবার স্ক্রল ইন, এএফপি, নিউইয়র্ক টাইমসসহ বিশ্ব গণমাধ্যমে উঠে এসেছে করনোভাইরাসের প্রভাবে অর্থনীতির উল্টো গতির চিত্র।
স্ক্রল ইনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চান্দ্র বর্ষ উপলক্ষে পর্যটনমুখর থাকে চীনের হোটেল আর পর্যটন কেন্দ্রগুলো। পরিবারের টানে দেশে আসেন চীনারা। বিভিন্ন দেশ থেকে নতুন বছর উদযাপন করতে আসেন পর্যটকরা। যাত্রীসেবায় তাই ব্যস্ত থাকে এয়ারলাইন্সগুলো। কিন্তু এ বছরের চিত্র পুরোটাই ভিন্ন। করোনাভাইরাসের আতঙ্কে ফিকে হয়ে গেছে উৎসবের আনন্দ। পর্যটন অর্থনীতি যেন হঠাৎ করে নিম্নমুখী যাত্রা শুরু করেছে। চীনের অর্থনীতির ১১ শতাংশ নির্ভর করে পর্যটন খাতের ওপর। ভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে না আসলে তা দেশটির অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। এর আগে ২০০৩ সালে সার্স ভাইরাসের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে চার হাজার কোটি ডলারের ক্ষতি হয়েছিল। চীনের মতো চলতি বছর সিঙ্গাপুরের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সিঙ্গাপুরের বাণিজ্যমন্ত্রী চ্যান চুন সিং বলেছেন, আমরা অবশ্যই আশঙ্কা করছি যে, চলতি বছর আমাদের অর্থনীতি, ব্যবসা এবং ভোক্তার আত্মবিশ্বাসের ওপর এই করোনাভাইরাসের প্রভাব পড়বে। সিঙ্গাপুরের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ০ দশমিক ৫ থেকে আড়াই শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে সম্প্রতি দেশটির সরকার যে ঘোষণা দিয়েছে তাতেও বড় ধরনের ধাক্কা লাগতে পারে।
নিউইয়র্ক টাইমস বলছে, বড় ধরনের ধাক্কা লাগতে যাচ্ছে বিশ্ব পুঁজিবাজারেও। গতকাল টোকিও, অস্ট্রেলিয়া, নিউইয়র্ক, লন্ডন, সাংহাই, সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন পুঁজিবাজারে সূচকের পতন হয়েছে উল্লেখযোগ পরিমাণে। যুক্তরাষ্ট্রের পুঁজিবাজার দাপিয়ে বেড়ানো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোও সার্বক্ষণিক চোখ রাখছে ভাইরাসের সর্বশেষ অবস্থার দিকে।
এএফপি বলছে, গতকাল সোমবার অপরিশোধিত তেলের দর পড়েছে প্রায় আড়াই শতাংশের মতো। ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার ধারা অব্যাহত থাকলে এই পতন আরও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়তে পারে। ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার প্রভাব পড়েছে মুদ্রার বিনিময় হারেও। ডলারের বিপরীতে দর পড়েছে ইউরো থেকে শুরু করে এশিয়ার অনেক দেশের আঞ্চলিক মুদ্রার ক্ষেত্রেও। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শিগগিরই এই ভাইরাস থেকে মুক্তির উপায় আবিষ্কার করতে না পারলে হাজার হাজার প্রাণের পাশাপাশি হারাতে হবে বৈশ্বিক অর্থনীতির ইতিবাচক ধারাও।
