আবার যে প্রতিযোগিতামূলক টেনিসে ফিরতে পারবেন তা নিয়েই ঘোর সন্দেহ ছিল স্টান ওয়াওরিঙ্কার। কারণ ২০১৭ সালের পর দুবার হাঁটুতে জটিল অস্ত্রোপচার হয়েছে। সেই সাবেক ওয়ার্ল্ড নাম্বার ওয়ান গতকাল অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে র্যাংকিংয়ের চার নম্বর খেলোয়াড় ড্যানিল মেদভেদেভকে ৫ সেটের ম্যাচে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালেও উঠেছেন। তিনটি গ্র্যান্ড স্ল্যাম চ্যাম্পিয়নের সেমিফাইনালে ওঠার পথে বাধা কে হবেন তাও নিশ্চিত। জার্মানির সপ্তম বাছাই আলেকজান্ডার জেবেরেভের বিপক্ষে খেলবেন ওয়াওরিঙ্কা।
অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের সেমিফাইনালে ওঠার পথে তার প্রতিপক্ষ কে হবে তা নিয়ে মোটেই চিন্তিত নন রজার ফেদেরারের বন্ধু। কারণ, নিজের দিনে তিনি যে কাউকে হারানোর ক্ষমতা রাখেন। ওয়াওরিঙ্কা ২০১৪ সালে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালে রাফায়েল নাদালকে হারিয়ে তা প্রমাণও করেছিলেন। তবে এবারের পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। এবার ওয়াওরিঙ্কাকে লড়তে হচ্ছে ইনজুরির সঙ্গেও। ২০১৭ সালে জেনেভার ক্লে কোর্টে শেষবার শিরোপা জিতেছিলেন। ওটা ছিল ক্যারিয়ারের ১৬তম। এরপর হাঁটুর ইনজুরিতে লম্বা বিরতি। কোর্টে ফিরে গতকাল নিজের জাত চেনানোর পর ওয়াওরিঙ্কা বলেছেন, ‘অস্ত্রোপচারের আগে আমার মনে হয় শেষবারের মতো এত ভালো খেলেছিলাম। আমি নিশ্চিত কোর্টের বাইরে থাকার সময় আমার দক্ষতা বেড়েছে। শারীরিকভাবে আমি গত বছরের চেয়ে ভালো মুভ করতে পারছি। অনেক উন্নতিও করছি।’
এটা ছিল ওয়াওরিঙ্কার ৩০০তম ট্যুর ম্যাচ। নিজের ১৮তম গ্র্যান্ড সøামের কোয়ার্টার ফাইনালে পা রাখার পর ওয়াওরিঙ্কা বলেছেন, ‘দুনিয়ার অনেক জায়গায় ঘুরে অনেক দর্শকের সামনে খেলেছি। আবেগ অনুভব করেছি। এভাবে খেলে এবং অনুশীলন করে নিজের উন্নতি হলে দারুণ লাগে। এই পদ্ধতিকে আমি ভালোবাসি। তবে জানি না আমি আর কত বছর খেলতে পারব। তবে যতদিন খেলি নিজেকে উজাড় করে দিতে চাই।’ স্টান ওয়াওরিঙ্কাকে বলা হয় ফ্যাব ফোর প্রজন্মের তারকা। টেনিসে এসেছিলেন ফেদেরার, নাদাল, জকোভিচ এবং অ্যান্ডি মারের সময়ে। এখনো খেলেই চলেছেন। যদিও বন্ধু রজার এবং নাদাল-জকোভিচের মতো সাফল্য নেই তার। তবে যা অর্জন করেছেন তাতেই খুশি তিনি এই পর্যায়ে এখনো খেলতে পারাটা অসাধারণ ব্যাপার। কোর্টে আমি যা করেছি তাতেই আমি খুশি।’
অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে চতুর্থ রাউন্ডে গায়েল মঁফিলসকে ৬-২, ৬-৪, ৬-৪-এ হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছেন ডমিনিক থিয়েম। তিনি খেলবেন নাদালের বিপক্ষে। চতুর্থ রাউন্ডে দারুণ লড়াই করে অস্ট্রেলিয়ার নিক কিরিয়সকে হারিয়েছেন তিনি। স্কোর ৬-৩, ৩-৬, ৭-৬ (৮/৬), ৭-৬ (৭/৪)।
এদিকে নারী এককের কোয়ার্টারে উঠেছেন অ্যানেট কন্টাভেট, সিমোনা হালেপ, গারবিনে মুগুরুজা এবং আনাস্তেশিয়া পাভলুশেঙ্কোভা। শেষ আটের লাইনআপটা হয়েছে এমন অ্যাশলি বার্টি-পেত্রা কেভিতোভা, সোফিয়া কেনিন-উন্স জাবির, অ্যানেট কন্টাভিট-সিমোনা হালেপ এবং গারবিনে মুগুরুজা-পাভলুশেঙ্কোভা।
