ঘটনাস্থলেই ছিলেন না মামলার বাদী

আপডেট : ২৮ জানুয়ারি ২০২০, ০২:০৫ এএম

গোপীবাগে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী ইশরাক হোসেনের মিছিলে সংঘর্ষের ঘটনায় ২০০ জনকে আসামি করে মামলা হয়েছে। মামলা করেছেন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী

শেখ ফজলে নূর তাপসের ৩৯ নম্বর ওয়ার্ড নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচীব মাকসুদ আহমেদ। গত রবিবার মধ্যরাতে তিনি ওয়ারী থানায় ৫০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১০০-১৫০ জনের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন। পরবর্তী সময়ে পুলিশ রাতভর অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত চার আসামিসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে। গতকাল সোমবার আদালতের মাধ্যমে তাদের এক দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদও শুরু করেছে পুলিশ। তবে মামলার বাদী মাকসুদ আহমেদ দেশ রূপান্তরকে বলেছেন, তিনি সংঘর্ষের সময় ঘটনাস্থলেই ছিলেন না। পারিবারিক প্রোগ্রামে ব্যস্ত ছিলেন সারাদিন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই জুলফিকার দেশ রূপান্তরকে বলেন, রবিবার মধ্যরাতে মামলা রেকর্ড হওয়ার পর সোমবার ভোর ৬টা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত চার আসামিসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে এক দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পাশাপাশি অন্যান্য আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

যদিও ওয়ারী থানায় মামলার এজাহারে তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন এবং আহতদের নিয়ে চিকিৎসা করানোর দাবি করেছেন।

এজাহারে তিনি বলেছেন, ‘আমি নিম্ন স্বাক্ষরকারী মাকসুদ আহমেদ (৫৬) ওয়ারীর আর কে মিশন রোডের ৮৯/৬ নম্বরের বাসিন্দা। ৩৯ নম্বর ওয়ার্ড নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব। থানায় এসে বিবাদী শাহ আলম ওরফে পাভেল শিকদার (৩৫), মুকিতুল হাসান রঞ্জু (৩৪), হাজী মো. মাহবুবুল আলম (৫০), আবদুর রহিম ভূঁইয়া আশিক (৩৩), মো. আবদুল হাই ভূঁইয়া (৬০), ভাগ্নে রনি (৩২), মোহাম্মদ আলী (৫০), মিয়া হোসেন, নূর হোসেন হ্যাপী (৩১), তুহিন, বুলবুল, নাঈম, বিল্লাল, মামুন, ফাহিম, সিয়াম, নাঈম-২, ইমরান, আনোয়ার, শাজাহান, আরিফিন, মুক্তার, খালেক, মাসুদ, নূর ইসলাম, জনি, মোহাম্মদ আলী পারভেজ, রফিক উল্লাহ, খবির আহমেদ, ইকবাল (৪২), এনএ শাহেদ মন্টু, (৫০), মনির, বাঁধন, জনি, অপু দাস, মো. তুষার, সুব্রত, খোকন, খোকা (৪৫), সৈকত, আশীষ, ফারুক ওরফে টেপা ফারুক, সোহেল ওরফে লম্বা সোহেল, এ কে দীপ্ত আহমেদ (৩০), মাসুদ রোমান (৩৫), মো. নূরুল ইসলাম (৪৫), মো. শাহ আলম (৫০), সোহেল ওরফে ডাব্বা সোহেল (৩৮), রাজিব (২৭) ও নূর হোসেন রবিন (২৭)সহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০০/১৫০ জনের বিরুদ্ধে এই মর্মে অভিযোগ দায়ের করতেছি যে, ২৬ জানুয়ারি সকাল অনুমান ১১টায় ৩৯নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের কাউন্সিলর প্রার্থী রোকন উদ্দিন আহমেদ ও সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর লাভলী চৌধুরী অনুমান ৭০/৮০ জন নেতাকর্মী ও সমর্থকসহ তাদের নির্বাচনী এলাকায় গণসংযোগ করি। গণসংযোগ শেষ করে ওয়ারী থানাধীন ৪৮/৩/এ আর কে মিশন রোডের রোকন উদ্দিন আহমেদের অস্থায়ী নির্বাচন ক্যাম্পে আসি। জোহরের নামাজের বিরতি দিলে আমাদের কিছু নেতাকর্মী, সমর্থক নামাজের জন্য প্রস্তুতি নেয়। দুপুর অনুমান ১২টা ৫০ মিনিটের সময় আসামি শাহ আলম ওরফে পাভেল শিকদারের নেতৃত্বে এজাহারনামীয় আসামিরা অজ্ঞাতনামা দুই মহিলাসহ ১০০/১২৫ জন লোক অভয় দাস লেনের পশ্চিম দিক থেকে মিছিল করে আমাদের কার্যালয়ের দিকে আসতে থাকে। কার্যালয়ের সামনে এসে আমাদের কটাক্ষ করে ‘নৌকা ডোবা ধান লাগা’সহ বিভিন্ন ধরনের উসকানিমূলক সেøাগান দিতে থাকে। আমাদের কর্মী ইয়াসির আরাফাত রকি, আনিসুর রহমান, মোবারক হোসেন সেলিম, রমজান আলী, আমীর হোসেন কুট্টু, সোহরাব হোসেন, বাবুল মিয়া ও সমীর শাহসহ অনেকেই তাদের এই ধরনের সেøাগান দিতে নিষেধ করেন। কিন্তু আসামিরা সেøাগান দেওয়া থেকে বিরত না হয়ে বেআইনি জনতাবদ্ধে উত্তেজিত হয়ে লাঠিসোটা দিয়ে আমাদের কর্মীদের ওপর হামলা করে।’

এজাহারে তিনি আরও বলেছেন, ‘এ সময় আমাদের কার্যালয়ে থাকা নেতাকর্মীরা এগিয়ে গেলে আসামি শাহ আলম ওরফে পাভেল শিকদার আমার নেতাকর্মীদের হত্যার উদ্দেশ্যে তাহাদের সঙ্গে থাকা পিস্তল দিয়ে আমার নেতাকর্মীদের ওপর গুলি বর্ষণ করতে থাকে। এতে আমাদের নেতাকর্মীরা আতঙ্কিত হয়ে দিগি¦দিক দৌড়াতে থাকে। অন্যান্য আসামিরা আমার নেতাকর্মীদের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। কতিপয় আসামি আমাদের নির্বাচনী কার্যালয়ে ঢুকে কার্যালয়ে থাকা নেতাকর্মীদের মারধর করে ও কার্যালয়ের টেবিল চেয়ার ভাঙচুর করতে থাকে। আমাদের নেতাকর্মীদের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে গেলে আসামিরা অনুমান ১টা ৫ মিনিটের দিকে চলে যায়। তারা চলে যাওয়ার পর আমাদের নেতাকর্মীদের খুঁজতে গিয়ে দেখি, কর্মী ইয়াসির আরাফাত রকি মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে কার্যালয়ের পূর্ব দিকের রাস্তায় পড়ে আছে, মোবারক হোসেন সেলিমের ডানহাতের পেশিতে গুলিবিদ্ধ। আসামিদের লাঠির আঘাতে মনির হোসেনের বাম পায়ের হাঁটুর নিচে মারাত্মক জখম, সোহরাব হোসেনের হাতে-পায়ে জখম, আমীর হোসেন কুট্টুর সমস্ত শরীরে মারাত্মক বেদনাদায়ক জখম। এছাড়া আসামিরা অফিসের টেবিল, চেয়ার ও অন্যান্য জিনিসপত্র ভাঙচুর করে অনুমান ৫০ হাজার টাকার ক্ষতিসাধন করে।’ তিনি এজাহারে আরও বলেছেন, ‘আমি আমাদের নেতাকর্মীদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাই। ইয়াসির আরাফাত রকি ও বাবুলের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় কর্তব্যরত ডাক্তার তাদের চিকিৎসার জন্য ভর্তি করে। আমাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়। পরবর্তীতে আমি আমাদের অন্যান্য নেতাকর্মীদের সাথে আলাপ-আলোচনা করে থানায় হাজির হয়ে অভিযোগ করতে সামান্য বিলম্ব হলো।’

তবে হামলাকারী ও হামলার ধরন সম্পর্কে জানতে চাইলে মাকসুদ আহমেদ টেলিফোনে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ওই... টা... অবশ্য আমি সঠিক বলতে পারব না। কারণ কালকে আমি ওইখানে ছিলাম না। আমি খুব ব্যস্ত ছিলাম সারাদিন বাইরে, পারিবারিক প্রোগ্রামে। তয়, তারা এই লা... লা..., লাঠিসোটা, আরও কী কী নাকি, এইখান থেকে নাকি গুলির খোসাও পুলিশরা জব্দ করছে, ক্যাম্পের সামনে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত