কারা হাসপাতাল

১১৭ শূন্য পদে চিকিৎসক নিয়োগের নির্দেশ হাইকোর্টের

আপডেট : ৩০ জানুয়ারি ২০২০, ০৫:৩৮ এএম

দেশের কারা হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসকের ১১৭টি শূন্য পদে অনতিবিলম্বে নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। এ সংক্রান্ত একটি রিট আবেদন ও কারা কর্র্তৃপক্ষের প্রতিবেদনের ওপর শুনানি শেষে গতকাল বুধবার বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।

এ নির্দেশনা কতটুকু বাস্তবায়ন হলো তা প্রতিবেদন আকারে এক মাসের মধ্যে আদালতকে জানাতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে বলা হয়েছে।

আদালতে রিটকারী আইনজীবী জে আর খাঁন রবিন নিজেই শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ বি এম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার। 

রিটকারী অ্যাডভোকেট জে আর খাঁন রবিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এমনিতেই কারাগারগুলোতে দ্বিগুণের বেশি বন্দি থাকেন। চিকিৎসক স্বল্পতায় তাদের চিকিৎসা সেবা এতদিন মারাত্মকভাবে বিঘিœত হচ্ছিল। হাইকোর্টের এ আদেশের ফলে কারাবন্দিদের চিকিৎসা দুর্দশা লাঘব হবে। চিকিৎসাসেবার মান কিছুটা হলেও বাড়বে।’

কারা হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্তসংখ্যক চিকিৎসক ও মানসম্মত কারাবাসের নির্দেশনা চেয়ে ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে হাইকোর্টে এই রিট আবেদনটি করা হয়। প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ওই বছরের ২৩ জুন কারাগারগুলোতে বন্দি ধারণ ক্ষমতা, বর্তমানে থাকা বন্দির সংখ্যা ও তাদের চিকিৎসাসেবায় কতজন চিকিৎসক রয়েছেন এবং চিকিৎসকের কতটি পদ শূন্য রয়েছে তা জানতে চেয়েছিল হাইকোর্ট। একই সঙ্গে কারাবন্দিদের মানসম্মত থাকার জায়গা নিশ্চিতে এবং চিকিৎসকের শূন্য পদে নিয়োগ দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা ও ব্যর্থতা প্রশ্নে রুল জারি করে আদালত।

হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী গত বছরের ৪ নভেম্বর কারা কর্র্তৃপক্ষের দাখিল করা প্রতিবেদনে জানানো হয়, দেশে ৬৮টি কারাগারে চিকিৎসকদের ১৪১টি পদের বিপরীতে মাত্র ৯ জন রয়েছেন। আর বন্দি রয়েছেন প্রায় ৮৭ হাজার। যা ধারণক্ষমতার দ্বিগুণের বেশি।

প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, ২০১৮ সালের ২৮ জানুয়ারি ২০ চিকিৎসককে বিভিন্ন কারাগারে নিয়োগ দেওয়া হলেও স্বাস্থ্য বিভাগ ১৬ জনের পদায়ন নিশ্চিত করেনি। এ নিয়ে অসংখ্যবার চিঠি দেয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পরে এই ১৬ জনের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে ব্যবস্থা নিতেও চিঠি দেওয়া হয়।

গতকাল শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা কারা অধিদপ্তরের প্রতিবেদনের বরাতে জানায়, যোগ না দেওয়া ১৬ চিকিৎসকের মধ্যে ৫ জন শিক্ষাকালীন ছুটিতে ছিলেন। আর ১১ জনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা  হয়েছে। এছাড়া আগে থেকে ৫ জন কাজ করছেন এবং সম্প্রতি আরও ১৫ জনকে বিভিন্ন কারা হাসপাতালে সংযুক্ত করা হয়েছে। ১৪১ কারা চিকিৎসকের মধ্যে এখন ১১৭টি পদ শূন্য রয়েছে বলে জানায় রাষ্ট্রপক্ষ। এরপর শুনানি শেষে হাইকোর্টের এ আদেশ আসে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত