পোলিং এজেন্টকে কুপিয়ে হত্যা: ‘আমার ছেলে হত্যার বিচার চাই’

আপডেট : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১২:৫২ এএম

‘ছেলেটার কী দোষ ছিল। সারাদিন লালমাটিয়া মহিলা কলেজের কেন্দ্রে নৌকা আর ঠেলাগাড়ির জন্য কাজ করেছে। বিকেলে বাসায় আইসা নাশতা খাইয়া গেছে আড্ডা দিতে। ‍সুস্থ সবল ছেলেকে আমি আর বুকে ফিরে পাইনি। হারলেও ওরা জিতলেও ওরা। কিন্তু বুক খালি করল আমার। আমি এ হত্যার বিচার চাই।’

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের রায়েরবাজার এলাকায় গত শনিবার ভোটের রাতে কুপিয়ে হত্যা করা হয় সুমন শিকদার (২৪) নামে এক যুবককে। রবিবার সুমনের মা ঝুমুর বেগম এভাবেই আহাজারি করছিলেন।

সুমন ঢাকা দক্ষিণ সিটির ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের নবনির্বাচিত কাউন্সিলর সৈয়দ হাসান নূর ইসলাম রাষ্টনের লালমাটিয়া মহিলা কলেজ কেন্দ্রের পোলিং এজেন্ট ছিলেন। শনিবার ভোটের রাতে মুখোশধারী বেশ কয়েক যুবক তাকে কুপিয়ে হত্যা করে। সুমন শিকদারের বাবা আনোয়ার আহমেদ শিকদার লালমাটিয়ার এফ ব্লকের ৪/২ ভবনের কেয়ারটেকার। সেই ভবনের নিচতলায় মা-বাবার সঙ্গেই থাকত সুমন। তাদের গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতিতে।

মোহাম্মদপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. হারুন বলেন, সুমন হত্যায় জড়িতদের শনাক্তে ঘটনাস্থলের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে রাতে মোবাইল ফোনে সুমনের ভাই দেশ রূপান্তরকে বলেন, তারা অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেছেন।

রবিবার ওই বাসায় গিয়ে দেখা যায়, উপার্জনক্ষম সন্তান হারানোর শোকে শয্যাশায়ী মা ঝুমুর বেগম। দুই বোন সুইটি ও সুবর্ণা মায়ের পাশেই বসে আছেন।

বোন সুবর্ণা বলেন, নৌকা প্রতীকের নির্বাচনী প্রচারে সক্রিয় ছিল সুমন। সারাদিন কাটিয়েছে লালমাটিয়া মহিলা কলেজে। ভোট শেষ হওয়ার পর বাসায় এসে নাশতা খায়। এরপর একটা কল আসে। ওই কল পেয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে যায় আমার ভাই সুমন। আর ফেরেনি। রাত ১০টার দিকে খবর পেয়ে আমরা সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে গিয়ে দেখি স্ট্রেচারে রক্তাক্ত নিথর শুয়ে আছে সুমন।

মা ঝুমুর বিলাপ করতে করতে বলেন, ‘রাত ৯টার দিকে খুনের ঘটনা ঘটছে। ছেলেডারে কোপাইছে। আমি খুনের বিচার পাই। আমার ছেলের মতো ছেলে হয় না। এই মহল্লায় সবাই ওরে চেনে জানে। আমার সন্তানের মতো করে আর কোনো মায়ের বুক যেন খালি না হয়।’

প্রত্যক্ষদর্শী নিহত সুমনের বন্ধু সাজ্জাদ জানান, ‌‘আমি, সুমন, রুবেল, আলামিন, ইমরান (মেসি) ও ইমরানসহ ছয়জন মোহাম্মদপুরের রায়েরবাজারের রহিম ব্যাপারী ঘাটে দাঁড়িয়ে কথা বলছিলাম। হঠাৎ বেশ কয়েক যুবক এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। এতে সুমন আহত হলে আমরা তাকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাই। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হামলাকারী সবার মুখে মাস্ক পরা থাকায় কাউকে চিনতে পারিনি।’

সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. প্রবাহ বিশ্বাস বলেন, ‌‘হাসপাতালে আনার আগেই সুমনের মৃত্যু হয়েছে। বুকের ডান পাশের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তার মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া তার পেটে, পা ও পিঠসহ শরীরে বেশ কয়েকটি জায়গায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।’

এদিকে সুমনের হত্যাকারীদের দৃষ্ঠান্তমূলক শাস্তি দাবি করে মোহাম্মদপুর কাটাসুর রহিম ব্যাপারীঘাটে শাহ আলমের ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী ও সুমনের পরিবারের লোকজন। তারা সুমন হত্যার তীব্র  নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায়।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত