অমর একুশে বইমেলায় বের হয়েছে অনুপম দেবাশীষ রায়ের প্রথম উপন্যাস ‘অব্যয়া’। ফ্রানজ কাফকার বিখ্যাত গল্প মেটামরফসিসের ভাবনায় কাহিনি গড়ে উঠেছে উপন্যাসটিতে।
বইটি প্রকাশ করেছে পেন্ডুলাম। প্রচ্ছদ মালবিকা দীপান্বিতা রায়।
অব্যয়া প্রসঙ্গে অনুপম দেবাশীষ রায় বলেন, “উপন্যাসটি লেখা শুরু করি আজ থেকে পাঁচ বছর আগে, ফ্রানজ কাফকার মেটামরফসিসের ভাষান্তর করতে গিয়ে। এই কাজ শুরু করতে গিয়ে মনে হলো, আচ্ছা, গ্রেগর সামসা জার্মান সেলসম্যান না হয়ে একজন বাঙালি মেয়ে হলে কী হতো? তার যুবতী থেকে স্ত্রীর ভূমিকায় রূপান্তর হওয়ার গল্পটা কেমন হতো? তখনই ‘রূপান্তর’ নামে গল্পটা লেখা শুরু, যেটা পরে বাড়তে বাড়তে পাঁচ বছর বয়সে এসে ঠিক উলটে ‘অব্যয়া’ হয়ে দাঁড়ায়। তবে সমগ্র উপন্যাসটিই এক সদ্য বিবাহিতা শক্তিমান নারীর স্ত্রী হয়ে ওঠা, স্ত্রীত্বে পারদর্শী তার মা এবং তার শক্তিমান রূপকে আদর্শ ভেবে বড় হওয়া তার ছোটবোনের মধ্যকার রূপান্তর-অরূপান্তরের দ্বন্দ্বের মধ্যে দিয়ে গড়ে উঠেছে। যে জীবনাচরণের গল্প বলার চেষ্টা করেছি তাতে কাফকায়েস্ক উপাদান থাকার কথা, তবে সেটি কতটা ফুটে উঠেছে, জানি না।”
তিনি আরও বলেন, “বাংলায় আমার প্রিয় লেখক জহির রায়হান। তার লেখনধারার অবদান রয়ে যাবে। সঙ্গে শিক্ষিকা গায়ত্রী চক্রবর্তী স্পিভাকের ক্লাস, পরবর্তীতে তার লেখালেখি পড়েশুনে এসে কিছু অংশ লিখেছি বলে তার কিছু প্রভাবও থাকবে আশা করি। এমন গুণীজনদের প্রভাব আমার লেখায় ফুটে উঠলে তাতে আমি দারুণ আনন্দিতই হব, তাই ঋণ স্বীকারে কার্পণ্য নেই। কেবল তাদের প্রতি যেন অবিচার করে না থাকি, সেই আশা রাখি।”
অনুপমের জন্ম ও বেড়ে ওঠা চট্টগ্রামে। যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি ডিগ্রি নিয়েছেন। ঢাকায় একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন। কিছুদিন যুক্ত ছিলেন সাংবাদিকতার সঙ্গে। রাজনৈতিক সচেতনতা থেকে গড়ে তুলেছেন মুক্তি ফোরাম নামে একটি সংগঠন। ইতিমধ্যে বলিষ্ঠ রাজনৈতিক কণ্ঠস্বর হিসেবে তরুণ সমাজে পরিচিত হয়ে উঠেছেন অনুপম।
